ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

usbanglabg_939070628

সময় সন্ধ্যা সাতটা পঁয়তাল্লিশ মিনিট, স্থান শাহজালাল বিমানবন্দর, ঢাকা। ইউএস বাংলার বিএস-১০৯ ফ্লাইটটি রানওয়ের দিকে রওনা হতেই একটা ফোন পেয়ে থেমে গেল। হঠাৎ বলা হলো সবার বোর্ডিং পাস হাতে তুলে দেখানোর জন্য। যথারীতি তাই করা হলো। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল বোরখা পরা অল্প বয়সী এক তরুণী টিকিট বিহীন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলল, টিকিট হারিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু বোর্ডিং সংখ্যার সঙ্গে যাত্রী সংখ্যা মিলছে না, তরুণীর কোনও লাগেজ বা অভিভাবকও নেই। যাত্রী বোঝাই উড়োজাহাজে ওই একটি মাত্র সিটই খালি ছিল।’ ওই ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উড়োজাহাজটি ঘিরে ফেলে এবং যাত্রীদের নামিয়ে নেয়। এ সময় প্রত্যেক যাত্রীকে তল্লাশিও করা হয়। পরে ওই তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রশ্ন হল ‘বোর্ডিং পাস ছাড়া চারটি চৌকাঠ মাড়িয়ে ওই তরুণী প্লেনে উঠল কী করে? ঐ প্লেনে একটি সিটই যে খালি ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন ঐ তরুণী জানলেন কী করে? কে তাকে ঐ পর্যন্ত পৌঁছে দিল? নাকি ইতালিয়ান, জাপানি, খ্রিস্টান পাদ্রীর পর এবার যাত্রীবাহী প্লেনই আকাশে উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল?

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বলছে, ওই তরুণী ‘জঙ্গি’ নয়, ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’। মেনে নিলাম তরুণী ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ । বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা – কর্মচারীরাও কি ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’? প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী প্রথম দুটি তল্লাশি পয়েন্টে যে সব নিরাপত্তা কর্মী কাজ করেন তারা পেশাদার নন। কারণ তাদের বেশির ভাগই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত!
এ ছাড়াও যে সব ব্যাখ্যা তারা দাঁড় করিয়েছেন তা কি আদৌ গ্রহনযোগ্য?

যেভাবে ৫৭ ধারার খড়গ মাথার উপরে ঝুলে আছে তাতে কোন কথা বলা বা প্রশ্ন করাই দুঃসাধ্য। তারপরেও আওয়ামী সরকারের স্বার্থ তথা দেশের স্বার্থেই প্রশ্নটি করছি। একবার দয়া করে কি ভেবে দেখবেন, টিএসসিতে নারীর শ্লীলতাহানি থেকে শুরু করে বিদেশি হত্যা; যখনই কোন ঘটনা ঘটে তখন সেখানকার সিসি ক্যামেরাগুলো কেন বিকল হয়ে যায়? কেন ঐ সব স্থানে ঠিক একই সময়ে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলে না? এই কেনগুলোর উত্তর দায়িত্বশীলরা এড়াতে পারেন না। সম্ভবত এ সব কেনোর উত্তরের মাঝেই অনেক রহস্যের কিনারাও নিহিত।

শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় নিয়োজিত আর্মড ব্যাটালিয়নের সহকারী কমিশনার নাসরিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আলোচ্য তরুণী মানসিকভাবে অসুস্থ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ তার কাছে প্রশ্ন, আপনার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে যারা মানসিক ভারসাম্যহীন তাদের কি ব্যবস্থা করলেন?

kmgmehadi@gmail.com