ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

12191765_973636049363621_9207596625052141072_n
“এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা” দায়িত্বপূর্ণ মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মহোদয় তো বলেই দিয়েছেন। অতএব চিন্তার কিছু নেই। আপনারা এক কাজ করুন, বেয়াড়া জনগণের মুখ বন্ধ রাখতে ৫৭ ধারার ব্যাপ্তি বাড়ান। এ পর্যন্ত আর কজন ব্লগার-প্রকাশকই বা মরেছে। গড়ে দুই মাসে একজন। এ আর এমন কি?

যারা মারা পরছে তারা কথা বলে বলে শান্তি প্রিয় চাপাতি ওয়ালাদের উত্ত্যক্ত করছে। শুধু তো তাই নয় তারা সরকারেরও সমালোচনা করছে। আপনারা এর থেকে রক্ষা পেতে ৫৭ ধারার জন্ম দিলেন। যার ফলে সাধারণ বৈষয়িক মানুষের কথা বলা অনেকটা কমে এলেও সবাই তো আর এক নয়। সবাইকে থামানো যাচ্ছেও না। কি আর করা সরকারের পক্ষে তো আর সেই সমালোচনার শোধ তোলা সম্ভব নয়। কেননা বিষয়টা দৃষ্টিকটু হয়ে যায়। তার থেকে বরং চাপাতি ওয়ালারাই সমস্যার সমাধান করে দিচ্ছেন সেই ভালো না? আপনারা শুধু চোখটা বন্ধ রাখুন। বাড়তি উদ্যোগী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

এতজন ব্লগার-প্রকাশকের হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার পরে আমাদের পুলিশ প্রশাসনের মনে হল “এ ধরনের বিশেষায়িত অপরাধের ঘটনা ও জঙ্গিবাদ ঠেকাতে দরকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। যা অন্যান্য দেশে থাকলেও বাংলাদেশে নেই” প্রঃআঃ ২/১১/১৫। কি প্রয়োজন এত সবের? একটি দেশে কজনই বা কথা বলার লোক থাকে। এরা মরলেই কি আর বাঁচলেই কি?

ভেবে দেখুন এতসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে অথচ তার ক্লু উদঘাটিত হচ্ছে না এ জন্যেই তো আপনাদের জন্য রাজনৈতিক ব্লেইম গেম খেলাটা সহজ হচ্ছে। আবার অপরাধীরা ধরা পরছে না বলেই তো তারা দিন দিন আরও বেশি সাহসী হয়ে উঠছে। পূর্বে তারা রাতের আধার, নির্জন স্থান খুঁজে নিয়ে হত্যাকাণ্ড চালাত এখন তারা প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনেও হামলা করতে দ্বিধান্বিত হচ্ছে না।
কোন এক অদৃশ্য কারণে হামলার সময় সিসিটিভি বন্ধ থাকে। পুলিশ সাধারণ মারামারি(?) ভেবে নিষ্ক্রিয় থাকে এটা তারা দেখেছে আর সে কারণেই তো আজিজ সুপার মার্কেটে ঢুকেও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার সাহস পাচ্ছে এবং তারা সফলও হয়েছে। যদিও শোনা যাচ্ছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে(!) এবারের সিসিটিভি ফুটেজগুলো স্পষ্টভাবেই সংরক্ষিত আছে। তো কি? শনাক্ত করা গেলেই কি ধরতে হবে? এদেরকে ধরতে তো তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ দরকার। আমাদের সরকার বাহাদুর তো আর তা নন। কাজেই তারা অধরাই থাকবে। তারা অধরাই থাকুক।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দলের পক্ষ থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ধরনের একটি পরিস্থিতিকে সরকার, বিরোধী দল নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল মিলে আমরা প্রতিরোধ করতে চাই। আমরা সবাই মিলে এই ঘটনার নিন্দা জানাতে চাই, এর প্রতিবিধান ঘটাতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সরকারকে পরামর্শ দেব, তারা যেন সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে এবং এসব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে ঘটনাকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। দোষীদের যেন শাস্তির বিধান করা হয়।

