ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

খুব শীঘ্রই আমরা একটি চটকদার বিজ্ঞাপন দেখতে পাব। তাও আবার গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকেই। যেখানে বলা হবে ২৭৫ টাকা কিস্তিতে ঢাকায় ফ্ল্যাট। পাশে শর্ত প্রযোজ্য। যা দেখে বাড়িওয়ালাদের অত্যাচারে জর্জরিত ঢাকার ভাড়াটিয়ারা ছুটতে শুরু করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অফিসে। তারা বলবেন ২৭৫ টাক কিস্তি ২০ বছরে শোধ এমনটা তো স্বপ্নেই পাওয়া সম্ভব আর আমরা সেই স্বপ্নকেই বাস্তব করেছি। যারা এত সহজে ঢাকায় ফ্ল্যাটের মালিক হতে পারার স্বপ্নে বিভোর হয়ে তৎক্ষণাৎ বুকিং দিয়ে ফেলবেন তাদের কথা আলাদা। আর যাদের ক্যালকুলেটরের সাথে সখ্যতা রয়েছে তারা নিশ্চয়ই হিসেব করতে বসে যাবেন।
এবার আসুন আসল খবরে। যেখানে মাননীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী মহোদয় ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ছিন্নমূল মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেই ঢাকাকে বাসযোগ্য রাখতে হবে। প্রতিদিন ২৭৫ টাকা কিস্তিতে ২০ বছরের মধ্যে পরিশোধের সময় বেঁধে দিয়ে বস্তির বাসিন্দাদের দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্ট দেয়া হবে।’
এবার একটু ঠাণ্ডা মাথায় ভাবুন-
দিনে ২৭৫ টাকা কিস্তি অর্থাৎ মাসে ৮২৫০ টাকা কিস্তিতে সরকার ৪৫০ স্কয়ার ফিটের ফ্ল্যাট দিবে। কাদের দিবে ?
বস্তিবাসীদের।
তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি ঢাকার বস্তিবাসীদের মাসে ৮২৫০ টাঁকা কিস্তি দিয়ে থাকার সামর্থ্য আছে!
এই তোঁ গেল একটি দিক। আরেকটি বিষয় খেয়াল করুন দিনে ২৭৫ টাঁকা অর্থাৎ মাসে ৮২৫০ টাঁকা। বছরে ৯৯০০০ টাঁকা। পরিশোধের সময়সীমা ২০ বছর হলে মোট দাম পরছে ১৯,৮০,০০০/-টাকা। তাহলে ৪৫০ স্কয়ার ফুটের একটি ফ্ল্যাটের দাম যদি ১৯,৮০,০০০ টাকা হয় প্রতি স্কয়ার ফিটের দাম পড়ছে- ৪৪০০/- টাঁকা।
পাঠক যদি আপনার কমন সেন্সে না কুলোয় তাহলে মিরপুরে এই মুহূর্তে কিস্তিতে কত করে ফ্ল্যাট বিক্রি হচ্ছে একটু দয়া করে জেনে নিবেন।
এই যদি হয় নীতিনির্ধারকদের হিসেবের নমুনা তাহলে এ জাতির কপালে যে আরও কি পরিমাণ ভোগান্তি আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।