ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

আড়াইশত বছরের শোষণ নিপীড়ন শেষে ভঙ্গুর অর্থনীতির একটি দেশ আজ স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পেড়িয়ে এসে যেখানটায় দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার স্বাপ্নিক সৈনিকদের তা হয়ত কিছুটা আশাহত করে সত্য কিন্তু এটাও তো ঠিক সারে সাত কোটির স্থলে আজ প্রায় আঠারো কোটি জনসংখ্যার এই দেশ ক্রমশই এগিয়ে যাচ্ছে, দেশি-বিদেশি যুগপৎ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেও। আমাদের খাদ্য উৎপাদনে ইর্ষনীয় সাফল্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বর্তমান সূচক কি একেবারেই হতাশাজনক?

আজকের বাংলাদেশের বিনির্মাণে যেসব প্রথিতযশা রূপকারগন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন তারা আপন আলোয় উদ্ভাসিত। সেসব কীর্তিমানদের জানাই বিনীত অভিবাদন। তাদের কৃতিত্বকে স্বীকার করে নিয়েই পাদ প্রদীপের আলোয় না আশা, প্রচারবিমূখ বিশাল সংখ্যার এ দেশের মাটির মানুষেরাই এই আলোচনার প্রাণ। যারা নীরবে নিভৃতে এ দেশকে, এ দেশের মানুষকে ভালবেসে। মানুষের সেবায় কাটিয়ে দিয়েছেন/দিচ্ছেন জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে আসতে যাদের অবদান অনস্বীকার্য। সুখী সমৃদ্ধ আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়তে তারাই আজকের প্রজন্মকে যোগাবে সাহস, হবে প্রেরণার উৎস। শেখাবে কি করে সাধারন মানুষগুলি আপন আলোয় আলোকিত করে চারিপাশ। হয়ে ওঠেন অসাধারণ। আসুন আমরা এইসব মহৎপ্রাণ সংগ্রামী দেশপ্রেমিক, মানবতাবাদীদের জানাই বিনীত অভিবাদন।

**** গত কয়েক বছর যাবত বাংলাদেশে যে সংকটটি সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে সেটি হল জ্বালানী সংকট। আমরা সাধারণ মানুষ যখন হা পিত্যেস করে মরেছি। ভেবে অস্থির হয়েছি এ সংকট নিয়ে। ঠিক তখনই অতি আকাঙ্ক্ষিত এক সুসংবাদ দিল বাপেক্স। আমরা হাঁপ ছেরে বাঁচলাম। কেউ কি একবার জানতে চেয়েছি এই সাফল্যের কারিগর কারা। আসুন জানার চেষ্টা করি।
একদল তরুণ পেশাজীবী তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দেশে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারী ত্রিশোর্ধ এই তরুণ দল রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্সের কর্মকর্তা ও ভূকম্পন জরিপ দলের সদস্য। তাঁরাই মৌলভীবাজারের রশীদপুর গ্যাসক্ষেত্রে ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ পরিচালনা করছেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জরিপের মাধ্যমে বাপেক্সের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হচ্ছে। কারণ, এ কাজের জন্য যে প্রযুক্তি ও দক্ষতা দরকার, তা আন্তর্জাতিক মানের। এর মাধ্যমে বাপেক্স স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের উচ্চমান ও সামর্থ্য অর্জন করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব ক্ষেত্রের বিশেষ কোনও অর্জন দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সম্মানের আসনে বসাতে পারে, ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ এর একটি। এ দেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ১০০ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় কোম্পানির পরিচালিত ত্রিমাত্রিক জরিপ এই প্রথম। বাপেক্সের ওই অনুসন্ধানী দল দেশের বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর প্রকৃত মজুদের চিত্র আরও সুনির্দিষ্টভাবে তুলে আনতে পারবে। এরপর দেশের স্থলভাগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিদেশি কোম্পানির দরকার হবে না। বরং বিদেশি কোম্পানির হয়েও বাপেক্সই ত্রিমাত্রিক জরিপ করে দিতে পারবে।

