ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আপনি কতটা সহ্য করবেন? কতটা মিথ্যে-কতটা প্রবঞ্চনা-কতটা ভণ্ডামি? আমার দেশকে শাসন করবে অন্য দেশ। তাকে সাদরে সম্ভাষণ জানিয়ে, তাকে উস্কানি দিয়ে আঘাত করতে বলছেন আমার দেশের অর্থনীতিকে। ক্ষমতা প্রত্যাশী আমাদেরই এক প্রধাননেত্রী।

মীরজাফর কি এর থেকে বেশি করেছিল; না কম? আমি আবেগ তাড়িত নই; যুক্তি দিয়ে বিচার করতে চাই খালেদার জিয়ার লেখা নিবন্ধের। আমি তাকে নেতা মানতে প্রস্তুত নই যে আমার মাতৃকাকে মুক্তিপণ দিয়ে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। আমি তাকে নেতা মানতে প্রস্তুত নই যে শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্যে অন্তরে চরম স্বৈরতন্ত্র পুষে রেখে মুখে গণতন্ত্রের ফেলা তুলে মরে।
আমি তাকে নেতা মানতে প্রস্তুত নই যে দেশের মানুষকে সায়েস্তা করতে ভিনদেশিকে ডেকে আনে।

এক্ষেত্রে বিএনপি-আওয়ামী লীগ নয় এই ধরনের কাজ যারাই করে থাকুন আমাদের প্রতিবাদ একই। এ দেশ আওয়ামী লীগ-বিএনপি বা অন্য কোন দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এ দেশ আমার, আমার মতই পনের কোটি মানুষের।

৫৪তম স্বীকৃতি দানকারী দেশটিকে যখন বলা হয়, “১৫ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত আমার এ দেশ, স্বাধীনতা অর্জন করে ১৯৭১ সালে। তখন থেকেই স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের গন্তব্যের প্রতি পথিকৃৎ রাষ্ট্র হিসেবে দৃঢ় সমর্থন জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র” তখন একে অজ্ঞতা বশত বলব না মিথ্যাচার বলব?

বাংলাদেশের প্রাপ্ত অর্থনৈতিক সুবিধা বলী অন্যান্য বর্ধনশীল অর্থনৈতিক শক্তির হাতে চলে যাচ্ছে এই সতর্কবার্তা কি এ দেশের একজন নেত্রী মার্কিন সরকারকে প্রকাশ্যে লিখিতভাবে জানাতে পারেন? আপনি কি বাংলাদেশের একজন নেত্রী না মার্কিন এজেন্ট?

আপনি, যুক্তরাষ্ট্র চুপচাপ রয়েছে বলে উষ্মা প্রকাশ করেছেন এমনকি এ জন্য “এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করা যেতে পারে” বলে উল্লেখ করেছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠবে আপনি কার স্বার্থ রক্ষা করছেন?

ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্প নয় বাংলাদেশকে দারিদ্র মুক্তি দিয়েছে এ দেশের গার্মেন্টস শিল্প, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সহ ব্যক্তিগত উদ্যোগে নেয়া বিভিন্ন কর্মযজ্ঞ। যেখানে ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের অবদান সামান্যই। নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত ব্যক্তিদের তালিকায় যখন উঠে আসে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার মাত্র ১ বছরের মাথায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নাম; তাও আবার ২০০৯ সালে বিশ্ব কূটনীতি এবং বিশ্ব সহযোগিতায় অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ (!) যখন দেখতে পাই কার্বন বিলিয়নিয়ার বলে কুখ্যাত সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর, বর্নবাদী ওয়াঙ্গারি মাথাই, সন্ত্রাসী ও যুদ্ধাপরাধী আইজ্যাক রবীন, শিমন পেরেজ। বিভ্রান্তিকর এবং নির্জলা মিথ্যা তথ্যসংবলিত বইয়ের লেখক রিগোবার্তা মেঞ্চু, এমনকি হেনরি কিসিঞ্জারের নাম। তখন বুঝতে বাকি থাকে না অমর্ত্য সেন এর মত দু একজনকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয় মূলত এই পুরস্কারটির ওজন বাড়াতেই; এর বেশি কিছু নয়।

