ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

পবিত্র কুরআনে জ্ঞানকে আলোর সাথে তুলনা করে, সুরা রা‘দ এর ১৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন,
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الأَعْمَى وَالْبَصِيْرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّوْرُ- (‘বল, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমান অথবা অন্ধকার ও আলো কি এক?’ ) এ আয়াতে তিনি অজ্ঞতাকে অন্ধকারের সাথে এবং জ্ঞানকে আলোর সাথে তুলনা করেছেন। অথচ ইসলামের নামে আমরা অর্ধ শিক্ষিত বা অশিক্ষিতরা অন্যের প্ররোচনায় জেনে না জেনেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করি। আমরা চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছি অথচ জানিইনা কেন করছি। আমরা জানি না যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সে কে, বা আদৌ সে অভিযোগ সত্যি কিনা। আমাদের এইটুকু বোধ কাজ করেনা যে যিনি প্ররোচিত করছেন তিনি তাঁর স্বার্থ হাসিল করছেন কিনা। এমনকি ইসলাম রক্ষার নামে আন্দোলন করতে গিয়ে মসজিদের নামাজ পড়ার কার্পেটে আগুন দিতেও আমাদের বাধে না। উন্মাদের মত এহেন আচরণ অসুস্থ মানসিকতারই পরিচায়ক।
যারা ২২ ফেব্রুয়ারির উন্মাদনায় অংশগ্রহণ করেছেন তাদের কতজন জেনে বুঝে এর সাথে সম্পৃক্ত হয়েছেন আর কতজন না জেনেই এমন অন্ধ উন্মাদনায় মেতেছিলেন সেই প্রশ্নের উত্তর সচেতন মহলে খুব কি অস্পষ্ট? হয়ত নয়। তবে যে বিষয়টি অস্পষ্ট তা হল সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কেন এই দ্বিধা। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে প্রথম যে দাবী উঠেছিল তা হল যুদ্ধাপরাধীদের সঠিক বিচার করতে হবে। জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধের নয়। জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী উঠেছে আরও পরে। আর তা তাদের বর্তমান কার্যাবলীর প্রেক্ষিতেই। এ দাবী গন মানুষের পক্ষ থেকে। এখানে গণজাগরণ মঞ্চ প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে মাত্র। যার জন্য দায়ী জামাতেরই ধবংসাত্নক আচরণ।

জামাতের এই ধবংসাত্নক আচরণ রুখতে হলে প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ। গণজাগরণ মঞ্চ সে কাজটিই করছে অত্যন্ত সফলভাবে। আজ দেশের প্রতিটি গণজাগরণ মঞ্চ হোক এ জাতির এক একটি রক্ষাকবচ। এই মঞ্চের শ্লোগান কখনোই থামবে না। যখন যেভাবে প্রয়োজন সেভাবেই জ্বলে উঠবে এর শিখা অনির্বাণ। এই মঞ্চের বিচ্ছুরিত আলোর বুহ্য ভেদ করে এমন দুঃসাহস যে কারো নেই তা তো প্রমাণিত। এ মঞ্চ যেন মুহূর্তের জন্যও নিষ্প্রভ হয়ে না যায়।

২২ ফেব্রুয়ারির উন্মাদনার সাথে রামুর ঘটনার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতি।

উভয় ক্ষেত্রে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের মধ্যে অনলাইন ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য অথচ তাদের দিয়েই অনলাইনে প্রকাশিত ব্যক্তি বিশেষের মতামতকে পুঁজি করে এই নৈরাজ্য চালানো হয়েছে।
রামুতে যে বিশেষ পোষ্টকে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য চালানো হয়। তা যেমন অত দ্রুত এত সংখ্যক মানুষকে কিভাবে সংঘবদ্ধ করল সে প্রশ্নের জন্ম দেয়। তেমনি এত পূর্বে পোষ্ট করা কথিত ইসলাম অবমাননাকর পোষ্ট নিয়ে এতদিন পরে কেন মানুষ সোচ্চার হল সেই প্রশ্নও যৌক্তিকভাবেই উঠেছে।

আমার জানামতে শাহবাগ বা কোন গণজাগরণ মঞ্চ থেকেই মহানবী(সঃ) বা ইসলাম বিদ্বেষী কোন শ্লোগান দেয়া হয়নি বরং বলা হয়েছে “ধর্ম যার যার, দেশ সবার”। তথাপিও গণজাগরণ মঞ্চকেই প্রধান টার্গেট করা হয়। এবারের উন্মাদনায় আর একটি বিষয় লক্ষণীয় তা হল সংবাদকর্মীরা হামলার স্বীকার হয়েছে। তাঁর কারণ কি গণজাগরণ মঞ্চের সংবাদ পরিবেশন নয়?

এসব বিষয় সহজেই স্পষ্ট করে, যে ব্যনারেই হোক না কেন এই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীরা একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর। আর তাদের এজেন্ডাও কারো অজানা নয়। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে ইসলামী শিক্ষা বন্ধ নয় প্রয়োজন সঠিক বাস্তবায়ন সঠিক বিশ্লেষণ।

ইসলামের প্রসার ও প্রচারের জন্য রাজনীতি নয় প্রয়োজন প্রকৃত ইসলামি শিক্ষার প্রসার। সুশিক্ষিত জাতী সহজেই তাদের কর্মপন্থা নির্ধারণ করতে পারে। এমনকি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তারা আবেগকে প্রশ্রয় দেয়না। উন্মাদনায় মাতে না অন্যের প্ররোচনায়। তথাপিও যারা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী তুলছেন তাদের কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ এই দাবী থেকে সরে আসুন। কেননা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা হলে তা জামাতের অভিযোগকেই বৈধতা দেবে। সাধারণ মানুষ এমনকি বিদেশীদের কাছেও ভুল বার্তা প্রেরণ করবে।

জামাত ইসলাম আর ইসলাম যে এক নয় আজ তা অনেকটাই প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা হলে জামাত ইসলাম আর ইসলাম এক হয়ে যাবে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়।
মানবতা বিরোধী অপরাধীদের রক্ষার যে আন্দোলন তাতে মৃত্যুবরনকারী শহিদের মর্যাদা লাভ করবে এই তথ্য কোন ইসলামী শাস্ত্রে আছে সে জবাব এই ভণ্ড-প্রতারক ধর্ম ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করার সময় এসেছে।

kmgmehadi@yahoo.com