ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে ছাত্রলীগের প্রয়োজন আছে। বিএনপি বিশ্বাস করে ছাত্রদলের প্রয়োজন আছে। তেমনি জামায়াতের শিবির, বামদের মৈত্রী। ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোই কেন অনুভব করে। কেন সাধারণ মানুষের কাছে এর কোন আবেদন নেই। সেটি কি ছাত্র রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা একটিবারও ভেবে দেখেছেন?

তারা কি এর কুৎসিত রূপটি একটিবারও দেখতে পান বা আদৌ দেখতে চান? ছাত্র রাজনীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলা হয় অথচ সে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া হয়না। মূলত গৌরবোজ্জ্বল সে ইতিহাস কপচে বর্তমানের এই লেজুড়বৃত্তির রাজনীতিটাকে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়। অথচ এটা স্পষ্ট যে ষাট, সত্তুর এমনকি আশির দশকের মত নেতাও আর এই ছাত্র রাজনীতি থেকে বেড়িয়ে আশার সম্ভাবনা নেই। এরা বরং রাজনৈতিক দলগুলোর ভ্যান গার্ড হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে এবং হবে।

সাধারণ মানুষ তো আজ তাই এ প্রশ্ন করতেই পারে যে, আমাদের মেধাবি সোনার ছেলেরা কেন আপনাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য আত্মাহুতি দেবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মেধাবি এবং শিক্ষিতরাই ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসবে। তিনি যদি এর সাথে সততা-মানবতা আর দেশপ্রেমকে জুড়ে দিতেন আমরা কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হতে পারতাম।

ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজন নেই, এটা আমি বলছি না। তবে তা হতে হবে ছাত্রদের স্বার্থ সংরক্ষনে, একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য নয়। সেটা পরিচালিত হতে হবে দেশের স্বার্থে মানুষের স্বার্থে। আজ যদি ছাত্রলীগ মূল দলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে পারত তাহলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারতাম। যদি ছাত্র সংগঠনগুলো এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশ বিরোধি সকল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে পারত, তাহলেও আমরা এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে পারতাম।

অথচ আমরা এদের দায়িত্ব বলতে শুধুমাত্র মুল দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নকেই দেখতে পাই। তাহলে আর একে ছাত্র সংগঠন কেন বলছেন? কেন মূল দলের অঙ্গ সংগঠন বলছেন না। প্রতারণা শেখাচ্ছেন আবার তাদের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করতে বলছেন। এটাও তো প্রতারণাই হয়ে যাচ্ছে।

যেদিন এই ছাত্র সংগঠনগুলো তাদের কর্মকাণ্ড দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণে সক্ষম হবে সেদিনই কেবল তাদের রাজনীতি সফলতার মুখ দেখবে। আমরা সে দিনটির অপেক্ষাতেই থাকলাম।

kmgmehadi@gmail.com