ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

এই মুহূর্তে রাজউকের সব থেকে বেশি জরুরি কাজ বলে বিবেচিত হচ্ছে উত্তরার সেক্টর সমুহের বিভিন্ন আবাসিক ভবন-এ অবস্থিত ছোট ছোট অফিসগুলি উচ্ছেদ করা এবং সকল আবাসিক ভবনকে কমার্শিয়াল ভবনে রূপান্তরের চেষ্টা! আবাসিক ভবনের নিচ তলায় অবস্থিত বইয়ের দোকানকে বন্ধ করে দিতে হবে কারণ ঐ ভবনটি কমার্শিয়াল ভবনের অনুমোদন নেয়নি। কিন্তু আস্ত আবাসিক ভবনটি স্কুলে রূপান্তরিত করা হলেও সেটি উচ্ছেদ হবে না। কারণ নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি দিয়ে রাজউক থেকে ভবন মালিক অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিয়েছেন । অতএব সেটি এখন কমার্শিয়াল ভবন। এখন আসুন আসল ঘটনায় ভবন মালিককে এই যে বিশাল অঙ্কের টাকা গুনতে হল সেটি কে দিবেন?
নিশ্চিতভাবেই সেটি গিয়ে বর্তাবে ভারাটিয়ার উপরে। ভাড়াটিয়াকে হয় মিথ্যে বলে ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে হবে, চোরের মত পালিয়ে অফিস চালাতে হবে। নয়ত রাতারাতি ডাবল ভাড়ায় অফিস নিতে হবে। বিবেচনাটা ভারাটিয়ার। সত্যিই আমাদের ঘিলুটাই এত কম যে, এত ভাল বিষয়গুলি কিছুতেই মাথায় ঢোকে না।

ভবনে অফিসিয়াল কাজ হচ্ছে বলে ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট শাস্তির অঙ্ক পরিশোধ করে দুই মাসের আল্টিমেটাম মেনে পুনঃ সংযোগ স্থাপন করা হচ্ছে।
তাঁর মানে হল ব্যবসা করবেন? তাঁর আগে আপনাকে কোটিপতি হতে হবে। নয়ত অফিস স্থাপন করতে পারবেন না। যেহেতু আপনি একজন ছোট এন্টারপ্রেনার সেহেতু এতদিন ধরে আপনি ৩৫/৪০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় যে অফিসটি চালাচ্ছিলেন। সেটি আর হবে না। এবার আপনাকে একটি অফিস চালাতে হলে লাখ – দেড় লাখের অঙ্ক ছুতে হবে। নয়ত এন্টারপ্রেনারের স্বপ্নটি এবার ভেঙ্গে ফেলুন। সুখ স্বপ্ন ভেঙ্গে উঠে দেখুন রাস্তায় কত রোদ!
আমাদের বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে বিদ্যুতের লোডশেডিং ম্যানেজমেন্টের থেকে জরুরী বলে মনে হয়েছে রাজউকের এই মহতি উদ্যোগকে এগিয়ে নেয়া। আবাসিক ভবনকে কমার্শিয়াল ভবনে রূপান্তর করা। যাতে বৈদ্যুতিক বিলটি সহজেই কমার্শিয়াল করা যায়। তাই তাঁরা সমানে বৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে চলেছেন। অথচ তাঁরা চাইলে এই ব্যবহার অনুযায়ী ফ্ল্যাটের বিলটি সহজেই নির্ধারন করে নিতে পারতেন।
আমর মত যারা ভাগ্যবান ভাড়াটিয়া তাঁরা প্রিপেইড মিটারের সুবিধা ভোগ করছি। আর ভোগ করছি বলেই বুঝতে পারছি জনস্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে এর প্রয়োজন কতটা জরুরী। দুর্ভাগ্যজনক হল বিদ্যুৎ বিভাগ এই পাইলট প্রকল্পের সুফল বোধ করি এখনও উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়নি। নয়ত এই প্রকল্পটি এগিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল সেই বিদ্যুৎ গতিতেই। কিন্তু তা হয়নি। সমানতালে চলেনি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করন কার্য্যক্রম।
সাধারন জনগণকে রাষ্ট্র কি এভাবে প্রতিপক্ষ বানিয়েই যাবে?