ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পিশাচ দেখেছেন?

দেখেননি?

দেখেছেন, বোধহয় লক্ষ করেননি। একজন জলজ্যান্ত মানুষকে কতগুলো মানুষরূপী দানব পিটিয়ে মেরে ফেলছে। পৈশাচিক উল্লাসে মাতছে। দেখেননি?

মানুষের থেকে বড় কোন পরিচয় মানুষের থাকতে পারে না। একজন মানুষের নিজস্ব দর্শন থাকতে পারে। তা ভুল কি সঠিক সেটা আলাদা কথা। একজন ভয়ংকর খুনিও আইনের আশ্রয় পায়। নিম্ন আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট না হলে উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ পায়। অসুস্থ হলে সরকার তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করে। অথচ সামান্য মতের অমিল হলে, ভিন্নমতাবলম্বী হলে, অভিযুক্ত মানুষটিকে সুযোগ পেলেই এই পিশাচগুলি পিটিয়ে মেরে ফেলে। দুদিন পরে হয়ত দেখব জ্যান্ত মানুষটিকে চিবিয়েই খেয়ে ফেলছে। যারা পেট্রল ঢেলে মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে তারা সবই পারে।
একজন মানুষ কারো সন্তান, কারো স্বামী, কারো বাবা একবার তার চোখে চেয়ে দেখুন অথবা সেই লোকটিকে আপনজন মেনে চিন্তা করুন। তাকে পিটিয়ে মেরা ফেলা হচ্ছে। সহ্য করতে পারবেন? এই লোকগুলোকে কি আপনার কাছে পিশাচ বলে মনে হয় না? এরা তথাকথিত শিক্ষিত (!)। এরা অনেক বড় বড় বুলি আওড়ে বেড়ায়। ভদ্রতার মুখোশ পড়ে থাকে যেন সেলুলয়েডের ভ্যাম্পায়ার এক একটা। রক্তের স্বাদ পেলেই হয়ে ওওঠে উন্মত্ত।এরা নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে পরিচয় দেয়। অথচ আমার মা’র সন্তান তাদের হাতে অনিরাপদ। এরা মানুষের শত্রু এরা জাতীর শত্রু। এরা মানবতার শত্রু। এই খুনিরা কারো আপন নয়। এদের হাতে রক্তের দাগ। এদের চোখে শুধুই জিঘাংসা। দয়া করে এদের মানুষ বলে মনুষ্যত্বের অপমান করবেন না। এরা নর নয়, নর পিশাচ।

আজ যখন এ দেশে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার চলছে। তখন এই পিশাচেরা এ মাটির বুকেই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এ লজ্জার। যারা এদের প্রশ্রয় দেয় তাদেরও সর্বান্তকরণে জানাই ধিক্কার।

আমি এখানে মানবতার কথা বলছি। মানবতার যেমন জাত হয়না। তেমনি মনুষ্যত্বের বিচারও দলীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে করা যায় না। বিবেক যদি দলীয় আদর্শেই বাধা থাকে। সে বিবেক থেকেই বা কি লাভ? সবার উপরে মানুষ। মনুষ্যত্বেই মানুষের পরিচয়।