ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বিএনপির সাথে গাঁটছড়া বাঁধা পরগাছাগুলি খুব ভালভাবেই বুঝতে পারছে বিএনপি একটা মরা হাতি ওর পিঠে চড়ে আর লাভ নেই। এক পা এগোনো তো যাবেই না মাঝখান থেকে পচা দুর্গন্ধই সয়ে যেতে হবে। এবার তারা তাই আসন পাল্টাতে শুরু করেছে লক্ষ আওয়ামী লীগ। এদেশের মানুষের প্রখর ধর্মীয় অনুভুতিটা নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টায় আওয়ামীলীগ তো আর কম কাঠখড় পোড়ায়নি। এখন যখন সুযোগ এসেছে তারাও আর এদের হাতছাড়া করতে চাইছে না।

ফলাফল; অচিরেই দেখতে পাবেন চরমোনাই, হেফাজতে ইসলাম আওয়ামীলীগের কোলে চড়ে বসেছে। যেটা এই মুহূর্তে পর্দার আড়ালে অনতিবিলম্বে সেটাই হবে প্রকাশ্যে। যদিও এ ক্ষেত্রে একমাত্র বাঁধা ৫মে’র হেফাজতি তাণ্ডব। হেফাজতের বেলায় তাই স্মৃতির ক্যানভাসে একটু ধুলো জমার অপেক্ষা মাত্র।

জামায়াত ইসলামীর কথা তো বলাই বাহুল্য। দল নিয়ে বেকায়দায় পরায় তৃনমূলের জামায়াত অনেক আগে থেকেই লীগে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। শির্ষ নেতারা তো স্বকর্মের মহিমায় দুনিয়া ছাড়া। মধ্যম সারির একটা ব্যবস্থাও নিশ্চয়ই দয়ালূ আওয়ামীলীগ করে দেবে! প্রশ্ন হল আওয়ামী লীগ কেন এদের গ্রহণ করছে?
প্রথম কথা হল আওয়ামী লীগের তৃণমূলে অনেক আগে থেকেই এই লাভজনক ব্যবসাটা চলে আসছে। যা হাই কমান্ড দেখেও না দেখার ভান করছে। বিষয়টার ধ্বংসাত্মক দিকটি নিয়ে তারা মোটেই ভাবছেণ না। তাদের এই উদাসীনতা নিশ্চিতভাবেই বিপর্যয় ডেকে আনবে।
দ্বিতীয় কথা হল, বাংলাদেশের মানুষ যতই ধর্মপরায়ণ হোক না কেন ঐতিহাসিকভাবেই তারা বরাবর ধর্মকে রাজনীতির থেকে আলাদা করে এসেছে। যার প্রমাণ একাত্তর থেকে অদ্যাবধি এ দেশের জনগন দিয়ে এসেছে।

উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় চরমোনাই পিরের যত অনুসারী আছে সেই পরিমাণ ভোটও কখনো এই দলটি পায়নি। আবার হেফাজতিরা বিভিন্ন সরকারের কাছ থেকে যত সুযোগই গ্রহণ করুক না কেন তারা কখনোই রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবেন না। কারণ তারা জানে এ দেশের ইসলামী দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ কত।

অথচ আওয়ামী লীগ চাইছে সকল ভোট তাদের বাক্সে আসুক! আর তাও আবার স্বাভাবিক নিয়মে। তাদের এই অস্বভাবাবিক চাহিদাই ধর্মীয় লেবাস ধারী দলগুলোকে নিজেদের মনোবাঞ্ছা পুড়নের ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড এর আগেও দু’ একবার একই ভুল করেছে সম্ভবত সেই একই ভুল আবারো করতে চলেছে। অথচ তারা এটা মনে রাখেন নি যে সত্তরের নির্বাচনেও আওয়ামীলীগ (৭৪.৯%) ভোট পেয়েছিল। আর সেই ম্যান্ডেট নিয়েই তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এরপরেও আওয়ামীলীগের এই শতভাগ(!) সমর্থনের আসায় নিজেদের স্বকীয়তা বিসর্জন দেয়ার মত এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতবাক করে দেয়।

আওয়ামী লীগের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে সবথেকে বড় যে সমস্যাটি হবে তা হল সাধারণ মানুষ রাজনীতিবিদ এবং দলগুলোর উপর থেকে সম্পূর্ণ রূপে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। তাদের সম্মুখে আস্থা স্থাপনের আর কোন স্থানই অবশিষ্ট থাকবে না। যা একটি দেশের অস্তিত্বকেই হুমকির সম্মুখীন করে তোলে।

দায়িত্ববানদের এটা মনে রাখা উচিৎ। গণতন্ত্র না থাকলে দেশ স্বৈরতন্ত্রের কবলে পড়ে তাতে সাধারণ মানুষ কিছুটা দুর্ভোগের স্বীকার হয় সত্য তবে দেশটা বেঁচে যায়। আর সব গুলো রাজনৈতিক দলের উপরে আস্থাহীনতা দেশকে চরম ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। যার সব থেকে বড় উদাহরণ আজকের সিরিয়া।

kmgmehadi@gmail.com