ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

wpid-505249bbee57986ee8aad8ae06d76700-1
একুশ লাখ সরকারি চাকুরের বেতন বাড়ল, বলা যায় উল্লম্ফন দিল। তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এ পোড়া দেশে কোন সরকারই তো কখনো কোন কিছুর প্রভাব কি হবে সে চিন্তা করে সু সমন্বিত উদ্যোগ নেয় না। ফলে প্রতিটি সমস্যাই সমাধানের চেষ্টায় তা সমাধান তো হয়ই না বরং তা গভীর থেকে গভীরতর হয়।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই বেতন বৃদ্ধির সাথে সাথে বেসরকারি চাকুরীজীবীদের যে বেতন ভাতা বৃদ্ধি পাবে না তা বলাই বাহুল্য। এটা নিয়ে সরকারের কোন মাথাব্যথাও আছে বলে মনে হয় না। অথচ এই বেতন বৃদ্ধির সাথে সাথে বাজারে এর যে প্রভাবটা পরবে তার আঁচ সরকারী চাকুরীজীবীদের গায়ে এসে না লাগলেও বেসরকারি সংস্থার চাকুরে থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া মানুষ এমন কি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যে গায়ের চামড়া পর্যন্ত সে আচে ঝলসে যাবে তাতে সন্দেহ নেই। তার মানে এই নয় যে আমি এই বেতন বৃদ্ধির বিরোধী। আমার কথা হল একই সাথে সরকার কেন একই হারে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের নির্দেশ দিচ্ছে না।

সরকারি নির্দেশ দিলেই যে সবাই তা মেনে নেবে তা হয়ত নয়। অন্তত সাধারণ মানুষ এটুকু তোঁ বুঝবে যে বেসরকারি সংস্থায় চাকুরীজীবীদের নিয়েও সরকার ভাবছে। যেমনটা ভেবেছে পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে।

সরকারি এমন একটা নির্দেশনা থাকলে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা যেমন একটা বাধ্য বাধকতা উপলব্ধি করবে। একটা চাপের সম্মুখীন হবে ঠিক তেমন ঐ সব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও তাদের দাবীর পক্ষে একটি নৈতিক সমর্থন লাভ করবে।

বর্তমান ধারায় চলতে থাকলে তো আমরা পুনরায় সেই বাদশাহি আমলে ফিরে যাব। যেখানে একদল রাজা(রাজার কর্মচারী) আর সব প্রজা। আমরা বা আমাদের সরকার নিশ্চয়ই সম্পদের সুষম বন্টন না চাইলেও অন্তত অতটা অসমতা সমর্থন করেন না?

kmgmehadi@gmail.com