ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

বাংলাদেশে একটি বিশাল মসজিদ বানানো হচ্ছে এ খবরটা শেয়ার করলে নাকি অশেষ নেকি হাসিল হবে! এটা কোন আলেমের নসিহত তা জানি না। তবে ফেসবুকে ঐ মসজিদটির ছবি সহ কথাটি ঘুরে বেড়াচ্ছে বেশ কদিন যাবত। যারা এই মহান কর্মটি করছেন। তারা কি বলতে পারেন, এ দেশের কত শতাংশ মানুষ সঠিকভাবে যাকাত আদায় করেন?
আমাদের দেশে অধিকাংশ মাদ্রাসা এবং এতিমখানা চলছে বিদেশি অনুদানে। আর সে অনুদান যে সঠিক রাস্তায় আসছে তাও নয়। আমরা তো এ দেশের ধনীদের যাকাতের টাকায়ই এই সব এতিমখানা – মাদ্রাসা চালাতে পারতাম।
অথচ সেটা পারছি না তার কারন হল সঠিকভাবে যাকাত আদায় করা হচ্ছে না। এক কথায় ধনিক শ্রেনীর মানুষ গুলো মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত গরিবের হকটি সঠিকভাবে আদায় করছেন না। অথচ তারাই আবার এক একটি আলিসান মসজিদ তৈরি করছেন।

উত্তরায় একটি মসজিদে আমি নিয়মিত নামাজ পড়ি। যেখানে কদিন আগে দেখলাম কোন কারন ছাড়াই মসজিদের টাইলসগুলো পরিবর্তন করা হল। দিন দিন মসজিদটি উর্ধবমুখি হচ্ছে। এ মুহুর্তে তার চারতলার কাজ চলছে। যদিও জুম্মাবার ছাড়া কোন ওয়াক্তেই মুল মসজিদের নিচতলার অর্ধাংশও ভড়ে না।
মসজিদটি এখন পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে শিততাপ নিয়ন্ত্রিত। হয়ত আগামীতে সেটা সেন্ট্রালীও করা হবে।
প্রতি জুম্মা শেষে মসজিদের ইমাম ঐ সপ্তাহে প্রাপ্ত দানের ঘোষনা দেন যা গড়ে কম বেশি চল্লিশ হাজার টাকার মত। খোজ নিয়ে দেখেছি এখানে প্রতিটি মসজিদে একই হারে টাকা ওঠে।
প্রশ্ন হল এত টাকা কি কাজে লাগে?
এ দেশে মাদ্রাসা ছাত্রদের কুরআন মুখস্থের পাশাপাশি আরেকটা তালিম দেয়া হয় তাহলো ভিক্ষা করা! অথচ ইসলাম বলে, “নবীর শিক্ষা, করোনা ভিক্ষা। মেহনত কর সবে”। এই শিশুরা গড়েই উঠছে ব্যক্তিত্বহীন হয়ে। আল্লাহর ঘর মসজিদ তৈরি করতে বেহেস্তের লোভ দেখিয়ে ভিক্ষা করতে হবে কেন?
কোন এলাকায় যদি নামাজ আদায়ের স্থান না থাকে সেখানে একটি মসজিদ প্রয়োজন হবে এটাই স্বাভাবিক। নামাজ আদায়ের মত করে গড়ে তুলতে সে মসজিদের জন্য যে অর্থের প্রয়োজন হয় তা ঐ এলাকার ধন্যাঢ্য ব্যক্তিরাই দিতে সক্ষম। আর তারা তা দেনও। এরপরে ঐ মসজিদকে আর বেশি উচু করতে। আরো বেশি আরামদায়ক করে তোলার যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা শুরু হয় তা কি ইসলাম সম্মত?
ইসলামের পাচটি স্তম্ভ ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্জ্ব, যাকাত। আমরা তার ক’টি অনুসরন করছি?

কেন মসজিদকে আলি সান করে তৈরি করতে হবে। কেন বিশাল মসজিদ তৈরি করে বিশ্ব রেকর্ড করতে হবে? বিশ্ব রেকর্ড তো শতভাগ যাকাত আদায় করেও করা যেতে পারে। যে যাকাত আদায় ইসলামের মুল ভিত্তির একটি। তা না করে কেন আলি সান মসজিদ তৈরি করে রেকর্ড করতে হবে। এই রেকর্ড তো বিশ্বের সর্ব বৃহৎ পুনর্বাসন কেন্দ্র করেও করা যেতে পারে। মহান আল্লাহর কাছে কি সেটাই বেশি গ্রহনযোগ্য হত না?

মসজিদ ইবাদতের সর্বত কৃষ্ট স্থান। তাই একে আল্লাহর ঘর বলা হয়। সেই মসজিদকে যখন সর্বত কৃষ্ট আরামদায়ক করে গড়ে তুলবেন তখন হয়ত সেখানে মানুষের সমাগম বাড়বে তবে তা ইবাদতের আদর্শ স্থান হিসেবে নয়, আরাম করার উদ্দেশ্যে। সেটা নিশ্চয়ই মসজিদ তৈরির আসল উদ্দেশ্য নয়?
একজন ইবাদতকারী মসজিদে প্রবেশ করেন মহা পরাক্রমশালী মহান আল্লাহর কাছে নতজানু হতে। যেখানে তিনি নিতান্তই নগন্য, ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র এক সৃষ্টিমাত্র। তার তখনকার সুখ বাতুলতা ছাড়া আর কিছু নয়।

kmgmehadi@gmail.com