ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

images
পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন চান হাজি সেলিম! এই শিরোনামের সামনে যখন একটি আশ্চর্যবোধক চিহ্ন দেয়া হল তখনই আর বুঝতে বাকি থাকে না এই প্রতিবেদক কতটা কপট। কেননা পুরুষ নির্যাতন এখন একটি চরম বাস্তবতা। যা অস্বীকার করা বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে চলার মত। আমরা এও জানি এই প্রতিবেদনটি নিয়েও যথারীতি তথা কথিত পৌরুষ দীপ্ত(!) পুরুষ প্রজাতি নানাবিধ ব্যঙ্গ বিদ্রূপে মেতে উঠবেন। আসল সত্যটা লুকাতে চাইবেন।

আসল সত্য তো এই যে, দেশে বর্তমানে পুরুষ নির্যাতনের হার শতকরা ৪৫ ভাগ যা নারী নির্যাতনের তুলনায় ৫ ভাগ বেশী। পুরুষ নির্যাতনের ধরনটি একটু আলাদা যেখানে নির্যাতিত পুরুষকে শারীরিক নির্যাতনের থেকে অনেক বেশী মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়। আর তাছাড়া সামাজিক মর্যাদা, লোকলজ্জা এবং সন্তানের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে বেশির ভাগ পুরুষ এই নির্যাতনকে প্রকাশ না করে অমোঘ নিয়তি বলে মেনে নেয়। যা সমাজে এই নির্যাতনকে আরও বেশী বিস্তৃত করে।
উদাহরণ সরূপ আমরা তালাকের প্রসঙ্গটি নিয়ে আসতে পারি। একটি হিসাবে দেখা যায় ৩০ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে নারীর তালাকের আবেদন ৭০ শতাংশ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে তালাকও পারিবারিক নির্যাতনের অন্যতম এক হাতিয়ার। এই তালাকের ভয় দেখিয়ে যেমন স্ত্রী তার স্বামীকে তার মা বাবা থেকে আলাদা করে ফেলতে সক্ষম হয় ঠিক তেমনি নানা রকম অন্যায় দাবী মেনে নিতে বাধ্য করতেও সক্ষম হয়। ঠিক একইভাবে পুরুষও তালাকের ভয় দেখিয়ে স্ত্রী নির্যাতন করেও পার পেয়ে যায়। কাজেই তালাককে আমরা পারিবারিক নির্যাতনের একটি হাতিয়ার বলতেই পারি। এর বাইরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম, উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা, সন্তানদের প্রতি উদাসীনতা, ননদ শাশুড়ির সাথে ঝগড়া বিবাদ, স্বামীর সাথে ঝগড়া করা এমনকি কখনো কখনো মারামারি শুরু করে দেয়া। এসবই পুরুষ নির্যাতনের অংশ। স্ত্রী কর্তৃক অথবা স্ত্রীর প্রেমিকের হাতে স্বামী খুন এসব এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নারী নির্যাতনের মাত্রা ততটাই কমবে নারী যতটা স্বাবলম্বী হবে সচেতন হবে। সেইসাথে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হলে নারী নির্যাতনের হার অনেকটাই কমে যাবে বলে আমরা আশা করতে পারি। কিন্তু পুরুষ নির্যাতনের এই যে ক্রমবর্ধমান হার এটা কমবে কি করে বা এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়টাই বা কি সমাজবিজ্ঞানীদের সেটা ভেবে দেখা জরুরী বলে মনে করি।

নারী নির্যাতন যে একটি বাস্তবতা এটা যেমন নারী নির্যাতনকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে ঠিক তেমনি পুরুষ নির্যাতনের এই বাস্তবতাও মেনে নিয়ে একে প্রকাশ্যে আনা উচিত। এটা আমাদের সামাজিক কাঠামোকে সুসংহত করতে সাহায্য করবে। নয়ত সামাজিক অবক্ষয়ের যে ধারা চলছে তা চলতে থাকলে আগামীতে এটা মানবিক মূল্যবোধ হীন একটি ছন্নছাড়া সমাজে পরিণত হতে বাধ্য। হাজি সেলিমের মত অন্যান্য আইন প্রণেতা গন বিষয়টিকে আরও বেশি গুরুত্ব দিবেন সেটাই কাম্য। সে ক্ষেত্রে যদি আইন প্রণয়ন করতে হয় করবেন। সেই সাথে আরেকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি তা হল নারী নির্যাতন প্রতিরোধ আইনটি পুরুষের জন্য একটি ভয়ঙ্কর আইন এই প্রচারণার পাশাপাশি এটাও প্রচার করা প্রয়োজন যে এই আইনের আওতায় মিথ্যে মামলার জেরে বাদীকেও সাত বছরের জেল দেয়া যেতে পারে। কেননা নারী নির্যাতন আইনের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাক মেইলের যে প্রবণতা লক্ষ করা যায় এতে অন্তত সেখান থেকে কিছুটা রেহাই মিলবে।

আমরা প্রতিটি পরিবারে একটি সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ চাই। যা প্রতিটি শিশুকে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন দায়িত্ববান করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। স্বামী স্ত্রী একে অন্যের প্রতিপক্ষ না হয়ে পরিপূরক হয়ে উঠুক। নিশ্চিত হোক প্রতিটি শিশুর জন্মগত অধিকার।

kmgmehadi@gmail.com