ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

অনেকদিনের বন্ধ্যত্ব ঘুচিয়ে শাহবাগে যে সূর্য উদিত হল তা যেন ঘন কালো মেঘের আড়ালে পূনরায় ঢাকা পড়ে না যায়। এতদিন ধরে যে আধার জেঁকে বসেছিল আজ তা হটিয়ে যে আলোর বিচ্ছুরুন ঘটেছে তা ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পরেছে দেশের সর্বত্র। আমরা এ আলোকধারায় নিত্য স্নাত হতে চাই। একে আর হারাতে চাই না কিছুতেই। এই আলোতেই চলতে চাই বাকিটা পথ। আজ এ ই আলোতেই উন্মোচিত হয়েছে প্রত্যেকের প্রকৃত চেহারা। কে কতটা ফ্যাসিবাদী, কার নৈতিকতা কতটুকু আর কেইবা কতটা গন মানুষের পক্ষ শক্তি। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দূর্বিত্তায়ন, চরম স্বেচ্ছাচারিতা আর আদর্শহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতির যে ঘেরাটোপে বাধা পরে আছে এ দেশ। তার থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছে শাহবাগ। আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত এ জাতি আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে আশা জাগানিয়া শাহবাগের আন্দোলনে।
স্বাধীনতার বেয়াল্লিশ বছর পর এই প্রথম এ জাতী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একতাবদ্ধ হতে পেরেছে। এ অনেক বড় পাওয়া। শাহবাগের জন্ম হতনা, যদি অপরাধীদের পার পেয়ে যাওয়ার সংশয় না থাকত। যদি এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা ক্ষমতার মোহে আত্নপ্রতারনায় শামিল না হতেন। আবারও সত্য বলে প্রমাণিত হল, মুক্তিযোদ্ধা চিরদিন মুক্তিযোদ্ধা থাকেন না, কিন্তু রাজাকার চিরদিনই রাজাকার। হুজুরের আদেশে বীর্যবানও কখনো কখনো নির্বীর্য!! তবে স্বার্থকতা এই যে, শাহবাগে তারা নেই। সেখানে শুধু বীর্যবানদেরই প্রবেশাধিকার মেলে।
শাহবাগ আদর্শের চারণভূমি। এখানে যারা আসেন, তারা দেশপ্রেমের শুদ্ধ ধারায় বিশুদ্ধ হতে আসেন। শাহবাগে যারা আসেন তারা ন্যায় বিচার চাইতে আসেন। তারা পথ দেখান অহিংস আন্দোলনের। এই অহিংস বাদীরা আর কেউ নন এরা ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তবীজ থেকে জন্ম নেয়া দেশমাতার সূর্য সন্তান। শাহবাগের আন্দোলন কাদের মোল্লা, মওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদি, কোন ধর্মপ্রচারক কিংবা জামাতের কোন কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে নয়। এ আন্দোলন কসাই কাদের মোল্লা, দেলু / দেল্লা রাজাকার এবং অন্যান্য চিহ্নিত রাজাকারদের বিরুদ্ধে। যারা স্বাধীনতার প্রাক্কালে এ জাতীকে মেধাশুন্য করতে চালিয়েছিল বুদ্ধিজীবী গনহত্যা। মুক্তিযুদ্ধের নয়টি মাস যারা মেতেছিল হত্যা, ধর্ষণ, গণহত্যার মত নারকীয় পৈশাচিকতায়। এদের পক্ষে আজ যারা অবস্থান নিয়েছেন তারা নিজেদের রক্তের সাথে বেঈমানি করছেন। হত্যাকারী দরবেশ হয়ে গেলেও তাঁর হাত থেকে রক্তের দাগ মুছে যায় না। শেষ পর্যন্ত তার পরিচয় একটাই আর তা হল ‘খুনি’। নির্যাতিতার হাহাকার কখনোই থামে না তা বংশানুক্রমে বয়ে বেড়ায় তাঁর উত্তরসূরি। একমাত্র উপযুক্ত বিচারেই যার শেষ হয়।
সব আন্দোলনেরই একটি ধারাবাহিকতা থাকে যেমন থাকে যে কোন গনবিস্ফোরনের উপযুক্ত কারণ। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে দেয়া অপর্যাপ্ত শাস্তি জন মানুষকে টেনে এনেছিল যে শাহবাগ চত্বরে। সেই শাহবাগ চত্বর থেকেই দাবী উঠেছিল শুধু কাদের মোল্লা নয় সব মানবতা বিরোধী অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেই একই চত্বরের আজকের দাবী ফ্যাসিষ্ট জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। কোন রাজনৈতিক দল নয় ধর্মভিত্তিক দল হিসেবেও নয়। জামাতকে নিষিদ্ধ করতে হবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে। এরপরে এই শাহবাগ চত্বর থেকেই কি দাবী উঠবে না, যারা ফ্যাসিবাদকে উসকে দেয় তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচারের আওতায় আনতে হবে, যারা মিথ্যে কথায় বিভ্রান্ত করে সাধারণ মানুষকে। যারা উসকে দেয় সাম্প্রদায়িকতা, যারা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে লঘু করার চেষ্টা করে অপরাধীর অপরাধের মাত্রা।
শ্রদ্ধেয় নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশিদ এর সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে বলব “শাহবাগকে জেগে থাকতেই হবে” http://blog.priyo.com/mamunur-rashid/37043.html। জেগে থাকতে হবে তাদের অর্জনকে ধরে রাখতে। জেগে থাকতে হবে শকুনের শ্যেন দৃষ্টি থেকে এ জাতিকে রক্ষার্থে। জেগে থাকতে হবে ভুল পথে পরিচালিত রাজনীতিকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে। বজ্র হুংকারে প্রকম্পিত করতে দেশদ্রোহীর চক্রান্তের ভিত। এই চত্বর থেকেই শুরু করতে হবে দুর্নীতি বিরোধী যুদ্ধ। সময়ের প্রয়োজনে এখান থেকেই জ্বালতে হবে সকল দ্রোহের অনল।
তারুণ্য নির্লোভ, তারুণ্য নির্ভয়, তারুণ্য আপোষহীন এই তারুণ্যের হাতেই রয়েছে জীয়নকাঠি। যে জীয়নকাঠি মাতৃভাষাকে মুক্ত করে, মাতৃভূমিকে মুক্ত করে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনে, রাজাকারমুক্ত করার দৃপ্ত শপথে জাতিকে করে উজ্জীবিত। সেই তারুন্যকে জাগিয়ে রাখতেই শাহবাগে তৈরী করা হোক স্থায়ী দ্রোহ মঞ্চ। উন্মুক্ত সে মঞ্চ থেকেই বেড়িয়ে আসুক নতুন নিউক্লিয়াস। শাহবাগ হোক সূতিকাগার আগামীর সমৃদ্ধ বাংলার।

kmgmehadi@yahoo.com