ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমরা তো এই মর্মে একমত হতেই পারি দুর্নীতিবাজদের প্রশ্রয় দেব না। তবে শুধু মুখে বললে তো হবে না, যার যার নিজস্ব অবস্থান থেকে সোচ্চার হতে হবে প্রত্যেকের। আমরা মাইনাস টু যেমন চাই না তেমনি চাপিয়ে দেয়া নেতাও চাই না। সাধারণ মানুষের হাতে একটিই সুযোগ আর তা হল নির্বাচন। আমরা নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে যদি দল মতের বাইরে গিয়ে সৎ প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারি। তাহলেই সম্ভব দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া। যে লোক নিজেই দুর্নীতিবাজ, তাকে দিয়ে তো দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া সম্ভব নয়। কথা হল সাধারণ মানুষ এই দুর্নীতিবাজদের চিনবে কি করে। যখন তারা সমর্থন প্রত্যাশী হয়ে দাঁড়ে দাঁড়ে ঘুরে বেড়ান তখন তো সবাই নিজেকে ধোয়া তুলসী পাতাটি বলে প্রচার করেন। তাঁর উপরে আবার থাকে দলীয় সমর্থন।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কি পারে না, প্রতিটি নেতার আমলনামা প্রকাশ করে সাধারণ মানুষকে সজাগ করে তুলতে?

গণমাধ্যমের উপর আস্থা রাখছি এ জন্য যে, বর্তমান সময়ে একমাত্র আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে আমাদের গণমাধ্যম। আজ যদি এ দেশে গণমাধ্যম কার্যকরী ভূমিকা না রাখতে পারত দেশের পরিস্থিতি কি হতে পারত তা সহজেই অনুমেয়। আমাদের দেশে বড় দুটি দলেই নেই গণতন্ত্রচর্চা। তারা নির্বাচনের সময় করছে মনোনয়ন বাণিজ্য। শোনা যায় কেউ কেউ দায়িত্বে থাকেন নির্বাচনী ব্যয় যোগানের। যারা এই দায়িত্বে থাকেন তাদের সাতখুন মাফ তা বলাই বাহুল্য। স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন হবে। দল থেকে মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে সবদিক বিবেচনা করা হয়। শুধুমাত্র দুর্নীতির দিকটি ছারা। অনেকক্ষেত্রে দুর্নীতিই হয় সফলতার মাপকাঠি। শোনা যায় সংসদীয় আসনে একবার নির্বাচন করতে পাঁচ/ ছয় কোটি টাকা খরচ হয়?

এত টাকা কোথায় যায়?
ভোট নাকি টাকা দিয়ে কেনা হয়। পাঠক, এ পর্যন্ত কত টাকায় কয়টি ভোট বিক্রি করেছেন?
যদি না করে থাকেন তাহলে এ কলঙ্ক কেন মাথায় নিবেন?
এত টাকা খরচ করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হলে তো সৎ-সজ্জন-ভাল মানুষ নির্বাচন থেকে দূরে থাকবেই।

এখন প্রয়োজন এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন যারা এই মহামানবদের আমলনামা নিয়ে হাজির হবেন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায়। সাধারণ মানুষকে তাদের বৃত্তান্ত জানাবেন। জনগণ তখন মার্কা না দেখে তুলনামূলক বিচারে ভাল মানুষটিকে বেছে নিতে পারবেন সহজেই। এমন অনেক যোগ্য লোক আপনার এলাকায় আছেন যারা বড় দলগুলোকে সমর্থন করেন না। তারা ইচ্ছে থাকা সত্বেও নির্বাচনে অবতীর্ন হন না অর্থ ও পেশিশক্তির কাছে টিকতে পারবেন না বলে। তাদের সুযোগ করে দিতে এবং সাহস যোগাতেই পাশে দাঁড়ান প্রয়োজন গণমাধ্যমসহ সমাজের বিবেকবান সচেতনমহলের। এখন যারা ক্ষমতার দম্ভে ধরাকে সরা জ্ঞান করে ইচ্ছেমত নেতা চাপিয়ে দেন। তখন তারাও বাধ্য হয়ে অপেক্ষাকৃত ভাল লোককে দলীয় মনোনয়ন দেবেন।

আমাদের দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনেক সংস্থা আছে। সুশীল সমাজে অনেক কর্তা ব্যক্তিরা রয়েছেন। যারা সবাই বলছেন, এটা হওয়া উচিত ওটা হওয়া উচিত নয়। ওভাবে নয় এভাবে। এবার তারা এগিয়ে আসুন না। যারা দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিবেন সঠিক তথ্য। তাদের সাহায্য করবেন সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। তবেই না বুঝব; আপনারা সত্যিই দেশের কল্যাণ কামনা করেন। আমরা এমনিতেই কথা বলতে পছন্দ করি তার উপরে সে কথা বলে যদি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই। মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এখন মন্ত্রীরা কেউ কথা দিয়ে কথা রাখে না। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কেউ কখনো পদও ছাড়ে না।

আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবাজদের ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে নৈতিকতা, আদর্শ, ও মূল্যবোধ হারিয়ে গেছে।

এ কথা কে না জানে। তবু সাধুবাদ জানাই মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে; অকপটে স্বীকার করার জন্য। কিন্তু লাভ কি হবে? পরিবর্তন তো হবে না। রাজনৈতিক প্রমোশন কিসের ভিত্তিতে হয় তা তো দিবালোকের মতই স্পষ্ট। তিনি রাজনীতিতে আদর্শ, চরিত্রবান ও সৎ লোকের আসার আহ্বান জানান। যতদিনে সাধারণ মানুষ সচেতন না হবে ততদিন পর্যন্ত তাদের এ মুখো হওয়া যে কতটা কঠিন তা সহজেই অনুমেয়। তাই দেশপ্রেমিক, আদর্শবান ও সৎ লোকদের নিজেদের স্বার্থেই সেই পরিবেশ তৈরি করা জরুরী। আর নয়ত এ দেশের রাজনীতি দিনকে দিন ব্যবসায় পরিণত হবে। তখন কালো বিড়াল কাহিনী মাঝে মাঝে নয় হর হামেশাই শোনা যাবে।

kmgmehadi@yahoo.com

সূত্র: যমুনানিউজ২৪.কম ১১/১/১৩

http://www.jamunanews24.com/index.php/politics/17934-‘মন্ত্রীরা-কথা-দিয়ে-কথা-রাখে-না,-পদও-ছাড়ে-না’