ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
rape-2

ধর্ষণে ধর্ষিতা কি হারায়? আপনারা বলছেন সব হারায়। সবটা কি? একজন নারীর সম্মান অথবা আপনাদের কথা অনুযায়ী প্রাণ ভোমরাই যেন তার সতীত! মেনে নিলাম সতীত্বই একজন মানুষের প্রাণ ভোমরা। তাহলে সেটা তো যে জোর করল তারই তো হারানোর কথা। আক্রান্ত মানুষটি কেন হারাবে? কোন নারী অন্য কারো দাঁড়া আক্রান্ত হয়ে হাত, পা, চোখ বা যে কোন অঙ্গ হারালে তার সম্মানহানি হয় না। সে বিয়ের অযোগ্য হয় না। তার সম্মানহানি হয় এমন কি সে বিয়ের অযোগ্য হয়ে যায় কেবল সতীত্ব হারালে! কি অদ্ভুত কথা বলুন তো।

নারীকে কেন মানুষের পর্যায়ে উন্নীত করতে পারছেন না? নারী-পুরুষের মাঝে দৈহিক গঠনের বাইরে কোন পার্থক্য নেই। এটা আগে মানুন এবং একই সাথে প্রতিষ্ঠিত করুন। ধর্ষণ কাণ্ডে কারো কিছু যদি খোয়া গিয়ে থাকে সেটা ধর্ষকের খোয়া যায়। তার মনুষ্যত্ব, তার সম্মান, তার এই সমাজে বসবাসের অধিকার সবকিছুই খোয়া যায়। আমাদের এই সমাজ, এই রাষ্ট্র সেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না বলেই ধর্ষণের ঘটনায় নারীকে নিঃস্ব করে ফেলার চেষ্টা করে।

যত দিনে আমরা সেই অসংলগ্ন এবং অসঙ্গত মানসিকতা থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারব ততদিনে এসব ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আপনারা ধর্ষিতাকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার কথা বলছেন ! এ তো সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ হয়ে গেল। আজ পর্যন্ত কোন ধর্ষিতা কি ক্ষতিপূরণ চেয়েছে? চায় নি; তাঁরা কেবল অপরাধীর শাস্তি চেয়েছে। সমস্যা হল এই চাওয়াটা কেবল ধর্ষিতা ও তার পরিবারের মধ্যেই আটকে থাকে। গোটা জনগোষ্ঠী এর সাথে যুক্ত হয় না। আর সে কাড়নেই প্রশ্নটা উঠছে।

এই সমাজ, এই রাষ্ট্রই কি চায় সমাজ থেকে এই ব্যাধিটা দূর হোক? দৃশ্যত চায় না বলেই মনে হয়। কারণ এই ব্যাধিটা সমাজে এখন এতটাই গা সওয়া হয়ে গেছে যে আর দু’দিন পর হয়ত কেউ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করবে না। তাই যদি না হবে, তাহলে এ সমাজ কেন ধর্ষককে, ধর্ষকের পরিবারকে সমাজচ্যুত করছে না? কেন এ সমাজে ধর্ষিতাকে লজ্জিত হতে হবে? কেন ধর্ষিতার অভিভাবক গন তার বিয়ে দেয়ার চিন্তায় এত বড় অপরাধকেও চেপে গিয়ে অপরাধীদের বাঁচিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে? যেখানে মেয়েটির কোন দায়ই নেই।

এ রাষ্ট্র কেন প্রতিটি ধর্ষককে শাস্তির আওতায় আনছে না? ধর্ষণ বন্ধে চাই আইনের শাসন নিশ্চিত করা। প্রয়োজন সমাজে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করা। শুধু মুখে নয় প্রয়োজন কাজে দেখানো। গত চার মাসে ২৫৮ টি ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। আগামী চারমাসের মধ্যে যদি এই ২৫৮ টি ঘটনার বিচারকার্য সম্পন্ন করে দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হয় তাহলেই কেবল পরবর্তী চার মাসে হয়ত এই সংখ্যা চার ভাগের এক ভাগ বা তারও নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব। সত্য হল এই সময়ের মধ্যে ২৫৮ টি দুরের কথা শুধু ৫৮টির বিচারও সম্পন্ন হবে না। এটাই রুঢ় বাস্তবতা। আর সে কারণেই প্রশ্নটা থেকেই যাবে। আর ধর্ষণের ঘটনাও পুনঃ পৌনিক হারে বেড়েই চলবে। এক সময় আমরা এও স্বীকার করে নেব ধর্ষণই পুরুষত্বের লক্ষণ। দিলদরিয়া দিলদার আহমেদ সেলিমের মত সকল বাবাই গর্ব করে বলবে, জোয়ান পোলা একটু-আধটু তো এসব করবই। আমিও তো করি। একদিন বলব এটাই বা কেন বলছি? সাফাতের বাবা যা প্রকাশ্যে বলেছেন আমরাও কি এখন আড়ালে সেটাই বলি না?