ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

উত্তরা সহ ঢাকার অভিজাত প্রতিটি এলাকায় আছে কল্যাণ সমিতি। প্রতিটি সেক্টরে রয়েছে আলাদা আলাদা কল্যাণ সমিতি। এই সমিতি কাদের কল্যাণ করে? প্লট-ফ্ল্যাট ওনারদের। কত পার্সেন্ট প্লট-ফ্ল্যাট ওনার এখানে বসবাস করেন আর কত পার্সেন্ট ভাড়াটিয়া?

একটু হিসাব কসে দেখুন মোট ফ্ল্যাটের ৯০ভাগ বাসিন্দা ভাড়াটিয়া ১০ ভাগ ওনার। অথচ কল্যাণ সমিতিতে ভাড়াটিয়াদের অংশগ্রহণ নেই। তাহলে তারা কার কল্যাণ করে? নিশ্চয়ই প্লট-ফ্ল্যাট ওনারদের।

বর্তমান সময়ের প্রয়োজনে ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন। মাধ্যম বাড়িওয়ালা। তার মানে সে তথ্য শুধু পুলিশ প্রশাসন নয় বাড়ীওয়ালার কাছেও চলে যাচ্ছে। বাড়ীওয়ালা বাসায় আত্মীয় স্বজনের যাতায়াত পর্যন্ত নির্ধারণ করে দিচ্ছেন। গাঁটের বি টাকাই শুধু নয় বেতনের একটা বড় অংশ দিয়ে ভাড়াটিয়ারা বাড়ীওয়ালাদের নিবর্তন কিনে নিচ্ছে।

আর রাষ্ট্র এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা তো নিচ্ছেই না বরং তাদের সেই সুযোগ করেও দিচ্ছে। তাহলে এই রাষ্ট্র কার? আপনারা যারা গণতন্ত্র নিয়ে গলা ফাটিয়ে মরেন তারা কি এই শ্রেণী বৈষম্যকে মাথায় রাখেন? এ দেশে প্রশাসন কাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়। যারা পঞ্চাশ হাজার টাকায় ইলিশ মাছ কেনে যারা লক্ষ লক্ষ টাকায় কোরবানির পশু কেনে তাদের ইনকাম ট্যাক্সের ফাইলটা কি এই রাষ্ট্র কখনো খুলে দেখে?

অলি গলির ফাঁকে-ফোকরে একজন মানুষ চা-পান বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে না, অলি গলিতে রিকশা ভ্যান নিয়ে কাঁচামাল বিক্রি করে যে ছেলেগুলো জীবিকা নির্বাহ করত আপনি তাকে কুকুরের মত তাড়িয়ে দিচ্ছেন। আপনাদের এলাকার সৌন্দর্য হানি হবে বলে। বিত্তবানদের এই অধিকার কে দিল? রাষ্ট্র কখনোই এই লোকগুলোর পাশে এসে দাঁড়ায় না। এই লোকগুলোই কি রাতের আধারে ছিনতাইয়ে নামবে না? সে কি না খেয়ে মরবে? তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে সে যাবেটা কোথায়?

আমরা যখন গণতন্ত্রের নেতাদের হা পিত্যেস করে মরতে দেখি তখন ভাবি এ তো গণতন্ত্রের জন্য নয় আখের গোছানর স্বার্থে। সবাই বিত্তবানের গোলাম। বিত্তহীনেরা সর্বদাই ভিক টিম। কি রাষ্ট্র, কি বিত্তবান। ছাড় মেলেনা কোথাও থেকে।