ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

বাচ্চু রাজাকার এর বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার পর “এই রায় কার্যকরী হবে তো”? শিরোনামে লিখেছিলাম- রায় ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ জনমনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় হিসেবে দেখা দিয়েছে তা হল; এই রায় কার্যকরী হবে তো?

এ প্রশ্নের পেছনে যৌক্তিক কারণও রয়েছে। আমরা দেখেছি গোয়েন্দা নজরদারি থাকা স্বত্বেও বাচ্চু রাজাকার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। আমরা দেখেছি স্কাইপ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে ১ নং ট্রাইব্যুনালের বিচারের রায় প্রলম্বিত করার সফল ষড়যন্ত্র। আমরা দেখেছি এই বিচারকে বন্ধ করার জন্যে আন্দোলন করার মত ধৃষ্টতা দেখাতে এমনকি সেই আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন দেয়ার মত প্রধান বিরোধী দলকে অনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেও। জানা যায় অপরাধীদের এবং তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের এখন একমাত্র লক্ষ বিচারকে বিলম্বিত করা। তার কারণটি সহজেই অনুমেয়। যা এই আশংকাকেই উস্কে দেয়।
তখন পর্যন্ত আমাদের ভরসা ছিল আওয়ামীলীগ। আর আজ রায় ঘোষণার পর শেষ আশাটুকুও বিলীন হয়ে গেল। এখন প্রশ্ন উঠেছে আমরা কার কাছে হেরে গেলাম?

অর্থ-বিত্ত, প্রভাব, হুমকি নাকি ভোটের রাজনীতির কাছে। এখন প্রতীক্ষার পালা মহামান্য রাষ্ট্রপতি কবে অনুকম্পা প্রদর্শন করে মোল্লাদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন!

এই প্রসিকিউশনের দক্ষতা, আদালতের এবং সাক্ষীদের নিরাপত্তা হীনতা নিয়ে অনেক আগে থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। সরকার কান দেয়নি। এখন প্রশ্ন উঠল এর সততা নিয়েও। উত্তর দেয়ার কেউ নেই। ব্যারিস্টার তুরীন আফরোজের মতে, আইনত আসামী একমাত্র বেকসুর খালাস পেলেই রাষ্ট্র পক্ষ আপিলের সুযোগ পেত অর্থাৎ এখানে সরকারের পক্ষ থেকে আর কিছুই করার নেই। বরং আসামী পক্ষের সুযোগ রয়েছে শাস্তি কমিয়ে আনার। অবস্থাদৃষ্টে তা সম্ভব হবে বলেই মনে হচ্ছে!!

তবে কি আওয়ামীলীগ জামায়াতকে পরিশুদ্ধ করতেই এসব করছে। আমার সব ছাগলের তিন নম্বর ছা’য়ের মত বেহুদাই লাফাচ্ছি! এ দেশের রাজনীতিবিদদের অত্যন্ত প্রিয় একটি কথা,”রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই।” এই কথার আড়ালে যে কথাটি উহ্য থাকে তাহলো, “রাজনীতিতে নীতি বলে কিছু নেই।” আমরা সেই চরম নীতিভ্রষ্টদের পাল্লায় পড়েছি। তাই দেখি জামায়াতের দখলে মতিঝিল যা বিএনপিও কখনো পারেনি। শুনি জামায়াতিদের কণ্ঠে প্রকাশ্যে গৃহযুদ্ধের হুমকি। দেখি পড়ে পড়ে মার খায় পুলিশ অথবা রাষ্ট্র। বিরোধী পক্ষকে দমনে বীর্যবান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন জড়াগ্রস্থ। তবে কি সাধারণ মানুষকেই রুখে দাঁড়াতে হবে এদেরকে রুখতে?