ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ছাত্র রাজনীতির কুৎসিত রূপটি আরেকবার প্রকাশ্য রূপ ধারণ করল বিশ্বজিৎকে ঘিরে। যদি এই ঘটনাটি এতটা মিডিয়া কভারেজ না পেত। যদি সাধারণ মানুষকে এতটা আলোড়িত না করত তাহলে হয়ত সাকিলরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যেত বরাবরের মত। বিশ্বজিৎ এর সাথে তাঁর হত্যাকারীদের পূর্ব শত্রুতা ছিলনা এমনকি চেনা জানাও নয়। তবু কেন এমন পৈশাচিক রূপে তাঁর হত্যাকারীরা আবির্ভূত হল? এ হত্যার পেছনেও একটি মোটিভ ছিল নিঃসন্দেহে। কি সে মোটিভ? হত্যাকারীরা কাকে এই লাশটি উপহার দিতে চেয়েছিল। তা কি কখনো প্রকাশিত হবে?

মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এককথায় সরকারই বা ছাত্রলীগকে ধোয়া তুলসী পাতা বানানোর জন্য উঠে পড়ে লাগলেন কেন? সরকারের এই সময়ে এসে ছাত্রলীগকে বড় বেশি প্রয়োজন বলে?

বিরোধীদল ঠেকাতে আমার ছাত্রদলই যথেষ্ট। আমরা সেই অমোঘ বানী কি ভুলে গেছি? এখানে আওয়ামী লীগ বিএনপি বা অন্যান্য দলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কোন দলই চায়না ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে। তারা উচ্ছিষ্টের লোভ দেখিয়ে ছাত্রদের বানায় ক্যাডার। আমরা দেখেছি মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযোগে অভিযুক্তকে মন্ত্রী পর্যন্ত হতে। এটা তার ক্রিয়াকলাপের পুরস্কার। ছাত্র রাজনীতিতে নবীনদের কাছে তারা নায়ক।

এ পর্যন্ত যতগুলো প্রাণ ছাত্ররাজনীতির বলি হয়েছে তাঁর ক’টির সুষ্ঠু বিচার হয়েছে? এই হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচারে কোন সরকারই আন্তরিক নন কারণ তাদের বিচার হলে ছাত্ররা ভয় পাবে। মেধাবী-সুবোধ ছাত্রটিকে ইচ্ছেমত ব্যাবহারের সুযোগটি পাওয়া যাবে না। আর তাই তারা কথায় কথায় ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে টেনে আনেন। অথচ যারা এই কাজটি করেন তারাই নিজেদের সন্তানকে বিদেশে রেখে পড়ান। তাদের সন্তানরা মিছিল করেনা, ছাত্র থেকে ক্যাডারে পরিণত হয় না। এর জন্য ব্যবহৃত হয় আনসার আলীদের ছেলেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা এ দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর। দেশ সেরা শিক্ষার্থীরাই শেষ পর্যন্ত সুযোগ পায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তি হতে। তাদের হাতে অস্ত্র কারা তুলে দেয়। কারা দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আশা এই শান্ত শিষ্ট ছেলেদের দুর্ধর্ষ করে তোলে?

আজকের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে এভাবে দেশের মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতায় লিপ্ত আছেন। এই যে দেশের সম্পদের অনিষ্ট করে চলেছেন। এর জবাব তাদের একদিন দিতে হবে। আনসার আলীদের বুকভাঙ্গা দীর্ঘশ্বাসের দায় তাদের মেটাতেই হবে।

kmgmehadi@yahoo.com