আপনি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- পুলিশের একটি প্যারা মিলিটারি শাখার কথা লিখেছেন এই বাহিনী কে সৃষ্টি করেছেন ? এর অতীত ইতিহাসই বা কতটা শুভ্র? এ দেশে বিচার হীনতার সংস্কৃতি চালু এবং বিচারের নামে নাটক তৈরির কুশীলব কে বা কারা?

আপনি লিখেছেন, “এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাপরাধ বিষয়ক দূতও শুধুমাত্র বিরোধী দলকে লক্ষ্য করে ওই আদালতের কার্যক্রম চালানোর কারণে শেখ হাসিনা সরকারের নিন্দা জানিয়েছেন”। কথাটা কি নির্জলা মিথ্যা নয়? বরং সত্য তো এই যে, তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এমনকি বাচ্চু রাজাকারের রায়েও মার্কিন সরকার সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারেক জিয়া বা সাইদ ইস্কান্দারের বিএনপিতে অন্তর্ভুক্তি কি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হয়েছিল? বিএনপি’র কোন নেতা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত আপনিই ভাল জানেন।

এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রও যে আই ওয়াশমাত্র তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তথাপিও তুলনামূলক বিচারে আওয়ামীলীগের অবস্থা বিএনপি’র চেয়ে উন্নত(আরও অনেক উন্নত হওয়া প্রয়োজন)। আর তাই এটাও নির্দ্বিধায় বলা যায় আপনি মিথ্যের আশ্রয় নিয়েই বলেছেন-“এশিয়ার সবচেয়ে গতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রতে পরিণত হওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশ গত গত ৫ বছরে কীভাবে শুধু একটি পরিবারের ক্ষমতার চাবিকাঠি কুক্ষিগত হওয়ার প্রক্রিয়ার দিকে ধাবিত হচ্ছে, এখন সেটিই দৃশ্যমান”।

এই নিবন্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক মুক্তির সুবাতাস বইয়ে দেয়ার যে আশা আপনি পোষণ করেছেন সেই স্বাদ তো ইতিমধ্যেই আফগানী স্থান, পাকিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, ফিলিস্তিন গ্রহণ করেছে। এখন এই তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করাই কি এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য?

এ দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছিল এ দেশের মানুষ। সময়ের প্রয়োজনে এ দেশের মানুষ যে কি ভয়ংকর রূপ নিয়ে রাজপথে নেমে আসে তা আপনার চেয়ে ভাল আর কে জানে? কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্র রাষ্ট্রগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ব্যাপারে প্রভাবকের দায়িত্ব নেবে? তবে কি আপনার ধারনা এ দেশের জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্প্রবর্তনে আগ্রহী নয়?

ধরে নিচ্ছি মার্কিন সরকার শেখ হাসিনাকে এই বলে হুমকি দিল যদি শ্রমিক অধিকারের পক্ষে যারা লড়াই করছেন বা প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে যাদের অমিল রয়েছে তাদের মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া না হলে বাণিজ্য থেকে যে সাধারণ সুবিধাগুলো বাংলাদেশ পেয়ে থাকে (জিএসপি) সেগুলো তুলে নেয়া হবে। কিন্তু হাসিনা সরকার এই হুমকিতে কান দিল না। ফলে তারাও সাধারণ সুবিধাগুলো উঠিয়ে নিলো। এক বছর পড়ে বিএনপি ক্ষমতায় এলো। তখন আপনি কি করবেন? এতে কে লাভবান হবে?

