ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ভ্যাট প্রত্যাহার নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ধরন আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তা নিয়ে লিখেছিও। যার প্রধান কারণটি ছিল সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। যারা সেটা প্রত্যক্ষ করেননি তারা বুঝবেন না।
হাসপাতালে অসুস্থ স্বজনকে দেখার জন্য সাত ঘণ্টা বাস জার্নি করে এসেও যে মানুষটা কাঠফাটা রোদের মধ্যে অচল গাড়ির মধ্যে ঠায় বসেছিলেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিছুতেই হাসপাতাল অব্দি পৌঁছুতে পারছিলেন না। যে বাবা কিছুতেই গ্রামে অসুস্থ মেয়ের কাছে যেতে পারছিলেন না। অথবা যে রোগীটা এ্যাম্বুলেন্সে শুয়ে শুয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন তারাই কেবল জানে সময়টা কত দুঃসহ ছিল।

যদিও ব্যক্তিগতভাবে আন্দোলনকারীদের অনেকেই এ নিয়ে আমার সাথে যুক্তিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন। যেখানে এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করেই নিয়েছেন যে, মানুষকে জিম্মি করে দাবী আদায় করা ছাড়া তাদের কাছে আর কোন বিকল্প ছিল না। আর সেটা যে সত্য তার প্রমাণ আমাদের সরকার বাহাদুর দিলেন এত কিছুর পরে বোধোদয় দেখিয়ে। যাই হোক তাদের সাথে সেই কথোপকথন ছিল খুবই শোভন। সে জন্যে তাদের আরেকবার ধন্যবাদ জানাই।

তবে তার থেকেও অনেক বেশী আশান্বিত হয়েছি তাদের শালীনতা বোধ এবং তাদের জন্য যারা কষ্ট সয়েছেন তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখে। আমরা তো এটাই চাই যে নষ্ট সময়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়েছে। দাবী আদায়ের নামে যে হত্যা, ধ্বংস এতদিন ধরে দেখে এসেছে। এই তরুণদের হাত ধরেই তার অবসান হবে। আশার কথা হল তারা আমাদের আশাহত করেননি।
কিছু কিছু প্ল্যাকার্ড নিয়ে কথা উঠেছে কিছু কিছু যায়গায় ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে তা একেবারেই মামুলী। যদি তাদের আচরণে কিছুটা অভব্যতা থেকেও থাকে তার দায় তাদের নয় দায় আমাদের শিক্ষকদের আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার। আর সে কারণেই এই তরুণদের জানাই অভিবাদন।

আমাদের এই তরুণরা এর আগে শাহবাগে দেখিয়েছে কি করে ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী না নিয়েও দাবী আদায় সম্ভব এবারও তারা সেটাই দেখাল।
তারা আরেকবার প্রমাণ করল এই তরুণরা দেশকে এবং দেশের সম্পদকে ভালবাসে। তারা এ দেশটাকে ভোগ করতে নয় গড়ে তুলতে চায়। যদি এর সাথে মানব প্রেমটা যোগ হত তাহলে তা হত সোনায় সোহাগা। আগামীতে আমরা হয়ত সেটাও দেখতে পাব। সেই দিনেরই প্রত্যাশায় রইলাম।

kmgmehadi@gmail.com