ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

আমাদের সমাজে পাত্র বিদেশে থাকে এটাই বিয়ের বাজারের সবথেকে বড় যোগ্যতা বিদেশে থেকে দিন মজুরের কাজ করলেও তার জাত যায় না দেশে গাড়ী চালক হলেও জাত থাকে না। বিয়ের বাজারে মেলেনা ভাল(!) ঘরের মেয়ে। কাড়ন একটাই দেশে সে থাকে প্রকাশ্যে বিদেশে চোখের আড়ালে।
ছেলে ধর্ষক সেটা কোন সমস্যা নয় যেহেতু কেউ জানে না। ছেলে প্রেম করে প্রকাশ্যে চুমু খেয়েছে দেখেছে পাড়ার লোক। এ ছেলেকে আর ঘরেই রাখা যায় না। এখানেও একই কাড়ন প্রকাশ্য আর অপ্রকাশ্য।
মেয়ে নষ্টা, সেটাও সমস্যার কিছু নয় যদি না জানে পাড়ার লোক। কিন্তু ভালবেসে অগাধ বিশ্বাসে ঘর ছেড়েছিল একদা। তাকে কি করে ঘরে তুলবে বাবা? প্রশ্নই আসে না। কাড়ন ঐ একই, প্রকাশ্য আর অপ্রকাশ্য।
আমাদের সমাজে ভণ্ডরাই ভাল থাকে। এ সমাজ ভণ্ডদের দখলে। ভাল হবার থেকে এখানে অনেক বেশি জরুরী ভাল সেজে থাকা। যে যত বেশি অভিনয়ে পারদর্শী সে তত বড় আদর্শবান।
ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি লোকে কি বলবে? অনেক অবাধ্য সন্তানকে এও বলতে শুনেছি, লোকে কি আমাদের খাওয়ায় যে লোকের কথা ভাবতে হবে?
উত্তর এসেছে, সমাজে থাকতে হলে অনেক কিছুই ভাবতে হয়, মেনে চলতে হয়। তাই বলে কি ভণ্ড হতে হয়?
অথচ ভণ্ড এই সমাজে ওরাই আসল। আর আসল বলেই আমরা ওদের মানতে পারি না। বলি; ভালবাসবি তো আড়ালে গিয়ে ভালবাস। নোংরামিতেও বাধা নেই! আড়ালে থেকে কর। প্রকাশ্যে ভণ্ডতার মুখোশ পরে থাক।
পরিবার থেকে সেই ছোট্ট বেলা থেকে ভণ্ড হওয়ার যে তালিম দেয়া হয়। বড় বেলায় আমরা সেটাই আঁকড়ে ধরে বাঁচি। এখানে অন্দরে বাহিরে কেবলই ভণ্ডামি। নিজের সাথে, পরিবারের সাথে, সন্তানের সাথে ভণ্ডামি করে করেই আমরা অভ্যস্ত। আজ তাই যদি কাউকে দেখি ভণ্ডামি না করে সহজ সত্য সহজে প্রকাশ করছে, আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা ক্ষুব্ধ হই। আমরা দাবী করি তাকে সমাজচ্যুত করার। রমনা, বোটানিক্যাল গার্ডেন কিংবা বলধা গার্ডেন যেখানেই যান বেলেল্লাপনা দেখে অস্থির হয়ে উঠবেন অথচ এ নিয়ে একটি প্রতিবাদও কোথাও হয় না। আর এই ছেলেমেয়েরাই আবার যখন রাস্তায় হাত ধরাধরি করে হেটে বেড়ায় তখনই আমাদের কৃষ্টিতে আঘাত লাগে। মানে আমাদের ভণ্ডামি আহত হয়।
আসুন আমরা ভণ্ড হই, চিপায়-চাপায়, আড়ালে-আবডালে চলুক উন্মত্ত যৌনাচার শুদ্ধ প্রেমের চর্চাটিও নয় প্রকাশ্যে।