ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আমরা কতটা বেকুব আসুন একটু আত্নসমালোচনা করি।

মাঝে মাঝেই শোনা যায় স্বল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ, তিনগুণ করতে গিয়ে সব হারিয়ে হায় হায় করছে মানুষ। বাংলাদেশের সরকারী/বেসরকারি ব্যাংক গুলোর দেয়া লভ্যাংশের কয়েকগুণ লাভ যারা দিতে চান। তারা কোথা থেকে তা দিবেন। আর তাছাড়া ৫০০/- টাকা খরচ করলে মানি রিসিপ্ট বানানো যায়। ২০,০০০/- জামানতে ছোট খাট অফিস ঘর ভাড়া পাওয়া যায়। আর অনুমোদন? তা তো আছেই। বৈধ নয়া অবৈ্ধ সে খোজ কয়ে রাখে। এই যেখানে অবস্থা। সেখানে আপনার টাকার নিরাপত্তা কে দিবে? এই সাধারণ বিচার বুদ্ধি যাদের লোপ পায় তাদের বেকুব বলব না লোভি তাও আলোচনার বিষয়।

আপনি ক্লিক করলেই আপনার একাউন্টে ডলার জমা হতে থাকবে। এতো টাকার গাছের মত, ঝাঁকি দিলেই ঝরঝর করে পড়বে। কি করে মানুষ এ গুলো বিশ্বাস করে? এটা সরলপ্রাণের ফলে নয় বরং লোভে অন্ধ হলে যা হয়।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে(পঙ্গু হাসপাতাল) হাতের আঙ্গুল কেটে যাওয়া এক রোগীকে পাঠান হল কুষ্টিয়া থেকে। ডাক্তার বলে দিয়েছেন পঙ্গু হাসপাতাল ছাড়া এর সুচিকিৎসা সম্ভব নয়। সেই রোগীকে দালালের পরামর্শে নিয়ে আসা হয় উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে। তারপরে নিদারুণ পরিণতি আর নাই বললাম।

একটি পণ্যের উৎপাদকের কাছ থেকে ভোক্তার হাত পর্যন্ত পৌছাতে কত % পর্যন্ত লাভ হতে পারে তা এই দুর্মূল্যের বাজারে, চরম প্রতিযোগীতাপূর্ন সময়ে সহজেই অনুমেয়। যা বোঝা দুঃসাধ্য তাহল, কি করে এই স্বল্প লাভের শিকর বাকর গজাতে পারে। যদিও এ দেশীয় মাল্টি লেভেলের প্রবক্তা ও এর পরিবেশকরা এটা ভালভাবেই বোঝাতে সক্ষম হন। কিভাবে সক্ষম হন সে উত্তর তো জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রফিক-উল হক বলেই দিয়েছেন।

আমরা এখন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী, কাপড়, জুতা, ঘড়ি, প্রসাধনী এমনকি ঔষধ পর্যন্ত ফুটপাত থেকে কিনতে শুরু করেছি। বাসার কর্ত্রী হারপিকের বোতল থেকে শুরু করে শ্যাম্পুর খালি বোতল পর্যন্ত সযত্নে জমিয়ে রেখে বিক্রি করেন। খবরই নেই এই খালি বোতলই রি প্যাক(ভ্যাজাল) হয়ে তারই অন্দরমহলে প্রবেশ করছে।

সারা দেশে কয়েক লক্ষ ধোঁকাবাজ চিকিৎসক(!) রয়েছে এরা রাস্তার ফুটপাতে, বিভিন্ন লোকালয়ে, বাজারে পড়ন্ত বেলায় একটি ছোট হ্যান্ড মাইক নিয়ে বসে।

কোন রোগের ঔষধ আপনি চান?

স্বল্পমূল্যে, এমনকি উৎপাদন খরচে তারা আপনাকে এই সব ঔষধ সরবরাহ করবেন। কেউ স্বপ্ন যোগে পেয়েছেন, কেউ কয়েক পুরুষের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানে এই সব ধন্বন্তরি ঔষধের প্রস্তুতকারী হয়েছেন। এদের মূলমন্ত্র হল মানব সেবা(!)। মহামানব আর কি। আমরা অহরহই কিনছি প্রতারিত হচ্ছি। আবারও কিনছি। কারণ প্রতারিত হতে ভাল লাগে!!

ঢাকার রাস্তায় পাগল বাবারা হেটে বেড়ান। মানুষ যে কতটা নোংরা হতে পারে তা এই বাবাদের না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। তাজ্জব ব্যাপার, বাবা হাঁটছেন তো হাঁটছেনই তাঁর পেছনে দলবেঁধে হাঁটছেন একদল নারী পুরুষ। বাবা নাকি তাদের উদ্ধার করবেন!

আমার বাসায় যাবার পথে ভাঙ্গা একটি কবর। অযত্নে অবহেলায় পড়েছিল অনেকদিন। হঠাৎই একদিন দেখলাম এর পরিচর্যা শুরু হয়েছে। যথারীতি ঝালর ওয়ালা লালসালু টানানো হয়েছে। সেইসাথে দানবাক্স। যদিও এখনো ততটা জমে ওঠেনি। তবে অচিরেই যে জমে উঠবে তাতে সন্দেহ নেই।

পাথর বদলে দেয় ভাগ্য, পাখি পথনির্দেশ করে ভবিষ্যতের। ভন্ডামিও মাত্রা ছাড়ায় যখন সহজেই বেকুবের দল এসে ধরা দেয়।

আমরা আজো ভোট দেই বঙ্গবন্ধুকে, আমরা ভোট দেই জিয়াউর রহমানকে। একটিবার চিন্তাও করি না যারা তাদের নামে ভোট গ্রহণ করছেন তারা সত্যিই কতটা তাদের আদর্শ ধারণ করেন। একবার চোখ মেলে দেখি না যার মাধ্যমে এই সমর্থন দিলাম তিনি তা গ্রহণে কতটা যোগ্য। বা আদৌ আমি তাকে পছন্দ করি কিনা।

আমাদের এই অসচেতনতা এই লোভ এটা নতুন কিছু নয় আর একে পুজি করেই প্রতারকরা নেয় নতুন কৌশলের আশ্রয়। তাদের নিত্য নতুন কৌশলে আমরা অহরহ হই প্রতারিত। সৃষ্টিকর্তা মগজ বলে একটি বস্তু তো দিয়েছেন। আমরা যদি তা ব্যাবহারই না করি। তাহলে সে দোষটা কার। বেআক্কেলের বেকুব বনে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তরই বা কি?