ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

বিষয়টা যদি এমন হত এদেশের যৌনকর্মীদের আরও একটু ভাল থাকার ব্যবস্থা করতে সরকার আগ্রহীদের হাউজমেডের নামে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমূহে যৌন ব্যবসা করতে পাঠাচ্ছেন। আমাদের তাতে আপত্তি ছিল না। আপত্তিটা এখানেই যেহেতু আমরা জানি আরব সংস্কৃতিতেই দাসীদের যৌন দাসে পরিণত করার রেওয়াজ রয়েছে। তার উপরে আরব যুবকদের বিয়ে করতে হলে যে পরিমাণ অর্থ যৌতুক দিতে হয় তার সামর্থ্য অনেকেরই থাকে না ফলে তাদের আর বিয়ে করাই হয়ে ওঠে না। সেই সাথে রয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদের মত বিষয়। সব মিলিয়ে অনেক আরব পুরুষই একাকী জীবন যাপনে বাধ্য হন। মুলত তারাই নিজেদের জৈবিক চাহিদা মেটাতে গৃহকর্মীকে যৌন দাসী হতে বাধ্য করেন।

এসব এখন প্রকাশ্য সত্য। আর এ কারনেই নেপাল সহ বেশ কিছু দেশ বেশ কয়েক বছর যাবত মধ্যপ্রাচ্যে নারী গৃহ কর্মী পাঠানো বন্ধ রেখেছে। এরপরেও কেন আমাদের দেশ থেকে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমূহে নারী গৃহ কর্মী পাঠানো হচ্ছে?

তারা জানেন না আসলে তারা কি কাজে ব্যবহৃত হবেন। তাদের চোখে একটি রঙিন চশমা এটে দিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তাদেরকে প্রকৃত ঘটনা জানানো হোক। এর পরেও যদি তারা সেচ্ছায় যেতে চান আমাদের আপত্তি নেই। রাষ্ট্র তার নাগরিকের সাথে প্রতারনামুলক আচড়ন করতে পারে না। অতএব এ ব্যপারে শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রনালয়কে ঝেড়ে কাশতে হবে।

আর যদি সেটা সম্ভব না হয় সে ক্ষেত্রে অন্তত মধ্যপ্রাচ্যে অনতিবিলম্বে নারী গৃহকর্মী পাঠানো বন্ধ করা হোক। অথবা এমন একটি ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক যাতে আগ্রহী স্বামি-স্ত্রী একই সাথে একই গৃহে কাজের সুযোগ পান এবং তারা সেখানে একত্রে বসবাসের সুযোগ পান। এতে একদিকে যেমন নারী গৃহ কর্মীরা স্ব স্ব স্বামীর নিরাপত্তায় থাকার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে নারিদের পাশাপাশি প্রচুর পরিমান পুরুষও কাজের সুযোগ পাবেন।

উল্লেখ্য যে, এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যকে নির্দিষ্ট করছি এ জন্য যে, যত অভিযোগ তার সিংহভাগই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সমূহ থেকে এসেছে। আমার জানামতে এ পর্যন্ত যারা হংকং এ গৃহকর্মের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন তাদেরকে এই নির্যাতনের স্বীকার হতে হয় নি।

kmgmehadi@gmail.com