ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে এ দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত মহামান্য রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত শৃঙ্খলিত। একই আইনের আওতায় সবাই। এই আইনে বিচার প্রার্থী দেশের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মুটে-মজুর। এই আইনেই বিচার চলে সবার। কারো দণ্ড হয়, কেউ বেকসুর খালাস পেয়ে যান। নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে বিচার প্রার্থী যান উচ্চ আদালতে। প্রয়োজনে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। এই বিচার নিয়ে সন্তোষটি অসন্তুষ্টি উভয়ই আছে। পক্ষে–বিপক্ষে কথা শোনা যায়। কিন্তু কেউ কখনো এই বিচার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেননি। এমনকি এ দেশের প্রধান তিনটি দল বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় ছিলেন। এই একই আইনে সকলের সময়ই বিচার কার্য্য পরিচালিত হয়েছে। কেউ কখনো বিচার ব্যবস্থার উপর অনাস্থা জ্ঞাপন করেননি। এমনকি মাননীয় বিরোধী দলের নেত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে তিনি বা তাঁর দলের কোন নেতা আজো বলেননি এই মামলার বিচার দেশের প্রচলিত আইনে করা যাবে না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী করতে হবে। অথচ তারা আজ মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের মান নিয়ে কথা বলছেন। তাহলে কি তাদের কাছে কে উপরে? তারা কি এই অভিযুক্তদের মহামানবের কাতারে উন্নীত করতে চাইছেন? না কি তারও উপরে?

আমার দেশের বিরুদ্ধে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংগঠিত হয়েছে তাঁর বিচার এ দেশের মাটিতে হবে। এ দেশের প্রচলিত আইনে হবে। এ দেশের মানুষই এ বিচার করবে এটাই তো স্বাভাবিক। এর বিরুদ্ধে কথা বলা কি আদালত অবমাননা নয়? এই অভিযুক্তদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা এবং বাধাদানকারীদের সহযোগিতা বা সমর্থন যোগান কি দেশদ্রোহিতার সামিল নয়?
শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে এদের পক্ষাবলম্বন কি অনৈতিক নয়?

তারপরেও তারা দেশপ্রেমিক! তারা আমাদের নেতা। আমরা তাদের নির্দেশে কত সহজেই মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারি। পিটিয়ে মেরে ফেলি তরতাজা তরুণ প্রাণ। গণতন্ত্র আনতে বুকে পিঠে লেখিয়ে নিব “গণতন্ত্র মুক্তি পাক” তারপরে ঝাঁঝরা করে দেব তাঁর বুক। তবেই না ফিরবে গণতন্ত্র। আর কত নুর হোসেন প্রয়োজন? সময় নাকি তাও নির্ধারণ করে দেয় এ দেশে। আমরা সাধারণেরা এক মুহূর্তে হয়ে যাই অসাধারণ একটি প্রয়োজনীয় মৃত্যুর মধ্য হতে। আমরা যে কেউ যে কোন সময় হয়ে যাই কোন এক নূর হোসেন। এ কোন অবিবেচনাপ্রসূত নির্বোধের জীবন আমাদের?

kmgmehadi@yahoo.com