ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মোবাইলে একটি মেসেজ পেলাম। এটা কোন খবরের মধ্যে পড়ে না। তা যেমন ঠিক তেমনি আমার মত এক নাদানের মোবাইলে দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা এসেছে সেটা নিশ্চয়ই একটি খবর!

যখন জানা গেল আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এভাবে সকলকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সেটা বোধ করি আরও বড় খবর। কেননা আমাদের দেশে ক্ষমতায় আরোহণের পরে নেতা নেত্রীরা বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন এটা ভাবার কোন কারণ নেই। তাও আবার প্রধানমন্ত্রী। তবু এটাই সত্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বার্তাটি ছিল এ রকম, “মহান বিজয় দিবসে আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। দেশ ও জনগণের কল্যাণে আপনাদের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করছি। জয় বাংলা! জয় বঙ্গবন্ধু! – শেখ হাসিনা”।

তাঁর এই বার্তাটি পেয়ে আমি বা আমরা কেউই এক ইঞ্চি উচ্চতায় পৌছিনি। তবে তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। তাঁর এই শুভেচ্ছা বার্তাটি নিশ্চয়ই দেশের সচেতন প্রতিটি মানুষের কাছেই পৌঁছেছে। যেখানে ভেদাভেদ করা হয়নি দলমতের। অর্থাৎ দলমত নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিককেই তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাহলে তো তিনি আমাদের প্রত্যাশার মাত্রাকেই বাড়িয়ে দিলেন।
বিরোধী দল হুমকি দিয়েছে আগামীতে কঠোর আন্দোলনে যাবে। স্বাভাবিকভাবে সরকারও ছেরে কথা কইবে না। কিন্তু আমাদের সাধারণ মানুষের কি হবে? যারা ছোট খাট ব্যবসা করে, যারা দিন এনে দিন খায় কিংবা যে চালক নিজের বাহনটি চালিয়ে অন্ন যোগায় তাদের কি হবে? আমাদের দেশের রাজনীতিবীদগন জনসাধারণের দোহাই দিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করে জনসাধারণেরই নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছাড়ে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা এর থেকে পরিত্রাণ চাই। আমরা যেমন আরেকটি ১/১১ দেখতে চাইনা তেমনি রাজনৈতিক অস্থিরতারও বলি হতে চাইনা।

আর তাই আমরা আপনার কাছ থেকে আরেকটু উদারতা আশা করি। যে উদারতা আমাদের রাজনৈতিক সহিংসতার হাত থেকে মুক্তি দেবে। যে উদারতা আপনাকে নিয়ে যাবে এমন এক উচ্চতায় যেখানে সমসাময়িক কাউকেই দেখা যায়না। আপনি কি একবার ভেবে দেখবেন? তবেই সার্থক হবে আপনার এই বার্তা প্রেরন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকেও মহান বিজয় দিবসে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
kmgmehadi@yahoo.com