ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

04_36_38_05
চেয়ারে বসে নামাজ বৈধ কি অবৈধ তা নিয়ে যে পরিমান তোলপাড় শুরু হয়েছে তার অর্ধেকও যদি এটা নিয়ে হত যে, ’একমাত্র নামাজই মুসলিম এবং কাফেরের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে’ বোধ করি মহান আল্লাহর কাছে তা অনেক বেশি গ্রহনযোগ্যতা পেত। যে ফতোয়াটা দেয়া হল তা অসুস্থ্য মুসল্লিদের মসজিদে আসতে নিরুৎসাহিত করবে কিনা সেটাও একটি প্রশ্ন। কারন যিনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ি সাধারনের মত বসতে পারেন না। যাকে টয়লেটে কমোড এবং নামাজের ক্ষেত্রে চেয়ার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। তিনি মসজিদে গিয়ে চেয়ার ছাড়া নামাজ পড়বেন কী করে? ইসলাম কোন কাজে নিষেধ করলে তার পেছনে যেমন যৌক্তিক কারন দেখায় তেমনি তার বিকল্পও বলে দেয়। এখানে তেমনটি হয়নি যা প্রশ্নের উদ্রেক করবেই।

ফাতওয়ার পাঁচ নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, ‘মসজিদে চেয়ার ঢুকিয়ে তাতে আসন গ্রহণ করা, রাজাধিরাজ, শাহানশাহ আহকামুল-হাকেমীন-এর শাহী দরবারের আদব পরিপন্থী বিধায় তা বৈধ নয় এবং তাতে বসে নামাজ আদায়ও বৈধ নয়।’ এখানে প্রথম প্রশ্ন হল তাহলে কি ঘরে বসে চেয়ারে নামাজ পরা বৈধ? একজন আল্লাহর বান্দা যখন মসজিদে নামাজের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন তখন সে শাহানশাহ আহকামুল-হাকেমীন এর দরবারে সর্বান্তকরনে নতজানু হয়েই প্রবেশ করে। নিজেকে সে তুচ্ছাতিতুচ্ছ জ্ঞানেই মহান আল্লাহর দরবারে নিজেকে পেশ করেন সে ক্ষেত্রে সে মহান রাব্বুল আল আমিনকে সন্তষ্টু করার সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করবে এটাই স্বাভাবিক। এখানে যদি সে তার শারীরিক অক্ষমতার কারনে সেজদায় লুটিয়ে পড়তে না পারেন তাহলে কি নামাজ আদায় থেকে বিরত থাকবে নাকি যেভাবেই হোক তাকে সাধারন মানুষের মত করেই নামাজ পরতে হবে?

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে আমাদের সমাজে বহু পূর্ব থেকে এমন কিছু ধারনা বদ্ধমূল ছিল যা মানুষের নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত যেমন অনেকে মনে করতেন দোয়া কুনুত ছাড়া বিতর’র নামাজ হয়না বিধায় এশার নামাজই পরতেন না। অথচ এশার নামাজই আলাদা। যা এখন দূরীভূত হতে শুরু করেছে ঠিক এমন সময় এমন এক অসম্পূর্ন ফতোয়া আমাদের বিভ্রান্ত করছে।

পরিশেষে এটাই চাওয়া, এমন যেন না হয় যে একজন নামাজি একটি ফতোয়ার কারণে নামাজ আদায় থেকেই বিরত থাকলেন।