ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

dibuk-box-0220160208075844
আওয়ামী লীগের এবং তাদের সমর্থকদের মোটা দাগে একটা ধারনা আছে যারা বিএনপির সমর্থক তাঁরা সবাই জামাতি ধ্যান ধারনার মানুষ। এমনকি তাদের মধ্যে কোন ভাল মনের মানুষই নেই। ধারনাটা একেবারেই সঠিক নয়।
আওয়ামীলীগের প্রতি বিতৃষ্ণার অনেক কারণই আছে যা থেকে একজন মানুষ বিএনপি সমর্থক হয়ে উঠতেই পারেন। এমন কি স্থানীয় নেতৃত্বেও আসতে পারেন এটা পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য কেন হবে? আমি ছাড়া দুনিয়ার সব খারাপ বরং এই ধারনাটাই তোঁ সৃষ্টি ছাড়া।
তাদের এখান থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ বিএনপি দুই শিবির থেকে ক্রমশ দুই জাতীতে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা না দেশের জন্য, না দুই দলের জন্য কারো জন্যেই মঙ্গল বয়ে আনবে না।

এখন আমি যদি বলি আওয়ামীলীগ সামান্য মূল্যে তাঁর সমর্থনের সনদ বিক্রি শুরু করেছে জামাতিদের কাছে, একদিন যার চড়া মূল্য দিতে হবে এ দেশের মানুষকেই। তাঁরা কি অস্বিকার করতে পারবেন? ঝালকাঠি তাঁর অন্যতম উদাহরণ। যেখানে প্রকৃত আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যানকে হটিয়ে নতুন আওয়ামী চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দেয়া হল। আর তাঁর প্রথম কাজটিই ছিল পূর্বের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শহরের একমাত্র বিনোদন কেন্দ্রটিতে লাগানো বঙ্গবন্ধুর মুড়ালটি ভেঙ্গে ফেলা। অযত্ন অবহেলায় পার্কটিকে ব্যবহার অনুপযোগী করে তোলা।
আর আজ এতদিন পরে এসে দেখলাম ২৫০ বছরের পূড়াতন কালি মন্দিরে প্রতিমা ভাংচুরের ঘটনা। আরেকটি উদাহরণ দেই, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি যাবার পথে একটি স্থানের নাম ছিল শ্রীরামপুর। সেই স্থানে নতুন সব সাইন বোর্ড উঠেছে যেখানে জায়গাটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ইসলামপুর। কাজটি নিশ্চয়ই ঘোষিত বিএনপি-জামাত করেনি। করেছে অঘোষিত আওয়ামী জামায়াত। অথচ এই ঝালকাঠি ছিল অসাম্প্রদায়িকতার এক অনন্য উদাহরণ স্বরূপ। এর দায় কি আওয়ামীলীগকে নিতে হবে না? সমস্যার মুলে যাবার চেষ্টা করুন। নির্মোহ হন।

জামায়াতের জীবাণু বিএনপিকে শেষ করে দিয়েছে এখন তাঁরা আওয়ামীলীগের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেধেছে। আর তাঁরা ইতিমধ্যেই তাদের কর্মকাণ্ডও শুরু করে দিয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার ক্ষমতা আওয়ামীলীগ এখনো অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। আদৌ কোনদিন তাঁরা সে কাজটা করতে পারবে বলেও তো মনে হচ্ছে না। এমন কোন উদাহরণ তাঁরা এখনো দেখাতে পারেনি। কাজেই সামনের সময়টা দুর্যোগের!
মানুষ তো আর অমর নয়, আমরা যতই কামনা করি এটাই দুর্ভাগ্যজনক সত্যি যে, জীবন চক্রের অমোঘ নিয়মে এক সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও থামতে হবে। আর শেখ হাসিনা পরবর্তী সে সময়ের বাংলাদেশ যে সিরিয়া পরিস্থিতির স্বীকার হবে না তারই বা নিশ্চয়তা কি? সে পরিস্থিতি রোধের একমাত্র উপায় হল আওয়ামীলীগ ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনকে শতভাগ বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত নীতেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদর্শে চলা। যা কখনোই শুদ্ধিকরণ ছারা সম্ভব নয়।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি দলের মধ্যে শুদ্ধি অভিযান চালাবেন নাকি তাঁর পরবর্তী সময়ের জন্য একটি অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ রেখে যাবেন সেটা তাঁর সিদ্ধান্ত। তবে আমরা সাধারণ মানুষ ভয়াবহ এক সময়ের আশঙ্কায় আতঙ্কিত!
আমাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, অসাম্প্রদায়িকতাই বাঙ্গালী জাতিসত্তার একমাত্র রক্ষাকবচ। সাম্প্রদায়িকতার সাথে বাংগালীয়ানা বেমানান। আপনি সাম্প্রদায়িক হবেন না বাঙ্গালী রবেন সেটা আপনার বিবেচ্য। তবে এটাও মনে রাখবেন সাম্প্রদায়িকতার দ্বিতীয় ধাপ ভ্রাতৃঘাতি হওয়া আর শেষ ধাপ কিন্তু আত্মঘাতী হওয়া। সে পথ থেকে এখনই ফিরে আসুন নয়ত সাধারন মানুষই আপনাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারকে ভালোবাসি তাঁর মানে এই নয় আওয়ামি জামায়াতকেও সমর্থন দেব। প্রশ্নই আসে না।
ঘোষিত শত্রুর থেকে অঘোষিত শত্রু অনেক বেশি ভয়ংকর সেটা আমরা জানি। আপনারা সেই অঘোষিত শত্রুর তকমাটা লাগাবেন না দয়া করে। পালানোর পথও খুজে পাবেন না।