ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

11047873_367224090130659_7565000729632423448_n
তখনো দিনের আলো একেবারে ফুড়িয়ে যায়নি কেবল সন্ধ্যা নেমেছে। ঠিক সেই সময়ে সহস্র লোকের সম্মুখে একটি মেয়ে এমনভাবে শ্লীলতাহানির স্বীকার হল যে, তার শরিরের উর্ধাংশ ঢাকার মত এক টুকরো কাপড়ও তার কাছে আর অবশিষ্ট রইল না! সে নুয়ে পড়ে কোনমতে নিজের লজ্জা ঢাকার আপ্রান চেষ্টা করছে। উপরের ছবিটা সেই সাক্ষই দিচ্ছে। এটা কি শুধুমাত্র একজন বা ক’জন মানুষের পশু বৃত্তির বহিঃপ্রকাশ মাত্র?
আর একজন নারীই বা কেন বলছি? প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, বেশ কজন নারীই সেদিন এমনভাবেই শ্লীলতাহানির স্বীকার হয়েছিলেন। যাদের মধ্যে স্বামীর সঙ্গে আসা, এমনকি স্বামী সন্তান সহ বেড়াতে আসা নারীরাও ছিলেন। বলা হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ দল কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে এই কুকর্মটি করেছিল। এতেই প্রমাণিত হয় বিষয়টি আকস্মিক কোন দুর্ঘটনা হয়। এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অপরাধ। যারা এর জন্য দায়ী তারা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল। কেননা স্বামী স্ত্রীর মাঝখানে গিয়ে দাঁড়িয়ে সুপরিকল্পিত ভাবে এক একজন নারীকে আলাদা করে নিয়ে এই পৈশাচিকতা চালান হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা টিভি ক্যামেরার সামনে বর্ণনা করেছে। বর্বররা টেনে হিঁচড়ে এক একজন নারীকে অর্ধ উলঙ্গ করেছে। উদ্ধারকারীদের কেউ নিজেদের গায়ের চাদর দিয়ে, কেউবা গায়ের সার্ট খুলে দিয়ে তাদের লজ্জা ঢাকার ব্যবস্থা করেছেন।
আক্রমণকারীরা এতটাই উন্মত্ত ছিল যে তাদের নিবৃত্ত করতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র নেতা তাদের দ্বারা আক্রান্ত পর্যন্ত হয়েছেন! যাতে তার একটি হাতও ভেঙ্গে যায়। এরপরেও কি করে এটাকে একটি সাধারণ ঘটনা বলা যায়?

একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন, এ দেশে এমন ঘটনা সচরাচর ঘটেনা। তাহলে এমন একটি দিনে এমন একটি স্থানে এত মানুষের উপস্থিতিতে কেন ঘটল? এমন নয় যে, ওখানে তাঁরা মাতলামি করছিল। তাহলে সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ হয়ে এমন কাজ কেন করতে গেল? এমনও নয় যে, আক্রান্ত নারীদের সাথে কারো পূর্ব শত্রুতা ছিল যার যেরে কেউ তাদেরকে হেনস্তা করতে এটা করেছে।
আবার পারিপার্শ্বিক কারণে আপনি একে ধর্ষণ চেষ্টাও বলতে পারছেন না। তাহলে তো এ প্রশ্ন উঠতেই পারে। এটা কি নিছকই কোন শ্লীলতাহানির চেষ্টা নাকি এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল?

প্রতিটি কাজেরই পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে এখানেও ছিল। এখন সেই কারণটা খুঁজে বেড় করাই জরুরী। কারা করেছে সেটা বড় কথা নয়, কেউ করেছে এটাই আসল কথা। অপরাধ করার পূর্ব পর্যন্ত একজন মানুষের জন্য সবার দরজাই খোলা থাকে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরে দায়ী ব্যক্তিদের কেউ আশ্রয় প্রশ্রয় দিল কিনা সেটাই প্রশ্ন।

আমাদের দেশ থেকে কিছু ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছিল। গত কয়েক বছর ধরে তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছিল। ঠিক এ সময়ে এ ধরনের ঘটনা যে সেই প্রচেষ্টাকে বাঁধাগ্রস্ত করবে সন্দেহ নেই। সেই সাথে দেশের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিটি যুদ্ধের সূতিকাগার যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যে টিএসসি চত্বর সেই চত্বরেই যখন এমন একটি ঘটনা ঘটান হয় যা স্বাভাবিকভাবেই বিশাল প্রচার লাভ করে তার পেছনে যে কোন বিশেষ উদ্দেশ্য নেই তা ভাবাটাই বা কতটা যৌক্তিক?

থার্টি ফাস্ট নাইট এর অনুষ্ঠানসমূহ রাতে আয়োজন করা হয় বলে প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করে। চেষ্টা করে অনুষ্ঠানগুলোকে উন্মুক্ত স্থানে যাতে না হয়। কিন্তু আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির অনুষ্ঠান সমূহে বেলেল্লাপনা হয়না বলেই তাকে উন্মুক্ত স্থানে করার সুযোগ দেয়া হয়। আর এ ক্ষেত্রেও কোন বেলেল্লাপনার অভিযোগ ছিল না তথাপিও ভুক্তভোগীরা চরম অমানবিকতার স্বীকার হল। এটা যে পূর্বপরিকল্পিত নয় সেব্যাপারে কি করে নিশ্চিত হব?

এর ফলে কি হবে নারী-পুরুষ স্বেচ্ছায় আনন্দ উৎসবে যোগ দেবে না। পরিবার পরিজন নিয়ে মানুষ কোন বিশেষ উপলক্ষে ঘর থেকে বেরুতে সাহস পাবে না। উৎসবমুখর এই জাতীর জাতীয় উৎসব সমূহ প্রাণহীন হয়ে পড়বে। পুনরায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে শুরু করবে প্রাণের উৎসব সমূহ। কারা তা চায় আমরা কি তা জানি না?

এই ঘটনাটিকে তাই নিছকই কতগুলি উচ্ছৃঙ্খল যুবকের উচ্ছৃঙ্খলতা ভেবে বসে থাকা সঠিক হবে না। আপনি এর সাথে আরো যা যুক্ত করতে পারেন তাহল উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা কেন এগিয়ে এল না? কেন ঐ নির্দিষ্ট স্থানের ল্যাম্প পোষ্ট গুলির বাতি জ্বলল না। এমন আরো অনেক প্রশ্ন যা আপনাকে আতঙ্কিত করে তুলবে। এখন প্রশ্ন হল সাধারন মানুষ ভাবলে তো আর হবে না যারা ভাবতে শিখলে সাধারন মানুষ পরিত্রান পাবে তাদের কি ভাবার সময় আছে? তাঁরা কি নির্মোহ বিচার বিশ্লেষনে সক্ষম হবেন?
kmgmehadi@gmail.com