ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী মা-ই তো রইলেন, দেশনেত্রী হলেন কই? আপনি বললেন। “ আমরা দেশ থেকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গি দূর করব”। খুবই ভাল কথা। সেই সাথে যদি এও বলতেন নিজের ছেলে হওয়া সত্ত্বেও তারেক রহমানকে পর্যন্ত বিচারের কাঠগড়ায় দার করাব। জামায়াতের সাথে সম্পর্কের ইতি টানলাম। তবেই না ভরসা পেতাম আমরা। উলটো তারেক রহমানকে বানালেন ডিজিটালের স্বপ্নদ্রষ্টা! আবিষ্কার করলেন আওয়ামীলীগের ঘরে ঘরে জঙ্গি। ক্ষমতায় থাকতে পাকরাও করলেন না কেন? অনেক বেশি বৈপরীত্য হয়ে গেল যে।

মানুষের তো ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি যে স্বীকারই করতে চাইছেন না আপনার ছেলে কোন দোষ করতে পারে। মায়ের এ অন্ধ ভালবাসা মাতৃত্বকে মহিমান্বিত করে সন্দেহ নেই। কিন্তু তা দেশনেত্রী হওয়ার পথের যে প্রধান প্রতিবন্ধক। তা ভুলে গেলে চলবে কেন?

এ দেশের মানুষের প্রতিবাদের একটিই সুযোগ আর তা হল, এক দলকে বিদায় করে আরেকদলকে ক্ষমতা প্রদান। যে দল যখন নির্বাচিত হয় তা ঐ দলের প্রতি যতটা না জন সমর্থনের কারণে তার থেকে অনেক বেশি পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি বিরক্তির ফলস্বরূপ তা একবাক্যে সকলেই স্বীকার করে নিবেন। তারপরেও তো আস্থার একটি জায়গা তৈরি করে নিবেন। বাস্তবায়ন না হয় নাই করলেন নিদেন পক্ষে স্বপ্ন তো দেখাবেন?

একদিকে বলবেন জামায়াতের কর্মকাণ্ডের দায় আমরা নেব না, অন্যদিকে তাদের প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য প্রশ্রয় দিয়ে যাবেন। এটা কেমনতর কথা? কেন ভাবেন বিএনপি’র সমর্থক মানেই জামায়াতের সমর্থক?

আপনারা ক্ষমতায় গেলে দুটি পদ্মা সেতু হবে। এর থেকে ভাল খবর আর কি হতে পারে। কিন্তু কথা হল ক্ষমতায় তো ছিলেন, হলনা কেন? পুনরায় ক্ষমতায় গেলে হবে। এতটা নিশ্চিত হলেন কিভাবে? বিশ্বব্যাংক কি আপনাদের কথা দিয়েছে?

খাম্বার পড় খাম্বা দাড় করালেন বিদ্যুৎ তো দূরের কথা বিদ্যুৎ বিহীন তারও টানলেন না। যদি তাও করতেন অন্তত মানুষ দুধের সাধ ঘোলে মিটাতে পারত। দু’দুটি পদ্মা সেতুর স্বপ্ন আপনি-ই দেখাতে পারেন।

আমরা স্বপ্ন দেখতে বড় ভালবাসি। সেই সাথে আমরা নিকট অতীতকেও সহজেই ভুলে যেতে ভালবাসি। এ দু’টিই আপনার জন্য সুখবর। দুঃসংবাদ হচ্ছে। আজকাল আমরা ক্রমাগত কাণ্ডজ্ঞানহীনতা বাদ দিয়ে কাণ্ডজ্ঞানসম্পন্ন হয়ে উঠছি। আর তাঁর প্রমাণ হল চল্লিশ বছর যাবত যে মার্কায় ভোট দিয়ে এসেছি তা ছেড়ে এখন ব্যক্তি বিশেষকে ভোট দিতে শুরু করেছি। আর তাই ক্ষমতাসীনদের বিকল্প যে বিরোধী শিবির নয় তাও প্রমাণিত হয়ে গেছে। গত কয়েকটি উপনির্বাচন এবং সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সে নির্দেশনাই প্রদান করছে। আর তাই বলছি জিয়াউর রহমানের উত্তরসূরি না হয়ে তারেক রহমানকে নিজের আলোয় আলোকিত হতে বলুন। যে দাগটুকু লেগেছে আইনের আশ্রয়ে এসে তাঁর থেকে সাফশুতরো হতে বলুন। তার জন্য যেমন মঙ্গল দেশের জন্যও কম নয়। যে বিচার ব্যবস্থার কাছে আপনি ন্যায় বিচার প্রার্থনা করছেন। সেই বিচার ব্যবস্থার কাছে ছেলেকে সোপর্দ করতে বাধা কোথায়? আপনি যদি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত না হন আপনার সন্তানও নিশ্চয়ই বঞ্চিত হবেন না।

ঠিক বলেছেন “জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আমাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। এই দেশ এবং দেশের ছেলেমেয়েদের মুখে হাসি ও সুন্দর ভবিষ্যৎ দেখতে চাই”। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত মানুষের ভালবাসা, শ্রদ্ধা আদায় করে নেয়ার মত কিছু করা উচিৎ। উচিৎ সন্তানের চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখা। অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাওয়া। সুযোগ তো আছে একবার চেষ্টা করে দেখুন না।

kmgmehadi@yahoo.com