এই জরিপ দলের ‘পার্টি চিফ’ মেহেরুল হোসেন ১৯৯৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার পর বিদেশি কোম্পানিতে (আইওসি) কাজ শুরু করেন এবং আইওসি’র পরিচালিত চারটি ত্রিমাত্রিক জরিপে অংশ নেন। তিনি আইওসি’র চাকরি ছেড়ে দেশীয় কোম্পানিতে যোগ দেন এই দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি আনার প্রত্যয়ে। মেহেরুলের নেতৃত্বাধীন জরিপ দলের সদস্যরা স্বপ্ন দেখেন তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দেশকে স্বয়ম্ভর করে তোলা। শুধু স্থলভাগে নয়, তাঁরা সমুদ্র বক্ষেও ত্রিমাত্রিক জরিপ চালানোর স্বপ্ন দেখেন। রশীদপুরে জরিপের কাজ শেষ পর্যায়ে। এরপর জরিপ শুরু হবে সিলেটের কৈলাসটিলা ক্ষেত্রে। চলতি শুকনো মৌসুমের মধ্যেই যাতে কৈলাসটিলার জরিপও শেষ করা যায়, সেই লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্য যে, একটি মৌসুমে দুটি ক্ষেত্রের জরিপ শেষ করতে পারলে তা হবে আরেকটি নতুন ইতিহাস। আমরা এই অদম্য সূর্য্য সন্তানদের সাফল্য কামনা করছি।

**** বাংলাদেশের সফল জিন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের পর এবার পাটসহ বিশ্বের ৫০০টি উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচন করলেন তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশি বিজ্ঞানীরা। এই মহৎপ্রাণ নিভৃতচারী মানুষটির কাছে যখন জানতে চাওয়া হল যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া সত্যেও এবং এত সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে দেশের জিনোম গবেষণায় নতুন প্রজন্ম তৈরি করতে দেশে আসবেন কিনা। তিনি উত্তরে বলেন “সন্তান যত বড়ই হোক, সে কি মাকে ছেড়ে থাকতে পারে। দেশটা তো মায়েরই মতো। এখানে আমার জন্ম। শিক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনে আমি বিশ্বের অনেক দেশে গিয়েছি। কিন্তু আমি কখনো দেশকে ভুলে থাকতে পারি না”।

“আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতাগুলো অর্জন করেছি তার নির্যাস আমি আমার মাতৃভূমিকে দিতে চাই। আমি যে গবেষক দল তৈরি করেছি তাদের নিয়ে আমি আরও নতুন নতুন গবেষণা ও গবেষক তৈরি করতে চাই। সুযোগ ও কাজের পরিবেশ পেলে যে অনেক কিছু সম্ভব তা আমাদের গবেষকেরা প্রমাণ করে দিয়েছেন। এখানেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। এদের নিয়েই আমরা চলুন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি। আসুন দেশকে মায়ের মতোই ভালোবাসি”।

****মোঃ জয়নাল আবেদিন। একজন অক্ষরজ্ঞানহীন রিকশাচালক রোদ, বৃষ্টি, ঝর কোন কিছুই পারেনা টলাতে। ষাট বছরের বয়সের ভার, শারীরিক দুর্বলতা, দারিদ্রের নিষ্পেষণ। না কোনকিছুই তাকে পারে না লক্ষ্যচ্যুত করতে।

রিকশার প্যাডেলের সাথে তার মহৎ স্বপ্নগুলো বাধা। যা তাকে লক্ষ্যচ্যুত হতে দেয় না। তিনি রিকশার সাথে টেনে নিয়ে যান তাঁর স্বপ্ন। জয়নাল যখন রিকশা টানার কষ্টে কাতর তখন তাঁর এই কষ্টের টাকায় গড়া হাসপাতালে গরিব রোগীরা ফেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ।

যখন কোন এক সকালে কোন ছোট্ট শিশুকে তার রিকশায় করে স্কুলে পৌঁছে দেন তখন অন্তরের চোখ মেলে দেখেন তাঁর গড়া বিদ্যালয়ের শিশুদের আনন্দ কোলাহল। তিনি এক পুরুষোত্তম জয়নাল। শুধু রিকশা চালিয়ে নিজ গ্রামে একটি হাসপাতাল করেছেন। গড়েছেন একটি বিদ্যালয়। চালাচ্ছেন মক্তব। ছোট তাঁর সেই হাসপাতালে ছয়টি শয্যা আছে। আছেন একজন সার্বক্ষণিক পল্লি চিকিৎসক। সপ্তাহে এক দিন সরকারি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক এসে রোগী দেখেন।

২০ বছরের জীবন নিঙড়ানো তিল তিল করে জমানো এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা দিয়ে তিনি স্বপ্নের বীজ বোনেন। গ্রামের বাড়ির কাছে ৪০ হাজার টাকায় ২৪ শতাংশ জমি কেনেন। নতুন কেনা জমিতে দোতলার ভিত্তি দিয়ে একটি বড় আধপাকা ঘর তৈরি করে মেয়ের নামে হাসপাতালের নাম দিলেন ‘মমতাজ হাসপাতাল’।