তার উত্তরে ড.হাছান মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্ত সাম্প্রদায়িক জঙ্গি গোষ্ঠী হামলাগুলো পরিচালনা করেছে। ইত্তেফাক২/১১/১৫। এই তো রাজনৈতিক বিবেচনা প্রসূত কথা। এই না হলে সন্ত্রাসীরা পার পাবে কিভাবে?
আপনারা বরং হাসান মাহমুদকে এমন আরও কিছু বলতে বলুন যাতে সন্ত্রাসীদের কাছে এই বার্তাটি পৌঁছে যায় যে, আমরা এখনো আগের অবস্থানেই আছি। সেই সাথে হানিফ সাহেবকেও বলুন, “হত্যাকারীদের আদর্শে বিশ্বাসী বলে দীপনের বাবা বিচার চান না”। ইত্তেফাক ২/১১/১৫। এমন তরো কথা বার্তা আরও জোরে শোরে বলতে। কিছু লোক তো নিশ্চয়ই বিভ্রান্ত হবেন। তাই বা কম কিসে?

সরকারের অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। তাদের ভোটের হিসাব কষতে হয়। ধার্মিকদের সমর্থনের কথা মাথায় রাখতে হয়। তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের বিষয় আছে। এত দিক বিবেচনা করে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়া নীতির মত অবস্থা হবে এটাই তোঁ স্বাভাবিক। শ্যাম রাখি না কুল রাখি প্রশ্নটার উত্তর তো আগে পেতে হবে তবেই না সিদ্ধান্ত। রাশিয়ার মত নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোলে তো এ দেশের জঙ্গিদেরও আইএস এর মত ত্রাহি অবস্থা শুরু হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে একটি লক্ষ হয়ত ঠিকই অর্জিত হবে অনেক গুলি অপশন যে হাতছাড়া হয়ে যাবে। তাতে আখেরে কতটা লাভবান হওয়া যাবে সেটা তো বিবেচনায় নিতেই হবে, তাই না?

অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যার সাথে একমত পোষণ করে আজ আমাদেরও বলতে হচ্ছে, “কে জানে, রাতের অন্ধকারে আপনারা হয়তো মুখর হয়ে ওঠেন, ভোট ভাগাভাগি করে নেওয়ার খেলায় যোগ দেন তাদের সাথে। আপনাদের দোহাই লাগে আপনারা ভোটের থলি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চুপ করেই থাকুন, আমরা আপনাদের কাছে আর কোনোদিন বিচার চাইতে আসবো না”।

বন্যার সাথে একই সুরে সুর মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, এই সরকারের কাছ থেকেও কিছু চাওয়ার নেই আমাদের, একটাই অনুরোধ ওনাদের কাছে, দয়া করে দিনরাত আর ‘আমরা সেক্যুলার পার্টি’ বলে গলা ফাটিয়ে নিজেদের এনার্জি নষ্ট করবেন না। আপনারা আপনাদের লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত চুপ করেই থাকুন”। বন্যা হয়ত তার কষ্ট তাঁর অভিমান থেকেই কথাটা বলেছেন। তবে এই একই অনুরোধ আমরা করছি এই জন্যই যে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের এই দলটিকে আমরা আর যাই হোক প্রতারকের ভূমিকায় দেখতে চাই না।

শেষ কথা, রাজনিতিবিদগন সাধারণ মানুষকে সর্বদাই বেকুব মনে করে আসলে তারা কিন্তু ততটা বেকুব নন। তারা সংগঠিত নন এটাও ঠিক তার মানে এই নয় যে, তারা কোনভাবেই সংগঠিত হতে পারবেন না। সাধারণ মানুষ জেনেশুনে ঠকতে রাজি হলেও প্রতারিত হতে রাজি নয়। কথাটি তারা মাথায় রাখলেই ভাল করবেন।

kmgmehadi@gmail.com