ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

রোকেয়া দিবসে অবরোধ কর্মসূচি পালন করায় বিরোধী দলের প্রতি ধিক্কার ও ঘৃণা জানানোর জন্য নারী সমাজকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুবই ভাল কথা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, যারা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে মেরে ফেলল তাদের কি ফুল চন্দন দিয়ে বরণ করে নেব? সেটাও দয়া করে বলুন। এটা অন্তত বলবেন না যে, যারা কুপিয়েছে তারা বিরোধীদলের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডার।

আপনার সোনার ছেলেরা নিজ সংগঠনের সদস্যদের এর পূর্বে যেভাবে কুপিয়েছে। গতকাল তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে মাত্র। তারা একে অপরের সাথে বারংবার ভয়ংকর সহিংসতায় লিপ্ত হয়েই কি নিজেদের প্রমাণ দিলেন। এতদিনের তাদের মহড়া কি তবে প্রশিক্ষণ পর্ব বলে ধরে নিব? প্রশিক্ষণ পর্ব শেষে আস্থা অর্জনে সক্ষম হল বলেই কি তারা এখন বিরোধীদলের কর্মসূচী ঠেকাতে প্রকাশ্যে রাজপথে নেমেছে? তবে তো আপনার প্রশংসা করতেই হয়। কেননা পুলিশ কর্তৃক কেউ নিহত হলে যতটা হাঙ্গামা পোহাতে হয়। যতটা আগুন জলে এই সব সোনার ছেলেদের কর্তৃক তাঁর কয়েকগুণ বেশি লোক নিহত হলেও ততটা হাঙ্গামা হয়না। কারণ একটাই আমাদের দু’জন মাতৃস্থানীয় নেত্রী আছেন যাদের সন্তান বাৎসল্য অভাবনীয়(!) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার শুরু করে যতটা প্রশংসা কুড়িয়েছেন আপনার সোনার ছেলেরা আরও বেশি অমানবিক হয়ে তা ম্লান করার অপচেষ্টায় লিপ্ত। আপনি তা দেখেও দেখেন না। এখানে আপনি চিরন্তন মায়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ। আপনার দুষ্ট ছেলেদের দুষ্টুমিতে খালি হয় অন্য মায়ের কোল। আপনি ধিক্কার জানাতে বলেন যারা মানবতা বিরোধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদের। এদেরকে কি বলবেন। এদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের ভাষাটা আমাদের শিখিয়ে দেবেন কি? সেই সাথে জানতে চাই এরাও কি মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নয়? আপনি কি এদের বিচারের আওতায় আনবেন? নাকি আশীর্বাদের আচলে ঢেকে রাখবেন?

kmgmehadi@yahoo.com