জয়নাল তাঁর ক্ষুদ্র সামর্থ্য দিয়ে যেভাবে তিন দশক ধরে লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে চলেছেন তার এই মাহাত্ম্য কি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব? হাসপাতালের পল্লী চিকিৎসক মোঃ. আলী হোসেন, বারান্দায় টেবিল পেতে রোগী দেখেন। পাশে বসে খাতায় রোগীর নাম-পরিচয় লেখে জয়নালের নাতনি মমতাজের মেয়ে দশম শ্রেণীর ছাত্রী আল্পনা। জয়নালের পুত্রবধূ এসএসসি পাস তামান্না ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বিনা মূল্যে ওষুধ দেন রোগীদের। নার্স এর কাজটি করেন জয়নালের স্ত্রী লাল বানু।

এই হাসপাতাল ও বিদ্যালয়ের ব্যয় নির্বাহ করতে এই বয়সেও জয়নাল প্রতিদিন দুই বেলা রিকশা চালান। প্রতিদিন ৫০০-৭০০ টাকা পান। সপ্তাহে তিন-চার দিন রিকশা চালিয়ে যা আয় হয় তার সিংহভাগ দিয়ে ওষুধ কিনেন হাসপাতালের জন্য। বাকি টাকায় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে বাড়ি ফেরেন। দিন দুয়েক বাড়িতে থেকে আবার ছোটেন ঢাকায়। এভাবে চলছে জয়নাল ও তার স্বপ্নের অগ্রযাত্রা।

**** মঙ্গা পীড়িত উত্তরাঞ্চলের কৃষকের দুর্দশার কথা কে না জানে? কোন যাদুর কাঠির ছোঁয়ায় চিরচেনা দুর্ভিক্ষের চিত্র পালটে কৃষকের ঘরে আগাম নবান্নের উৎসব শুরু হল! মাত্র তিন বছর আগেও চিরায়ত পদ্ধতিতে বোনা আমন ধান কার্তিকের মঙ্গা আর দীর্ঘ উপবাস শেষে কৃষকের ঘরে উঠত। সে সময় কাজের খোঁজে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়তেন লাখ লাখ কৃষি শ্রমিক। এখন সেই কষ্টের দিন শেষ হয়েছে। আগাম জাতের বিনা-৭ ও ব্রি-৩৩ ধান বদলে দিয়েছে উত্তরাঞ্চলের চিরচেনা মঙ্গা আর দুর্ভিক্ষের চিত্র।

‘মঙ্গা ও খরা প্রবণ রংপুর অঞ্চলের মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য যুগান্তকারী দুটি জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশেরই দুটি প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট উদ্ভাবন করেছে বিনা-৭ ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট করেছে ব্রি-৩৩ জাতের ধান। আশ্বিন ও কার্তিক মাসে রংপুর বিভাগের আট জেলায় লাখো কৃষি শ্রমিকের হাতে কোনও কাজ থাকত না। এখন আর সে অবস্থা নেই। চিরচেনা সংকটময় সময় এখন তারা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ পাচ্ছে।‘ ফলনের মাত্রাও বেশ ভালো। এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক লাখ ৩০ হাজার টন ধান বেশি উৎপাদন হবে। এ অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পরও সাত লাখ টন ধান উদ্বৃত্ত থাকবে।

তিন বছর আগেও যে সময়ে গ্রামে কোনও কাজ থাকত না অর্ধাহার-অনাহারে কাটত দিন। কাজের খোঁজে লোকজন পাড়ি জমাত ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো শহর গুলোয়। এখন আর সেই দিন নেই। আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হওয়ায় গ্রামে কাজের অভাব নেই, মঙ্গাও নেই। কি বলে অভিবাদন জানাবেন (বিনা-৭ ও ব্রি-৩৩) ধান উদ্ভাবক, দেশের এই মহান সন্তানদের?

আসুন আরেকটি সাফল্য গাথা শুনিঃ

যখন মানুষ স্বার্থের মোহে প্রতারণার ফাঁদ পাততে ব্যস্ত। যখন আমরা একে অন্যকে সর্বস্বান্ত করার অমানবিক প্রয়াসে লিপ্ত ঠিক তখন যদি দেখতে পাই মানুষের বিপদে ছুটে যেতে, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে, চারপাশের মানুষের অবস্থার উন্নয়নে ব্যাপৃত কয়েকজন তরুণ নিরলস প্রচেষ্টারত। তখন তাদেরকে মানুষ না দেবদূত বলে সম্বোধন করব সে দ্বিধা নিশ্চয়ই অস্বাভাবিক নয়? স্বপ্নের দেশ গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী এক স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে নিবেদিত রৌমারীর প্রত্যন্ত গ্রামের ১৩ বন্ধুর একটি দল। চারপাশের যত ক্লেদ, যত গ্লানি মুছে দিয়ে অন্য রকম এক দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তাঁরা সতত নিয়োজিত কল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে।

