ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

images (1)
ইসলামের কোথায় আছে ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বললেই তাকে খুন কর। যারা এই কাজগুলো করছে তারা এ পর্যন্ত কজন মানুষের কাছে ইসলামের আদর্শ পৌঁছে দিয়েছে? তারা নিজেরাই কি ইসলামী আদর্শে আলোকিত? মহানবী (সঃ) ইসলাম বিরোধী কথা বলায় কজন মানুষ খুন করেছেন?

এই হত্যাকারীরা এই সব হত্যাকাণ্ডের সাথে সাথে একটু একটু করে যে ইসলামকেও খুন করছে তা কি তারা জানে? যদিও ইসলামের হেফাজত আল্লাহ নিজেই করবেন তথাপি এরা ইসলামের শান্তিবাদী রূপটিকে ক্রমশই ভয়ঙ্কর জঙ্গিবাদে পরিণত করছ।

এই যে ধারা এ দেশে শুরু হয়েছে সহসা এর থেকে নিস্তার মিলবে না সে কথা সেদিনই বলেছিলাম যেদিন হেফাজতের আমীর তার অনুসারীদের হাতে “ব্লগারদের ফাঁসি চাই” লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে দিয়েছিলেন।

ব্যবহার শেখানোর পূর্বেই হাতে মারণাস্ত্র তুলে দেবেন আর পরে তা প্রতিরোধে নামবেন। এসব নাটক ছেড়ে সঠিক কাজটি করুন।

খুঁজে বার করুন ছেলেদেরকে কারা এসব তত্ত্ব শেখাচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্যই বা কী? প্রথমে তাদের ধরুন তারপরে এই ছেলেদের সঠিক জ্ঞান দানের ব্যবস্থা করুন। নয়ত এই বিষবৃক্ষ একদিন সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সব ছাই করে দিবে!

ভেবে দেখুন ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ। যারা প্রকাশ্যে অন্তত নিজেদের অসাম্প্রদায়িক বলে দাবী করে। ঠিক এই সময়েই এভাবে একের পর এক ব্লগাররা খুন হচ্ছে।
আবার ভাবুন সরকার নির্লিপ্ত না হলেও খুব যে তৎপর তাও মনে হচ্ছে না।
ইসলামের দোহাই দিয়ে খুন করা হচ্ছে অথচ ইসলাম এভাবে খুন করাকে সমর্থন করে এটা যেমন কেউ বলছেন না ঠিক তেমনি এর বিরুদ্ধে কোন ইসলামী দল এবং বিএনপিও সোচ্চার হচ্ছেনা।
ঠান্ডা মাথায় ভাবুন আজ ধরা পড়া দুজন বলেছে, ‘ব্লগ কি বুঝি না, আর তার লেখাও আমরা দেখিনি। হুজুরের পরামর্শ, সে ইসলামবিরোধী। তাকে হত্যা করা ঈমানি দায়িত্ব। আর সেই ঈমানি দায়িত্ব পালন করতে ওয়াশিকুরকে হত্যা করেছি’।”
প্রশ্ন হচ্ছে সেই হুজুর তাহলে কে?
আরো একবার ভাবুন টিভি টক শো জুড়ে আজও নির্বাচন ছাড়া কেন আর কিছু নেই। এই হত্যাকাণ্ডগুলি কি তবে গ্রহণযোগ্য?
ভাববার বোধহয় অনেক কিছুই রয়েছে। আমরা কি যেভাবে ভাবা উচিৎ সত্যিই সেভাবে ভাবছি?

ওয়াশিকুর বাবু’র প্রোফাইল পিকচারে এখনো ‘I am Avijit’ লেখা আছে। এটা আর কেউই কখনো পরিবর্তন করবে না। এভাবেই হয়ত সব বাবু’রা মিলে একদিন একটি অভিজিৎ হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরে কি হবে?
আমার প্রশ্নটা তাদের কাছে যারা এই হত্যার মিশন চালাচ্ছেন, শিয়া-সুন্নিতে কেন এত বিবাদ। এত হত্যাকাণ্ড? সেই উত্তরটি কি আপনাদের কাছে আছে?
যে নবীজীর (সঃ) অবমাননার দায়ে আপনারা খুন করছেন বলে দাবী করছেন সেই নবীজী কি বূড়িমা’কে খুন করেছিলেন অথবা তায়েফ বাসিদের?
তাহলে আপনারা আসলে কাঁর অনুসারী?
খুন করে পালিয়ে যাবেন নতুন খুনের ছক কষবেন!
ইসলাম যার হাত ধরে এসেছে তিনি কি এই চোরাগোপ্তা হামলা করেছিলেন বা তার সাহাবী এমনকি তাঁবেই, তাবেঈন। যাদের পরে মুসলমানদের আর কাউকে অনুসরণের সুযোগই নেই।

পবিত্র কুরআনে সুরা আশ শুরার আয়াত ৫ এ আল্লাহ পাক বলছেন, “যারা আল্লাহ ব্যতীত অপরকে অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করে,আল্লাহ তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। আপনার উপর নয় তাদের দায়-দায়িত্ব।”
একই সুরার আয়াত ১৫ এ আল্লাহ পাক বলেন, “সুতরাং আপনি এর প্রতিই দাওয়াত দিন এবং হুকুম অনুযায়ী অবিচল থাকুন; আপনি তাদের খেয়ালখুশীর অনুসরণ করবেন না। বলুন, আল্লাহ যে কিতাব নাযিল করেছেন, আমি তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমি তোমাদের মধ্যে ন্যায় বিচার করতে আদিষ্ট হয়েছি। আল্লাহ আমাদের পালনকর্তা ও তোমাদের পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। আমাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে বিবাদ নেই। আল্লাহ আমাদেরকে সমবেত করবেন এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তণ হবে।”
সুরা আশ শুরার আয়াত ৪৮ এ মহান আল্লাহ বলেন, “যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আপনাকে আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি তাদের রক্ষক করে পাঠাইনি। আপনার কর্তব্য কেবল প্রচার করা। আমি যখন মানুষকে আমার রহমত আস্বাদন করাই, তখন সে উল্লসিত, আর যখন তাদের কৃতকর্মের কারণে তাদের কোন অনিষ্ট ঘটে, তখন মানুষ খুব অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।”
উপরোক্ত আয়াত সমুহের ব্যাখ্যায় আপনারা কি বলবেন? উপরোন্ত আলোচ্য বিষয়ে মহান আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায় বলেই মনে করি। কাজেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সঠিক জ্ঞানের বিকল্প নেই। প্রয়োজন সঠিক বিচার বিশ্লেষন।

তবে এটাও ঠিক উদ্ভুত সমস্যা মোকাবেলায় ব্লগ এবং ব্লগার সম্পর্কে যে নেতিবাচক ধারনা তৈরী হয়েছে সর্বাগ্রে তা দুর করাটা বেশী জরুরী। সেইসাথে ব্লগারদেরও অনেক বেশী দায়িত্ববান হওয়া জরুরী বলে মনে করি।