আপনি তো জানেন দোহা এজেন্ডা অনুযায়ী সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে উন্নত দেশের বাজারে অনুন্নত দেশের পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার / জিএসপি সুবিধা করুণা নয়, অধিকার। উন্নত দেশগুলো অনুন্নত দেশকে জিএসপি সুবিধা দিতে নিজেরাই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অথচ আপনি নিজেকে দেশের একমাত্র কাণ্ডারি সাজিয়ে এই অধিকার কেড়ে নিতে বলছেন!

আপনি লিখেছেন ‘‘ন্যায়বিচারের আদালতের চেয়েও উচ্চতর আদালত রয়েছে, আর তা হল নৈতিকতার আদালত।’’ আপনি কি সে আদালতে মুক্তি পাবেন?
মীরজাফর দেশের শত্রুর সাথে আঁতাত করে এ দেশকে দুশ বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল পড়িয়ে রেখেছিল। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে তা হয়ত আর সম্ভব হবে না তবে মার্কিন সরকারের ছত্রছায়ায় আরব বসন্ত ডেকে আনার যে স্বপ্ন আপনাকে দেখান হচ্ছে তা নিতান্তই দিবা স্বপ্ন।

আজ বর্তমান সরকার যে আত্ম অহমিকায় ভুগছে। যে একগুঁয়েমিতে সরকারকে পেয়ে বসেছে সেখানে আপনাকে অনেক বেশি দায়িত্বশীল এবং দেশপ্রেমিকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া উচিৎ ছিল।
আপনি ঘোষণা দিতে পারতেন-

· আপনার সন্তান যদি দোষী হয় আপনি তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাবেন।
· আপনি আপনার দলে এবং অঙ্গ সংগঠনগুলোতে গণতন্ত্রের চর্চা করে দেশ বাসীকে উৎসাহী করে তুলতে পারতেন।

কিন্তু তা না করে অতি সাধারণ মানের লোভী মানুষের মত-
· আপনি এ দেশের সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থে যোগান দেয়া সংসদীয় ভাতা গ্রহণ করছেন অথচ সংসদে যাচ্ছেন না।
· সকল সুযোগ সুবিধা গ্রহন করছেন দ্বায়িত্ব পালন করছেন না।
· অনুদান হিসেবে পাওয়া বাড়ি হাড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন।
· যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সোচ্চার না হয়ে আপনি এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষেরই বিপক্ষে অবস্থান নিলেন।

আপনি লিখেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং তাদের সমর্থকদের উদ্দেশ্যমূলক ভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার মানে কি?
আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নয় জামায়াত!
তাহলে আপনার অবস্থানই বা কোথায়?

আপনি আপনার জনগণের কাছে একটি খোলা চিঠি না লিখে বিদেশের দ্বিতীয় শ্রেণীর পত্রিকাকে কেন বেছে নিলেন?
আজকের সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তে বসে যাই বলুন বা লিখুন তা তো মুহূর্তেই বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনীতি বাংলাদেশের মত অন্য অনেক দেশিই চর্চিত হয় তাই বলে কি এভাবে ক্ষমতায় যেতে হবে? আপনার নেতারা বলেন এই নিবন্ধে আওয়ামীলীগের আঁতে ঘা লেগেছে। আঁতে ঘা দেশপ্রেমিক প্রতিটি মানুষেরই লেগেছে তা বোঝার ক্ষমতা আপনি বা আপনার নেতারা হারিয়ে ফেলেছেন। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য যে, যখন আওয়ামী লিগের বিকল্পের খুব দরকার তখন বিএনপি নিজেদেরকে তাদের থেকেও অনেক নিচে নামিয়ে ফেল্ল। এ দায় আপনার। এ দায় আপনার উপদেষ্টাদের। তারা আপনার যতটা ক্ষতি করল তাঁর থেকে অনেক বেশি ক্ষতি করল দেশের। ইতিহাস কাউকেই ক্ষমা করেনা।

kmgmehadi@yahoo.com