আমার কাছে যারা দেবদূত:

• আলমগীর হোসেন (বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত),

• শফিকুল ইসলাম (শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ),

• বজলুর রশীদ দুলাল (শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),

• জিয়াউর রহমান (শিক্ষক),

• রায়হানুল ইসলাম (শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়),

• মাইদুল ইসলাম (প্রবাসী),

• আবদুর রহমান (প্রবাসী),

• নুর আলম (শিক্ষার্থী, রৌমারী ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়),

• আনারুল ইসলাম (শিক্ষার্থী, কৃষি ডিপ্লোমা),

• ইসলাম উদ্দিন (ব্যবসায়ী),

• ছাইদুর রহমান (শিক্ষার্থী, টঙ্গী সরকারি কলেজ),

• সিরাজুল ইসলাম (শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),

• আসাদুজ্জামান (শিক্ষার্থী, করটিয়া সা‘দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ)।

এই তরুণদের বাড়ি রৌমারী উপজেলার চতলাকান্দা, ওকড়াকান্দা, বাউসমারী, শৌলমারী ও বোয়ালমারী গ্রামে।

একদা ১৩ বন্ধু একমত হন, নিজেরা জীবনে কখনো ধূমপান করবেন না এবং প্রতি মাসে ধূমপানের পেছনে যে টাকা ব্যয় হয়, সেই টাকা দিয়ে গ্রামের অভাবী মানুষের জন্য কিছু কাজ করবেন। তারা শপথ নিলেন। শুরু হল নতুন অধ্যায়। ২০০৬ সালের ১ জুন। ১৩ বন্ধু গ্রামের নামের অদক্ষর নিয়ে গঠন করেন কোবসা নামের একটি সংগঠন।

কোবসা যা যা করেঃ

· গ্রামের হত দরিদ্র পরিবারের কোনও মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা,

· অভাবী ঘরের শিশুদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া এবং ঝরে না পড়া নিশ্চিত করা

· অভিভাবকদের সচেতন করে তোলা।

· গ্রামবাসীকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করা, বিনা মূল্যে গাছের চারা বিতরণ।

· বাল্যবিবাহ ও যৌতুক বন্ধে গ্রামের মানুষকে উৎসাহিত করন।

· স্বাস্থ্য সচেতন তৈরি এবং স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা নির্মাণের খরচ জোগাতে সাহায্য করা।

ফলাফলঃ

· কোবসা’র কারণে গ্রামের ঘরে ঘরে পাকা পায়খানা,

· বাড়িতে বাড়িতে নানা প্রজাতির গাছ শোভা পাচ্ছে।

· তাদের আওতাভুক্ত গ্রামগুলোতে বিগত পাঁচ বছরে কোনও বাল্যবিবাহ বা যৌতুক দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

· কোবসা’র কারণে তাদের আওতাভুক্ত গ্রামগুলোতে স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা নেই বললেই চলে। উপজেলার মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

সংগঠনটির সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা ১৩ বন্ধু প্রায় সমবয়সী। একেকজন একেক স্থানে লেখাপড়া, চাকরি বা ব্যবসা করলেও আমাদের সংগঠনটি অটুট থাকবে। এ শপথ আমরা শুরুতেই নিয়েছি। সংগঠনের কাজই হল অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আর্ত মানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকা।

আমরা এদের কাছে দীক্ষা নিতেই পারি। শুধুমাত্র নিজেকে নিয়ে ব্যাপৃত থাকা মানুষের জীবনের লক্ষ হতে পারে না । মানুষ কখনো একা বাঁচতে পারে না। যে সমাজকে অবলম্বন করে সে বাঁচে তার প্রতি তার দায়বদ্ধতাও কম নয়। কেউ পালন করে, কেউ করে না। যারা এই স্বার্থপরের জীবন বেছে নেন। ইতিহাস তার জন্য কোন স্থান বরাদ্দ করে রাখে না। অন্যান্য জীব জন্তুর মতই তার প্রস্থান। তা কতই না অসম্মানের। আমার মৃত্যু যদি কাউকে আহতই না করল। তাহলে সে জীবনের মূল্যই বা কি?

kmgmehadi@yahoo.com

তথ্যসূত্রঃ প্রথম আলো, দৈনিক কালের কন্ঠ।

http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=29-1…
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-07-02/news/167066
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2011-01-22/news/125410
http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=15-1.