ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

handybundle-online
“আদর্শহীনদের আত্মপ্রতিষ্ঠাই মূল লক্ষ” শিরোনামে গত ২৮ জুলাই ২০১৫ তারিখে একটি লেখার এক জায়গায় লিখেছিলাম, “এটা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, আজ যারা মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনস্ক ইত্যাদি তকমা লাগিয়ে উলটা পাল্টা তত্ত্ব হাজির করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির কাজে লিপ্ত তার একটিমাত্র উদ্দেশ্য আর তা হল আত্মপ্রতিষ্ঠা। একই সাথে এটাও বলব ধর্মের নামে বাড়াবাড়িতে যারা লিপ্ত। যারা নিজেদের ছাড়া আর সবাইকে অধার্মিক এমনকি পৃথিবীতে বসবাসেরই অনুপযোগী মনে করে। নিত্য অশান্তি তৈরি করছে। মানুষ হত্যার উৎসবে মেতেছে তারাও কোন আদর্শের জন্য এটা করছে না। আত্মপ্রতিষ্ঠাই তাদেরও একমাত্র লক্ষ।
এই তকমা লাগানো মানুষগুলোর অবস্থানগত পার্থক্য দেখুন। পূর্বের অবস্থার সাথে বর্তমানের পার্থক্যটা লক্ষ করুন। তাদের ইহ লৌকিক সফলতার সাথে মেধা-মনন বা ক্রিয়া কর্মের কোন সাযুজ্য খুঁজে পাবেন না।
এদের কেউ বিশিষ্ট ব্লগার হয়ে উঠেছেন, কেউ বিশিষ্ট লেখক, কেউ বা বিশিষ্ট বুজুর্গ। কিন্তু তাদের লেখনী বা তাদের কর্ম কাণ্ড কিছুতেই বর্তমান উচ্চতার সাথে সাযুজ্য পূর্ন নয়”।
যা ছিল সেই লেখাটির মুল আলোচ্য। আজ এতদিন পড়ে এসে যখন দেখলাম সরকার সেই সব ব্লগারদের চিহ্নিত করছে তখন লেখাটির স্বার্থকতা খুঁজে পেলাম।
প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, “বেশ কয়েকজন ব্লগার আছেন যারা অতি আওয়ামী লীগার সেজে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। তারা ধর্ম, রাজনীতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে নানামুখী প্রচারণা চালিয়ে ক্ষমতাসীনদের ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি অতি আওয়ামী লীগারদের কয়েকজন আছেন যারা সরকারের মন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের সম্পর্কে কটূক্তি ছড়াচ্ছেন। সূত্র জানায়, এই ব্লগারদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী বা সমর্থক। আর রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এখন তদন্ত ও খোঁজখবর শুরু করছে। এরই মধ্যে পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও এসবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্য নিয়ে এই ব্লগারদের চিহ্নিত করতে পুলিশের সদর দফতরে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কাছে এই ব্লগারদের নামের তালিকাও আছে। বর্তমানে তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। জানা যায়, এই ব্লগারদের অনেকেই আগে বাম চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ছিলেন কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর এখন অতি আওয়ামী লীগার সেজে নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জটিলতা ছড়াচ্ছেন। তবে নিজেদের আওয়ামী লীগ সমর্থক দাবি করলেও তারা সরকারের পক্ষে যতটা না মত প্রকাশ করছেন তার চেয়ে বেশি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কুৎসা রটিয়ে সরকারকে তুলোধোনা করছেন।

এদের অনেকেই আছেন যারা কঠিন ধর্ম বিশ্বাসী হওয়ার পরও নাস্তিক সেজে ধর্মীয় ইস্যুতে বিরূপ প্রচারণা চালিয়ে সরকার তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই সুবিধা লোভী ব্লগারদের অনেকেই বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য এসব কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন। তারা দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের আশায় বিদেশের দূতাবাসগুলোতে যোগাযোগ করছেন। এদের অনেকেরই বিদেশে থাকার আবেদন সে দেশের সরকার গ্রহণ করেছে, কারও আবেদন আবার বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানামুখী লেখালেখির মাধ্যমে যারা সরকারকে বিব্রত করছেন তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এমনকি সরকারের অভ্যন্তরে থেকে আওয়ামী লীগের সমর্থক সেজে যারা সরকারের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে এখন খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টিকারী ব্লগারদের কার্যক্রম মনিটরিং করতে ডিআইজি (অপারেশন্স) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দফতর। কমিটিতে পুলিশ, র্যাব, ডিবি ও এসবিসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা রয়েছেন। যোগাযোগ করা হলে ডিআইজি (অপারেশন্স) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, উগ্রপন্থী ব্লগাররা ছদ্মনামে লেখালেখি করে থাকে। তাদের একটি নামের তালিকাও রয়েছে। তাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে এই কমিটি। এ ছাড়া মুক্তমনা লেখালেখির অজুহাতে কেউ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছে কিনা এ বিষয়টিও মনিটরিং হচ্ছে।”

অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, সরকার এই তথাকথিত মুক্তমনাদের আসল উদ্দেশ্যটা ধরতে সক্ষম হয়েছে। এই ব্লগাররা নিজেদের আসল পরিচয় গোপন করে আওয়ামীলিগার দাবি করে থাকে মূলত আত্ম রক্ষার কৌশল হিসেবে। যা দল হিসেবে আওয়ামীলীগের জন্য শুধু বিব্রতকরই নয় এলার্মিংও বটে। কাজেই এ ক্ষেত্রে শুধু সরকার নয় দল হিসেবে আওয়ামীলীগকেও অনেক বেশি সতর্ক এবং একই সাথে কঠোর হওয়া প্রয়োজন।
একজন লেখককে সত্যিকার অর্থেই মুক্তমনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি স্বীকৃত লেখক হন কিংবা সাধারন ব্লগার। যিনি অন্যের বিশ্বাসকে সম্মান করতে জানেন না যিনি নিজেকে নির্মোহ রাখতে পারেন না তার কাছ থেকে বস্তুনিষ্ঠ লেখা আশা করাই বোকামী। বরং তারা সর্বদাই কারো না কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত থাকে। এদের কাছ থেকে কারো মঙ্গলই আশা করা যায় না।

আজ যে সব ব্লগার কেবলমাত্র নিজেদের আখের গোছাতে ধর্ম নিয়ে কুৎসা রটায়। মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়। আজ যারা ব্লগিংয়ের নামে সরকার উৎখাতের চেষ্টা রত তাদের বিষয়ে সরকার, প্রশাসন, ব্লগ সঞ্চালক এমনকি সকল ব্লগারদেরই সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। এ প্রসঙ্গে কদিন আগের একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করছি। সামহোয়্যার ইন ব্লগে হঠাৎ একটি ব্লগ শিরোনাম দেখতে পেলাম, “পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা গডফাদাররা!”
স্বাভাবিক কৌতূহলেই পোষ্টের ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম সেটা ছিল মূলত একটি ভিডিও লিঙ্ক। যেখানে ঘটনার বিবরণ দেয়ার পাশাপাশি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। সত্য মিথ্যের মিশেলে দেয়া সেই ধারা বিবরণীর এক পর্যায়ে শুনলাম, “বিডিআর জওয়ানদের নানা দাবী উত্থাপন ও কথার মাঝে হঠাত করেই “জয় বাংলা শ্লোগান”! ভিডিওটা কয়েকবার রিপিট করে নিশ্চিত হলাম যে, শ্লোগানটিকে যদিও বোঝানো হচ্ছে- ঐ জোয়ান দিচ্ছে কিন্তু মূলত সেটি তার কণ্ঠের নয়। শ্লোগানটি অন্য কারো কণ্ঠের যা সেখানে জুড়ে দেয়া হয়েছে। কেননা ভাল ভাবে খেয়াল করলেই বোঝা যাচ্ছিল যে, শ্লোগানের সাথে জওয়ানদের লিপসিং মিলছে না। আর তাছাড়া এই একই ভিডিও এর আগেও অনেকবার দেখেছি যেখানে কখনোই “জয় বাংলা” শ্লোগানটি শোনা যায় নি।
আমি সংশ্লিষ্ট ব্লগার এবং মাননীয় সঞ্চালকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাৎক্ষনিক এর প্রতিবাদে একটি পোষ্ট দিলাম। এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সঞ্চালক মহোদয় আমায় ধন্যবাদ জানিয়ে পোষ্টটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান।
বিষয়টা একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করলাম। ঠিক এভাবেই অনলাইনে নানা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। কাজেই এই সব যারা করছেন তাদের চিহ্নিত হওয়া সাধারন ব্লগারদের জন্যও স্বস্তির।
কিন্তু এটাও সত্য আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা তো ততটা সুখের নয়। কাজেই সরকারের কাছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে অনুরোধ এই চিহ্নিতকরণটি যেন শতভাগ নির্ভুল হয়।
প্রকৃত সমালোচক, যিনি সত্যকে ধারণ করেই সমালোচনা করেন। বা সরকার এবং দেশ ও জনগণের মঙ্গলার্থেই সমালোচনা করেন তিনি বা তারা যেন কোনরকম হয়রানীর স্বীকার না হন।

সংবাদ সূত্রঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৩/১০/১৫
kmgmehadi@gmail.com