ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

সামর্থ্য থাকলে আপনার এলাকায় একটি পাঠাগার গড়ে তুলন। সাথে একটি ক্লাব ঘর। যেখানে বৃদ্ধ থেকে শুরু করে এলাকার শিশুরা পর্যন্ত এক হবে। তারা খেলবে, কবিতা পাঠের আসর বসাবে, গান গাইবে, আড্ডা মারবে, ঝগড়া করবে, তারা গলা গলি করবে, তারা ধর্ম নিয়ে আলোচনা করবে। একে অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
বিশ্বাস করুণ এটা এই মুহূর্তে খুব বেশি প্রয়োজন। সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করা ছাড়া আমাদের মুক্তির দ্বিতীয় কোণ পথ নেই। পারিবারিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার সাথে সাথে সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে এই ক্লাবগুলো যে কি অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে পারে তা আশির দশকে যারা তরুণ যুবা ছিলেন তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন।
পারায় মহল্লায় গড়ে ওঠা ক্লাবগুলো আয়োজন করত বিভিন্ন টুর্নামেন্টের। উৎসবে পার্বণে প্রতিটি ক্লাব সাজত নতুন সাজে। উঠতি যুবকদের প্রাণের স্পন্দন ছিল ঐ সব প্রতিষ্ঠান। আধুনিকতার নামে আজ আমরা সব ঘরকুনো হয়ে গেছি। চরম স্বার্থপরতায় দূরে ঢেলে দিয়েছি স্বজন। ইনভিজিবল একটা জীবন নিয়ে আমরা বাস করছি ঘরের এক কোনে। যার ফল স্বরূপ আমাদের সন্তানরা হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। আমার সন্তান আপনার ঘারে, আপনার সন্তান আমার ঘারে চালাচ্ছে চাপাতি। কি অদ্ভুত! আমরা জানতেও পারছি না প্রাণপ্রিয় সন্তানটি কখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।
ওদের কি দোষ? আপনি ওকে ধর্ম সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দানের চেষ্টা করেন নি; সময়ের অপচয় ভেবে!
আপনি ওকে শিক্ষিত করে তুলতে চেষ্টা করেন নি চাকুরীর জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে চেয়েছেন ফলে স্বাভাবিক ভাবেই সে হয়ে উঠেছে রক্ত মাংসের দানব।
হ্যাঁ দানবই তো, মানবিকতা তার কাছে উপহাসের বস্তু। সে চায় শুধু লাভ; বেচে থেকে অর্থকড়ি মরে গিয়ে হুর পরি এটাই তার লক্ষ। দানবের কাছে যৌক্তিকতা সবথেকে বেশি অযৌক্তিক! এ আর নতুন কি?

তাই বলি আপনার সন্তানকে শেখান। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলন, মানবিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলন। একই সাথে বৈষয়িক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলন। আপনার সন্তানের ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার সাথে সাথে মানুষ হওয়ার গুরুত্ব এতটুকুও কম নয়।
সন্তান জন্ম দিলেন মানুষ বানাতে পারলেন না সে সন্তান দিয়েই বা লাভ? আবার একটি আদর্শ সন্তান শুধুমাত্র সঠিক শিক্ষার অভাবে অন্যের কুমন্ত্রণায় নষ্ট হয়ে যাবে এটাও তো খুবই দুঃখজনক।
আসুন আমরা অঙ্গিকার করি, আমাদের সন্তানদের আমরাই দেখে রাখব। তাদের তথাকথিত শিক্ষিত নয় মানুষ হিসেবে গড়ে তুলব। আমাদের সন্তানদের আমরাই রক্ষা করব।
kmgmehadi@gmail.com