ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

কোন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষের কাছে ক্রাইম পেট্রোল বা এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলি ভাল লাগার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ভাল লাগছে। বুঝি বা একটু বেশিই ভাল লাগছে। যে কারণে নিত্য নতুন নামে বিভিন্ন চ্যানেল এই অনুষ্ঠান গুলি বানাচ্ছে। অবাক লাগে যখন দেখি একজন মানুষ কিভাবে আরেকজনকে খুন করেছিল কিংবা ধর্ষণ করেছিল তা দেখতে আমরা উন্মুখ হয়ে বসে থাকি! এটা কি আসলে কোন সুস্থ বিনোদনের পর্যায়ে পড়ে? এই দৃশ্য কল্প যে আরেকজনকে একই পরিস্থিতিতে এমন একটি দুর্ঘটনা ঘটাতে উদ্বুদ্ধ করছে না তার নিশ্চয়তা কি?

আমরা যখন প্রথম ভারতে বাসে-ট্রেনে ধর্ষণের ঘটনাগুলো শুনতে পেলাম তখন মর্মাহত হওয়ার পাশাপাশি আশ্চর্যও কম হইনি। কেননা ওটা ছিল তখন আমাদের ধারনার বাইরে। অথচ খেয়াল করুন এখন এ দেশেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। এটা কি নিছকই কাকতালীয় না কি একজনের অপরাধ করা যে অন্যজনকেও অপরাধ করতে উৎসাহিত করে তার প্রমাণ? আমাদের মিডিয়া বাঙ্গালির অতি আবেগের রোগে রোগাক্রান্ত। সেটা প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অপ্রয়োজনীয় বাড়াবাড়িই বলে দেয়। আর এই রোগটির সাথে যুক্ত হয়েছে কোন পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই বিদেশী চ্যানেলের অনুষ্ঠান কপি করার বাজে প্রবণতা।

মিডিয়া যদি দায়িত্ববান না হয় তাহলে সমাজে অস্থিরতা বাড়বেই। এটাই স্বাভাবিক। মিডিয়ার দায়িত্বপূর্ণ আচরণ যে কতটা সুফল বয়ে আনে তা তো পেট্রোল বোমা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থানেই প্রমাণিত হয়েছে।
ঠিক একই ভাবে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এমন অনুষ্ঠান নির্মাণ থেকেও তারা বিরত থাকবেন আমরা সেটাই আশা করি।

একটু ভাবুন ক্রাইম ফিকশনগুলির বিপরীতে যদি একটি হত্যাকাণ্ড বা ধর্ষণের পরে ভুক্তভোগী এবং তার পরিবারটির দুর্দশার চিত্র ফুটে উঠত। যদি দেখান হত, একজন অপরাধীর সাজাপ্রাপ্তি ও তার পরবর্তীতে সেই পরিবারটির সামাজিক অমর্যাদাকর অবস্থা ও তার স্বজনদের মানসিক পীড়ন, নিদারুণ অর্থ কষ্টে পতিত হওয়া। তাহলে হয়ত বা সমাজে ভিন্ন কিছু পরিলক্ষিত হত। সমাজে এত বেশি অসহিস্নুতা, এত বেশি অপরাধ হয়ত দেখা যেত না। কাজেই কর্তাব্যক্তিদের এটা নিয়ে ভাবার প্রয়োজন আছে। আমরা চাই আমাদের মিডিয়াগুলো শুধুমাত্র অর্থ নৈতিক লাভা লাভকেই বিবেচনায় না রেখে আরও অনেক বেশি সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেবে। একটি অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং প্রচারের পূর্বে সমাজে তার প্রভাব চিন্তা করবে।

kmgmehadi@gmail.com