ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 
images2

বাঙালিরা দেশি ঠাকুর রেখে বিদেশি কুকুরপ্রীতি নতুন কোন বিষয় নয়। এই প্রবাদটাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আমরা টি-শার্টে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি নয় চে’র প্রতিকৃতি নিয়ে ঘুরে বেড়াই। আরে বঙ্গবন্ধুর থেকে সফল বিপ্লবী আর কে আছে? আমাদের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ আছেন, আমাদের মওলানা ভাষানি আছে, তীতুমির, ক্ষুদিরাম, সুর্যসেন আছে আমাদের প্রীতিলতা আছে। আমাদের রবীন্দ্র আছে নজরুল আছে আমাদের জয়নুল আছে আমাদের ডাঃ মিলন-নুর হোসেন আছে এদের কে বিদ্রোহী নন?
এদের মাঝে কে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দাবি আদায়ে সোচ্চার হননি?

কই তাদের প্রতিকৃতি তো কোন টি সার্টে দেখি না। কেন দেখি না? ঐ যে প্রবাদটির কথা বললাম। কোন প্রবাদ তো আর একদিনে হয় না। যুগ যুগ ধরে কোন গোষ্ঠিগত স্বভাবের গৎবাঁধা ছত্রই এই সব প্রবাদ। অতএব দোষটা আমাদের রক্তের সাথে মিশে গেছে। আর সে কারণেই আমাদের ছেলে মেয়েরা বিপ্লবী খুঁজে ফেরে যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকায়! কি অদ্ভুত কথা? এরাই আবার দেশপ্রেমের বুলি আওরায়! দেশ উদ্ধারে তাদের বিকল্প কেউ আছে বলেই তারা মানতে নারাজ!

এদের কাছে আমাদের দেশ প্রেমের নতুন পাঠ নিতে হবে? হবে হয়ত। দায় তো আমাদেরই। আমাদের সন্তানদের তো আমরা রজনীকান্তের সেই অমোঘ বানী শিখাতে পারিনি।
“মায়ের দেয়া মোটা কাপড়
মাথায় তুলে নে রে ভাই
দীন দুখিনী মা যে তোদের
তার বেশী আর সাধ্য নাই।।
ঐ মোটা সুতোর সঙ্গে মায়ের
অপার স্নেহ দেখতে পাই
আমরা এমনি পাষাণ,তাই ফেলে
ঐ, পরের দোরে ভিক্ষে চাই।।
ঐ দু:খী মায়ের ঘরে তোদের
সবার প্রচুর অন্ন নাই,
তবু তাই বেচে কাঁচ, সাবান, মোজা
কিনে করলি ঘর বোঝাই।।
আয়রে আমরা মায়ের নামে
এই প্রতিজ্ঞা করব ভাই
পরের জিনিস কিনব না
যদি-মায়ের ঘরের জিনিস পাই।”

আমরা বিদেশ ভক্ত, সাদা চামড়ার ভক্ত। সেও নতুন কিছু নয়। এটা হয়ত অন্যায়ও নয়, যদি না তাদেরকে প্রভু জ্ঞান করতাম। আমরা সকলের কাছ থেকে নিতে রাজি। সকলের কাছে শিখতে রাজি কিন্তু কাউকে প্রভু জ্ঞান করতে রাজি না। আমরা আমাদের পূর্বসূরীদের কাছ থেকেই আমাদের আদর্শ খুঁজে নেব। আমাদের সন্তানেরা কবে সেই মানসিকতার হবে?