ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

২০১৬ সালে সরকারি হিসাবেই ৭ লক্ষ ২৩ হাজার মানুষ বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে স্থায়ী হয়েছে! আর প্রতিবছর দেশত্যাগের এই সংখ্যা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। যার অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষিত আর ধনী! এ নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা আছে। সভা হচ্ছে সেমিনার হচ্ছে। অথচ এই সম্পদ যাতে দেশের হাত ছাড়া না হয় সে মত নেই কোন উদ্যোগ।

কেন তারা দেশছাড়া হচ্ছেন? উচ্চ শিক্ষিতরা দেশ ছাড়া হচ্ছেন উন্নত জীবনের আশায়। দেশ কেন তাদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে পারছে না? এ দেশে অসংখ্য বিদেশী আছেন যারা উচ্চ বেতনে চাকুরী করছেন। সরকার কি আজ পর্যন্ত এমন কোন নীতি গ্রহণ করেছে যাতে দেশিয় উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণীর মানুষের উন্নত কর্মসংস্থান হতে পারে। এমন কোন নির্দেশনা আছে যাতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে হলেও এ দেশের মানুষের কর্মসংস্থান করে দিতে বাধ্য হবে।

ট্র্যাম্প যেমন বলেছেন আমাদের চাকুরী আমরাই করব। এমন নীতি গ্রহণ খুব কি কঠিন? মোটেই না। প্রয়োজন দেশপ্রেম আর সুষ্ঠু পরিকল্পনা। এরপরে আসুন কেন ধনী শ্রেণীর মানুষগুলো দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করে সেখানে আবাসন গড়ে তুলছেন। আপনারা আহাজারি করে মরছেন এই বলে যে, দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ধনিক শ্রেণীর মানুষ বিদেশ চলে যাচ্ছেন। কেন যাবে না বলতে পারেন? দেশে থেকে টাকা বিনিয়োগ করতে পারবে না, ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবে না, নিরাপত্তা পাবে না। তারা টাকা পাচার করবে না তো কি করবে?

টাকা ব্যাংকে আছে সমস্যা নেই উঠাতে গেলেই হাজারটা প্রশ্ন!
ব্যাংক থেকে ঋণ নিবেন উচ্চহারে সুদ গুনতে হবে।
পণ্য আমদানিতে সরকার অবিবেচকের মত ভ্যাট আরোপ করে বসে আছে। আপনাকে আন্ডার ইনভয়েসিং না করে উপায় নেই।

এটা কি কোন ব্যবসা বান্ধব অর্থনীতি?
ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যংকে আমার একটা ডিপিএসের বিপরীতে কিছু টাকা লোণ নিতে চাইলাম ডিপিএসটি পাঁচ বছরের অধিক সময় ধরে চলছে। ব্যাংক আমাকে বলছে ১৫% সুদ দিতে হবে। আবার নিজের জমানো টাকার ৮০% এর বেশী টাকা দিবে না। মগের মুল্লুক আর কি? বাড়ী করতে চাইলাম ব্যাংক ঋণ নিতে গেলে বলে দিল ফাউন্ডেশন সহ নীচ তলা নিজের টাকায় করতে হবে তারপরে ব্যাংক ঋণ দেবে। আমি যদি ফাউন্ডেশন সহ নীচ তলা শেষই করতে পারি তাহলে নীচতলার মার্কেটের দোকানের এডভান্সের টাকায় পরবর্তী দুই তালার কাজ করা যাবে। ঋণ নিতে হবে কেন? এটা বুঝি ব্যবসা বান্ধব অর্থনীতি?

আসুন ক্ষুদ্রঋণ প্রসঙ্গে একটু কথা বলি, জামানতের অভাবে ব্যংক ঋণ দিবে না সমিতি ঋণ দিচ্ছে। সমিতি ঋণ দিচ্ছে কিভাবে? এ লক্ষ টাকার বিপরীতে তাদের মাসে শুধু সুদই দিতে হবে ৫০০০/- টাকা অর্থাৎ ৬০% সুদ। এদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে গলায় দরি দেয়া ছাড়া আর কি কোন উপায় আছে? নেই। সেটা কি সরকারের মহা পরিকল্পনাবীদ গন জানেন না? জানেন কিন্তু গায়ে লাগে না। কারণ একটাই তারা জন বান্ধব নন।

সরকারের ভ্রান্ত নীতির ফলে ডুবতে বসেছে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা। এই একটি ব্যবসার সাথে প্রত্যক্ষ পরোক্ষ কত লক্ষ লোক জড়িত সেটা এই পরিকল্পকের দল ভাবতেও পারবে না। গত দশ বছরের ঢাকা এবং আশেপাশের জেলায় জমির দাম বাড়েনি এক ভাগও। বরং বেশির ভাগ স্থানে দাম কমেছে। লক্ষ লক্ষ ফ্ল্যাট অবিক্রীত পড়ে আছে সরকারী নীতির ফলে অথচ এই সরকারই আবার ফ্ল্যাট বানাচ্ছে বিক্রির উদ্দেশ্যে। যে দামে তারা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে চাইছে তার থেকে অনেক কম দামে এখনো উত্তরায় ফ্ল্যাট পাওয়া যায়। কারা কিনবে এই ফ্ল্যাট? যারা কিনবে তাদের আয়ের উৎস নিয়ে দুদকের মাথা ব্যথা থাকবে না?

এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলছেন, বহুদিন বাদে একটি একটি ফ্ল্যাট বিক্রির রফা হল এক বিধবার সাথে। ব্যাংকে তার দুই কোটির কিছু বেশি টাকা এফডি আর করা । সেখান থেকে ৯০ লক্ষ টাকায় সে ফ্ল্যাটটি কিনবেন বলে ঠিক করেছেন। এমতাবস্থায় ব্যাংকে নোটিশ করলেন। যেদিন তার টাকাটা উঠাতে যাওয়ার কথা সেদিন সকালেই দুদক এসে হাজির। এত টাকা সে কোথায় পেল। এতদিন ধরে টাকাটা ব্যাংকে রাখা তখন খবর নেই। যেই সেটা সে কোথাও কাজে লাগাতে চাইল অমনি দুদকের মাথা ব্যর্থ উঠল। প্রসঙ্গত টাকাটা তার মৃত স্বামীর রেখে যাওয়া গচ্ছিত অর্থ। দুদক কি পেল না পেল সেটা বড় কথা নয়, যে অপমানটা তাকে করা হল। যে ভয়টা ধরিয়ে দেয়া হল আপনি কি মনে করেন এর পরেও সে ঐ টাকা কোথাও বিনিয়োগ করবেন?
kmgmehadi@gmail.com