ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

1426056852
সংযুক্ত ছবিটিতে যে ভদ্র মহিলাকে দেখা যাইতেছে তিনি উইনা লিয়া নামের একজন ইন্দোনেশিয়ান বিধবা নারী। তার বিশেষত্ব হইল মাস কয়েক আগে তিনি অনলাইনে একটি বাড়ি বিক্রি করার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে। চাইলে বাড়ির ক্রেতা তাকে বিয়েও করতে পারবেন। অনেকটা বাড়ি কিনলে বৌ ফ্রি এর মত। কাজেই ভাইরাসটি যে শুধুমাত্র এ দেশেই বর্তমান তা নয়। বিশ্বব্যাপীই এই রোগটি মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে। যে রোগে রোগাক্রান্ত ব্যক্তিরা খুব সহজেই একটি অখাদ্যকে সুখাদ্যের দামে কিনে নেন। আবার একটি ব্যবহার অনুপযোগী বস্তুকেও ব্যবহার উপযোগীর দামে কিনে নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগেন।

এই “ফাও” খাওয়ার রোগে রোগাক্রান্ত হইয়া আমাদের দেশে উচ্চ শিক্ষিত গৃহিণীকুল অযথাই একের পর এক পণ্য ক্রয় করিয়া থাকেন। ফাও’য়ের কারণে এত কাণ্ডের পরেও নেসলের ম্যাগি নুডুলসে এখনো বাজার সয়লাব। ফাও’য়ের ইশারায় আমাদের অতি হিসেবি গৃহিণীকুল পর্যন্ত ঘরে হরলিক্স থাকতেও নতুন হরলিক্স কিনতে ছুটেন।

এই যখন অবস্থা তখন আপনি নিশ্চিত থাকুন খাদ্য মন্ত্রীর পাঁচ কেজি পচা গমের সাথে যদি একটি প্লাস্টিকের মহামূল্যবান (!) বাটি ফ্রি দেয়া হয় অতি তাড়াতাড়ি তা আমরা সাবাড় করিয়া ফেলিতে সক্ষম হইব যদিও হজম করিতে পারিব কিনা তা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাই ভাল বলিতে পারিবেন।

তার মানে এই নয় যে, ফ্রী দেয়া মানেই পন্যটি মানহীন। কখনো কখনো এটি পণ্যের প্রচারনার অংশও বটে। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই ফ্রি’র আড়ালে থাকে মানহীন পন্যের দৌড়াত্ম চোখে পড়ে। ক্রেতা সাধারন সেই বিষয়টি যে কতটা মাথায় রাখেন তা দেখতে পাই যখন মার্কস, ড্যানিশ মিল্ক পাউডার হঠাতই ফ্রি বদৌলতে মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরির উপাদান থেকে রাতারাতি বাচ্চাদের খাওয়ার উপযোগী দুধ হোয়ে উঠতে দেখে।

এই “ফাও”যে কতটা মর্মান্তিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে প্রতবছরের মত এবারও তার আরেকটি রিহের্সাল আমরা ময়মনসিং এ দেখতে পেলাম। যেখানে দাতা যাকাত দেয়ার মাধ্যমে “ফ্রি” নাম কিনতে চাইলেন। আর গ্রহিতা যাকাত নেয়ার নামে “ফ্রি” কাপড় নিতে চাইলেন। ফলাফল হল “ফ্রি” এর খবরে আমরা এমনই মাতাল হয়ে গেলাম যে, পরিধানের অনুপযুক্ত জানিয়াও একখান শাড়ি বা লুঙ্গি ‘মুফতে’ পেতে অবলীলায় আমরা অন্যকে পদপিষ্ট করে মেরে ফেলতে পারলাম। আপনি কি মনে করেন এই লোকগুলো এর পরে আর কোনদিনই এমন ফ্রি’র পেছনে আর ছুটবেন না?

ভুল, এ মোহ এমন মোহ হিতাহিত জ্ঞানকে যে লোপ পাইয়ে দেয়। তারা এর পরেও ফ্রি’র গন্ধে এমনই পাগল পারা হয়ে উঠবে আর ঠিক একই আচরন করবে।

“ফাও”, “মুফতে” বা ফ্রি আপনি যে নামেই ডাকুন না কেন ইহা এমনি একটি ভাইরাসের নাম যা ভীষণ ছোঁয়াচে একটি রোগের একমাত্র জীবানুবাহক। রোগাক্রান্ত ব্যক্তি খুব দ্রুতই বেকুব এমনকি অমানুষে পরিণত হইয়া পরিতে পারে।

কাজেই সুস্থ থাকতে হলে এই ভাইরাসটি থেকে দূরে থাকুন। নিজে বাঁচুন অন্যকেও বাঁচতে সাহায্য করুন।

kmgmehadi@gmail.com