ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আপনার ঘরে সাজানো বনসাই আর ইনডোর গাছগুলো তেনাদের ছেড়ে দেয়া কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করছে। কখনো কখনো আপনার ঘাড়ের উপরেই ফেলছে নিঃশ্বাস। একই সাথে বসে বিড়ি ফুঁকছেন। একই সাথে ঘুরছেন অথচ চিনতেই পারছে না তেনাদের। অথচ এক টেবিলে বসে খাচ্ছেন। এক সাথে কথা বলছেন। একই ছাদের নিচে রাত্রী যাপন করছেন।

এই না চিনতে পারার কারণ একটাই, আপনি এখনো নিজেকে নিরাপদ ভাবছেন। যেমন একদা এ দেশের সরকার বাহাদুর ভেবেছিল। ব্লগার মরে মরুক আর সব তো নিরাপদ। এরপর যখন বিদেশীরা মরতে শুরু করল তখন ভাবল আর হবে না ও সব বিচ্ছিন্ন। যখন ধর্মগুরুরা আক্রান্ত হলেন যখন মানুষ নিয়মিত হত্যার স্বীকার হতে শুরু করল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে। তখন সরকারের হুস ফিরল।

IMG_20160618_121900
আর আপনার ঘুম এখনো ভাঙ্গল না! আক্রান্ত হওয়াই যদি হয় ঘুম ভাঙ্গার শর্ত তবে আর ঘুম ভেঙ্গে কি লাভ?

তাহারা ভিন গ্রহের বাসিন্দা নয়। তাহারা অশরীরী নয়, এমনকি জিন-পরিও নয়। বাংলাদেশ এত বড় দেশ নয় যেখানে জন মানব শূন্য এলাকা রয়ে গেছে। তাহলে তারা কারা? কোথায় থাকেন? তারা আপনার আমার সাথেই আছেন সাধারণ মানুষের পরিচয়ে। কখনো সন্তান, কখনো ভাই, কখনো প্রতিবেশী রূপে।

পাশের বাসার উনুনে আজ কি চাপানো হল। পাশের বাড়ির বৌটা আজ তার স্বামীকে ক’টা ঝামটা মারল অথবা পাশের বাড়ীর নতুন ভাড়াটিয়ার মেয়েটা এমনকি বৌটা পর্যন্ত কতটা সুন্দরী সে খবরটা পর্যন্ত আমাদের জানা। পাশের বাড়ীর দাম্পত্য কলহের খবরটা জানা আমাদের সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পরে অথচ ঘরের ছেলেটা যে দিন দিন বদলে যাচ্ছে সে খবরটা আমাদের কাছে থাকে না। কেন থাকে না?

আলাভোলা সহজ সরল ছেলেটা যে হটাতই খুব বুঝদার হয়ে উঠেছে আপনি লক্ষই করেন নি! সদা হাস্যোজ্বল আমোদপ্রিয় ছেলেটা যে হটাতই নিজেকে গুটিয়ে নিলো আপনার চোখেই পড়ল না? চরম ভিতু ছেলেটা যে ইদানীং একাকী বাসার বাইরেও রাত কাটাতে শুরু করেছে আপনার কাছে তার খবরই নেই! আপনার ছেলেটা ইদানীং পুরাতন বন্ধুদের ছেরে নতুন বন্ধু জুটিয়েছে আপনার সে দিকে নজরই নেই!

কি অদ্ভুত আপনার দায়িত্ববোধ। যে অতিমানব দের নির্দেশ করে কথাগুলো বলছি তাদেরকে চিনতে পারছেন তো? তারা আপনার আমার পাশেই আছেন। সাধারণ মানুষের মত হয়েই আছেন। যারা অবলীলায় গলা কেটে পরক্ষনেই ভাতের থালা নিয়ে বসেন তারা যে একেবারেই অমানুষের উপসর্গ ছাড়া এটা ভাবার কোন কারণ নেই। চোখ কান খোলা রাখুন তাদের চিনে নেয়ার চেষ্টা করুন পারবেন।

অন্তত কিছুদিনের জন্যে হলেও ক্লাব-পার্টি বাদ দিয়ে সন্তানদের দিকে নজর দিন। দেশে কিংবা বিদেশে থাকুক তার খোজ রাখুন। যদি জানতে পারেন; সামাজিকতার ভয়ে তাকে লুকিয়ে রাখবেন না প্রশাসনের সাহায্য নিন। আমাদের দেশে এই লোক লজ্জার ভয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে সব কিছু লুকানোর প্রবণতা লক্ষ করা যায়। আর এ কারণেই এ দেশে মাদক এমন ভয়াবহ এক সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। শুরুতে মা লুকানোর চেষ্টা করেন বাবা, বড় ভাইয়ের থেকে। এরপরে পরিবার লুকানোর চেষ্টা করে প্রতিবেশী থেকে। প্রতিকারের ব্যবস্থা কেউ করে না। করলেও ব্যর্থ হন। ফলে ছেলেটাকে এক সময় আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাও সম্ভব হয় না।

জঙ্গিবাদের এই সমস্যাটাকেও যেন পরিবার থেকে আড়াল করার চেষ্টা করা না হয়। এটা মনে রাখুন আপনার সন্তানকে দূরে পাঠিয়ে বা সবার থেকে সমস্যাটা আড়াল করে ছেলেটাকে আরও বড় জঙ্গি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন। তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। তার থেকে বরং পরিবারের সকল সদস্য, প্রতিবেশী এমনকি প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে হলেও তাকে সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন। তাকে চোখে চোখে রাখুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিন। তাকে আটকে রাখার ব্যবস্থা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আর এমনটি হলে কাছাকাছি প্রশাসনকে অবহিত করুন। নিজে বাঁচুন অন্যকে বাচতে সহায়তা করুন। মানুষ বলে যখন দাবী করছেন তখন মানুষ হয়েই বাঁচুন।

kmgmehadi@gmail.com