ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

৭১’ এর যুদ্ধপরাধীদের মানবতা বিরোধী বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় এনে যে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে তা মূলত শহীদ জননী জাহানারা ইমামের উদ্যোগে নেয়া গণআদালতেরই ধারাবাহিকতা। যে আদালত কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে গঠিত হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিকামী মানুষের এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের দায়মুক্তির তাগিদ থেকে সর্বসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই গণআদালত সফল হয়েছিল। আওয়ামীলীগ এর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছিল ইতিহাসের দায় মেটাতে নয়। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে। তা আজ দিবালোকের মতই স্পষ্ট। বিএনপি যুদ্ধপরাধীদের পক্ষাবলম্বন করে যে ঐতিহাসিক ভুল করল তার খেসারত তাদের অনেক সময় ধরে দিতে হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আজ চরম ন্যক্কারজনক ভাবে আওয়ামী সরকার একাত্তরের নর ঘাতকদের সাজা কমিয়ে আনার বা বাঁচিয়ে রাখার যে প্রচেষ্টায় লিপ্ত। তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার এখনই সময়। শাহবাগের এই গন জমায়েত কোন দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়। এই জমায়েত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষে নির্মোহ সাধারণ মানুষের ক্ষুব্ধ প্রতিবাদ। প্রতিবাদের এই অগ্নি স্ফুলিঙ্গ প্রচণ্ড আকার ধারণ করে পুড়িয়ে দেবে সকল নীলনকশা।

এ দেশের সাধারন মানুষ, এ দেশের ছাত্রসমাজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি যতবার ফুসে উঠেছে ততবার জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ। কোন সমঝোতা, কোন প্রহসন আমরা মেনে নেব না। আজ যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশব্যাপী জামাত-শিবিরকে তাণ্ডব চালানোর লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে। সেই সংবিধান কি এ দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানে দায়বদ্ধ নয়?

এইসব হঠকারিতার আশ্রয় নিয়ে আওয়ামী লিগও জাতির সাথে চরম প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। আইনজ্ঞ না হলেও সাধারণ যুক্তিতেই বোঝা যায় ঘটনা প্রমাণিত হলেই অভিযুক্তকে স্বর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া যায়না। যদিনা অভিযুক্তের সম্পৃক্ততা যথাযথভাবে প্রমাণিত নয়। প্রশিকিউশন ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা অদক্ষতার কারণেই হোক কাদের মোল্লাকে মুল হোতা বলে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাকে দেখানো হয়েছে সহযোগী হিসেবে। মাননীয় বিচারকগন সেমতই রায় দিয়েছেন। এর দায়ভার কার?

এ দায় সরকারকেই নিতে হবে। ক্ষমার অযোগ্য এই ঘৃণ্য অপচেষ্টার জন্য যারাই এর জন্য দায়ী তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহি করতে হবে। যারা এই অপরাধের স্বীকার, যারা আজ এতটা বছর ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনেছে তাদের প্রত্যেকের দীর্ঘশ্বাস এই প্রতারকদের আজীবন তাড়া করে বেড়াবে।

আজকের এই গন জমায়েত এ জাতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তানদের। যারা সব কিছুর ঊর্ধ্বে রাখে দেশ মাতৃকাকে। যারা ভণ্ডামি জানে না। তারা চরম ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করছে এই রায়কে। সেই সাথে সতর্ক কয়রে দিচ্ছে সরকারকে পরবর্তী রায়গুলো ঘোষণার পূর্বে প্রয়োজনে নতুন কয়রে বিবেচনা করতে। নয়ত একই ধারাবাহিকতা সত্যিই ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে ক্ষমতাসীনদের যা সামাল দেয়ার ক্ষমতা তাদের নেই। কারণ সবার উপরে যখন দেশ স্থান পায়। তখন সকল প্রতিরোধই বালির বাধের মত ধ্বসে যায়। দয়া কয়রে এই নরঘাতকেরা সাথে আপোষ করবেন না। তা আপনাদেরই ধ্বংস ডেকে আনবে। শাহবাগের গন জমায়েত সেই নির্দেশনাই প্রদান করছে।

kmgmehadi@yahoo.com