ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

ধর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন? করুন না, কে নিষেধ করেছে? ধর্ম নিজেই বলে জানতে-শিখতে-বুঝতে, এমনকি ভাবতে। ইসলামে জ্ঞানকে আলোর সাথে তুলনা করা হয়েছে। জ্ঞানীকে চক্ষুষ্মান আর অশিক্ষিতকে অন্ধের সাথে তুলনা করা হয়েছে। কাজেই শিখুন, জানুন, আলোচনা করুন। তবে অর্ধেক জেনে বা অন্যের কাছে শুনে দয়া করে লাফ দিয়ে উঠবেন না। আগে নিজে থেকে জানুন-বুঝুন তারপরে অন্যের কাছে নিজের মত প্রকাশ করুন।

সেই সাথে এটাও মাথায় রাখুন; আলোচনা, জ্ঞানার্জন কিংবা জানতে চাওয়া কোনটাই কাউকে ব্যঙ্গ করা, কারো উপড়ে মিথ্যা আরোপ করা বা অন্য কাউকে আঘাত করা বা কষ্ট দেয়া নয়। যা, আপনার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয় আমার কাছে তাই পরম সত্য বলে মনে হতে পারে। আপনি আমায় বোকা ভাবতে পারেন কিন্তু বোকা বলতে পারেন না। পারেন না এই জন্য কেননা একইভাবে আমিও আপনাকে বোকাই ভাবব। বলতে গেলে তো বিবাদ লেগে যাবে। আপনি ধার্মিক হন কিংবা অধার্মিক অশান্তিপ্রিয় নিশ্চয়ই নন। কাজেই বিশ্বাস যার যাই হোক তা তার একান্তই নিজস্ব বিষয়। সেটা নিয়ে কাউকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে রক্তাক্ত করা কোন সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়।

আপনাকে মুক্ত মনের হতে হলে সবার আগে হিংসা, বিদ্বেষ পরিহার করতে হবে। আগে প্রত্যেককে সম্মান করতে শিখুন। প্রত্যেকের কথা মূল্যায়ন করতে জানুন। তবেই না আপনি মুক্ত চিন্তার অধিকারী হতে পারবেন। যে পর্যায়ে নিজেকে দেখাতে চান আগে সে পর্যায়ে উন্নীত তো হন। নয়ত আপনিও হোঁচট খেয়ে পরবেন অন্যরাও বিভ্রান্ত হবে। ব্লগারদের লেখার বিষয় শুধুমাত্র ধর্মের সমালোচনা নয়। সত্যি বলতে কি আমি নিরেট ব্লগারদের কখনোই ধর্মের বিরুদ্ধে কুৎসিত সমালোচনা করতে দেখিও না। ফেসবুকে দুই লাইন মতামত ব্যক্ত করা বা অন্য কারো লেখা কোট করা আর ব্লগিং কি এক?
একজন ব্লগারের সামনে তার দেশ, দেশের মানুষ এমনকি গোটা বিশ্ব। তার সামনে থাকে সহস্র অসংগতি, হাজারটা বঞ্চনার উপাখ্যান। সেই সাথে বিশ্ব ব্যাপী ধর্মকে ব্যবহার করে যে অধর্ম হচ্ছে এ সবই তার আলোচ্য।

হতে পারে আমার ক্ষুদ্রতা, তবে আমি কিন্তু সত্যিকারের ব্লগারদের এমন সব বিষয় নিয়েই লিখতে দেখি। অনাহুত কাউকে আঘাত করে, কষ্ট দিয়ে যারা লিখেন তারা মুক্ত চিন্তা থেকে তা লেখেন না। বরং নিম্ন মানসিকতা থেকেই লেখেন। সাময়িক কোন ফায়দা হয়ত তারা হাসিলও করেন। তবে আখেরে তা তাদের খুব একটা কাজে আসে বলে মনে করিনা। অথচ এইসব লেখার কারণে আজ পুরো ব্লগার সমাজই প্রশ্নবিদ্ধ! এটা কেমন কথা। ক্ষেত্র বিশেষে অনেকেই নিরাপত্তা হীনও। তাই স্বাভাবিকভাবেই সুস্থ ব্লগিং এবং সুস্থ ব্লগ প্ল্যাটফর্ম এটা এখন সময়ের দাবী। তা যে নেই তা নয়। তবে সেখানে যেন কোন অসুস্থতা প্রবেশ করতে না পারে সেটাও লক্ষ রাখা জরুরী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর ব্লগকে এক করে ফেলাটা বোধ হয় ঠিক হচ্ছে না। আর তাই আমার দাবি ফেসবুক একাউন্ট থেকে করা স্ট্যাটাসের উপর ভিত্তি করে দয়া করে কাউকে ব্লগার ট্যাগ লাগিয়ে দেবেন না। বিভিন্ন ব্লগ সাইটে যিনি নিয়মিত লেখেন, নিজের লেখার দায়ভার নেয়ার সৎ সাহস রাখেন কেবল তাদেরকেই ব্লগার বলুন। বেনামি/ ছদ্মনামি একাউন্ট থেকে মতামত প্রদানকারীকে আর স্বনামে লেখা ব্লগারকে এক কাতারে ফেলাটা যৌক্তিক বলে মনে করি না। কাজেই উভয় দলকে আলাদা করে দেখা উচিৎ। এতে করে ব্লগাররা কিছুটা হলেও নিরাপদ হবে। যার যা অন্যায় তা তার। একজনের অপরাধের বোঝা সকলের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া অনুচিত, অন্যয়।

kmgmehadi@gmail.com