ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

east_west_univ_321200
আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নামে এখন যা চলছে তাকে ব্যবসা ছাড়া অন্য কিছু বলার জো নেই। প্লে থেকে মাস্টার্স ২৫০০ থেকে ২,৫০,০০০ টাকা টিউশন ফি এ নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। সরকার কেন শিক্ষার উপর ভ্যাট আরোপ করল এটাই বড় প্রশ্ন। আমরা আমাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখি সরকারকে। সরকার কে? সরকারের অংশ কারা, সে প্রশ্ন আমাদের কাছে অবান্তর। আচ্ছা, ঠিক আছে মেনে নিচ্ছি এটা নিয়ে অনেক তর্ক হতে পারে। আপনারা তর্ক করুন। পক্ষে যুক্তি দিন বিপক্ষে যুক্তি খণ্ডান তাতে আমাদের কোন সমস্যা নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কিসের আন্দোলন? সেটা আগে পরিষ্কার করুন। উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা শ’য়ে শ’য়ে গাড়ি আটকে দিলেন আবদুল্লা পুরের পরে। হাউস বিল্ডিং এর সামনে থেকে একটি রিকশা পর্যন্ত রাস্তা পার হতে পারছে না।

আজকের গরমে গাড়ির মধ্যে আটকে পরা হাজার হাজার মানুষের কি অবস্থা হতে পারে যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িগুলো আটকে আছে। শিশু-নারী থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষ এই সব গাড়ির মধ্যে আঁটকে আছে। ঠিক একই ভাবে মহাখালী এবং অন্যান্য স্থান থেকে ছেরে আশা গাড়িগুলোরও একই অবস্থা। রাজউক কলেজ বিল্ডিংয়ের গায়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা “মানুষ হওয়ার জন্য শিক্ষা” এইসব গাড়িতে আটকে পরা মানুষগুলোকেই যেন উপহাস করছিল। যে শিক্ষা মানুষের মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করে না। সে শিক্ষা দিয়ে আমরা কি করব?

আপনি ক্ষুব্ধ আপনার আন্দোলন করার অধিকার আছে। আপনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিন। আপনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ডাক দিন। আরও অনেক কিছুই আপনি করতে পারেন কিন্তু সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কিসের আন্দোলন।

একজন বলছিল ভাই এরাই কিন্তু আগামি দিনে দেশের হাল ধরবে। উত্তরে বললাম ভয়টা তো সেখানেই। আজ যে ছাত্রকে দেখলাম লোকাল বাসে উঠে ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডা করছে। ছাত্রত্বের দোহাই দিয়ে দুই টাকা কম দিয়ে ভুবন জয়ে রাস্তায় নেমে এগার টাকায় কিনে বেন্সন এন্ড হেজেজ সিগারেট ফুকতে শুরু করছে কাল সেই যখন দেশের হাল ধরবে তখন দেশের অবস্থাটা কি দাঁড়াবে? আসলে আমরা কি শেখাচ্ছি ? যারা শেখানোর দায়িত্বে আছেন তারা নিজেরাই তো দলাদলি আর স্বার্থের দ্বন্দ্বে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছে। আগামীর দিনগুলিতে আলোর বড় অভাব দেখা দেবে সে আজকের শিক্ষার্থীদের দ্বায়িত্বহীন আচরণই বলে দিচ্ছে।

বৃদ্ধাশ্রমের এক মায়ের করা আকুতিটা সব সময়ই আমার কানে বাজে। যে মা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে বলেছিলেন, প্রকৃত মানুষ হবে না জানলে অন্তত একটা সন্তানকে অর্ধ শিক্ষিত করে রাখতাম। যার আমি ছাড়া গতি থাকত না আর আমারও শেষ বয়সে অন্তত একটি সন্তানের কাছে থাকা হত। আমাদের এমন শিক্ষিতের চেয়ে মনে হচ্ছে অর্ধ শিক্ষিত প্রজন্মই ভাল। অর্ধ শিক্ষিতরা যদি অবিবেচকের মত কাজ কর এটুকু স্বান্তনা পাব ওরা শিখতে পারেনি বলে মানুষের মত মানুষ হয়নি। মানুষও হবে না আবার সর্বচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত বলে দাবী করবে তাতে কল্যান তোঁ হবেই না শিক্ষার দুর্নাম হবে। আমাদের এমন শিক্ষা চাই এমন শিক্ষিত চাই যারা অন্তত সাধারণ মানুষের কষ্টটা বুঝবে। তাই বলছি, যদি আক্ষরিক অর্থেই মানুষ হওয়ার মত শিক্ষা দিতে পারেন তো দিন নয়ত এমন শিক্ষার কোন দরকার নেই।

kmgmehadi@gmail.com