ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

আমাদের একজন অর্থমন্ত্রী আছেন যিনি- ব্যাংক লুটেরাদের ধরেন না! শেয়ার মার্কেটের শেয়ার কারসাজি নিয়ে কুটোটি পর্যন্ত নাড়েন না! এনবিআরকে দিয়ে কর আদায়ের ব্যবস্থা না করে কর দাতাদের উপর করের বোঝা চাপিয়ে যান! সাধারণ মানুষ ব্যংকে টাকা গচ্ছিত রেখে একটা সময় ভাল মুনাফা লাভ করত এখন সেই মুনাফা এক তৃতীয়াংশে এসে নেমেছে। আর সেই অবস্থায় আমাদের মাননীয় অর্থমন্ত্রী চশমার ফাঁক দিয়ে চেয়ে বলেন, ব্যাংকে রাখলে এক হাজার আবার উঠালেও লাখে এক হাজার কেটে নেব। এর পূর্বে ব্যাংক যে শুল্ক কেটে নিত সেটা লভাংশের উপর দিয়ে যেত ফলে সাধারণ মানুষের লাভ কম হলেও মূল টাকাটা ঠিক থাকত। এখন তো সরকার জনসাধারনের কষ্টার্জিত সেই মূল টাকার উপরেই হাত দিতে চাইছে!

এ যেন রবি ঠাকুরের ‘দুই বিঘে জমি’র সেই বাবুর মত কথা- ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’ বাবু তো তাও কিনেই লইতে চাইছিলেন তবে আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয় ওসব বেচাকেনার ধার ধারেননি। মুফতেই লইবেন বলে ঠিক করিয়াছেন। পাছে আওয়ামী লীগের গদি খানা উল্টে গেলেই বা তাহার কি! এরশাদের সময় ছিলেন, আওয়ামী লীগের সময় আছেন, প্রয়োজনে বিএনপিতেও ঠাঁই লইবেন, তাহাতে সমস্যা কী?

আওয়ামী লীগ অর্থ মন্ত্রলায়ের দায়িত্ব দেয়ার মত মুহিত সাহেবের চেয়ে যোগ্য লোক খুঁজে পাচ্ছে না এটাই সত্য(!)। আর সে কারনেই যে মন্ত্রী মহোদয় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে নিয়েছেন তা সহজেই অনুমেয়।

প্রসঙ্গত বাজেট প্রণয়নের অঙ্কটা বড় হলেই যে তা আদর্শ বা জনবান্ধব বাজেট হিসাবে পরিগণিত হবে বাজেটের ইতিহাস কিন্তু সে কথা বলে না। বাজেট হতে হবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে। বাজেট ঘোষণার পর যদি মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায় তাকে জনবান্ধব বাজেট হিসাবে গণ্য করা যায় না। অথচ মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলছেন এই বাজেটই তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ বাজেট। শ্রেষ্ঠ বাজেট বুঝি সাধারন মানুষের সাথে শ্রেষ্ঠ উপহাস করা?

হবে হয় তো। তবে অর্থমন্ত্রী মহোদয়ের চোখ দুখানা যে সর্বদাই সর্বহারা ‘উপেনদের’ দিকেই তাক করে আছে সে তো একটু আগেই বলেছি। এই সরকার যে আর এখন গণ মানুষের নয় মাননীয় এবার সেটাও বুঝিয়ে দিলেন জোরেসোরে। এক লাখ টাকার মালিকেরা যথেষ্ট সম্পদশালী(!) মনে করে তিনি হুকুম জারি করে বসলেন, যে সব সম্পদহীনেরা(কোটিপতি) সম্পদের অভাবে ব্যাংক লুট করে চলেছে তাদের লুটের ক্ষত সারাতেই কি না? সম্পদশালীদের (এক লাখ টাকার মালিক) গচ্ছিত সম্পদ থেকে ব্যাংকের মুলধন ঘাটতি মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে!

তার কোন গুণমুগ্ধ হয়ত এক্ষুনি এই বলে আমার দিকে তেড়ে আসবেন যে, তিনি এই ভাবে কথাটি বলেননি। হ্যাঁ তা ঠিক, সরাসরি তিনি এমন কথা বলেননি। তবে তিনি এটাও বলেননি যে, ব্যংকের মূলধন ঘাটতির টাকা আর কতবার দিবেন বা ঘাটতি রোধকল্পে তিনি কী করবেন? টাকাটা কিন্তু সাধারন মানুষের যা এভাবে দেয়ার ক্ষমতা জনগন সরকারকে দেয়নি।

আবগারী শুল্ক ধার্য্য করা হয় সেই পণ্যের উপর। সরকার যে কোন কারনেই হোক যার বিস্তার রোধ করতে চান অর্থাৎ যা ব্যবহারে জনসাধারনকে নিরুতসাহিত করতে চায়। মাননীয় অর্থমন্ত্রী এটাও বলেননি ব্যংকে টাকা গচ্ছিত রাখতে কী কারণে সরকার নিরুৎসাহিত করছে।

মাননীয় অর্থমন্ত্রী ব্যাংক লুটেরাদের দুর্বৃত্ত বলছেন না। তাদের শাস্তির ব্যাপারে কথা বলছেন না। কিন্তু যারা খেয়ে না খেয়ে এক লাখ টাকা বা তার বেশি আপদকালীন সময়ের জন্য জমিয়ে রেখেছেন তাদেরকে সম্পদশালী বলে ঠিকই ঘোষণা দিয়ে দিলেন! সাধারন মানুষ টাকা যদি গচ্ছিতই না রাখে তাহলে তার অসুখবিসুখে বা যে কোন আপদে বিপদে সে কোথায় হাত পাতবে? কে তাকে সাহায্য করবে?

মাননীয় অর্থমন্ত্রী যদি বলতেন দশ লাখ টাকা বা তার থেকে বেশির কথা, আমরা ভাবতাম তিনি প্রকারান্তরে আভ্যন্তরীন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে চাইছেন। আপনি সেটা বললেননি। আপনি চোখ রাখলেন বেশি সংখ্যক সাধারন মানুষের দিকে। তার মানে হল আওয়ামী সরকার এখন সাধারনের থেকে উর্ধ্বে উঠে অসাধারণদের সরকারে পরিণত হয়েছে। আগামি নির্বাচনে সেই অসাধারনগণ আওয়ামী লীগের বৈতরণী পার করে দেবে তো? মাননীয় অর্থমন্ত্রী  একদা বলেছিলেন, ‘হলমার্ক কেলেঙ্কারি নিয়ে হইচই করার কিছু নেই। এমনকি তিন বা চার হাজার কোটি টাকা বড় অঙ্কের অর্থ নয়’। (প্রথম আলো ৩১ আগষ্ট ২০১৩) তাহলে বিষয়টা কী দাঁড়াল?

মন্ত্রীমশাই কি জানেন না আধপেটা খেয়েও সাধারণ মানুষকে টাকা জমাতে হয়? আপনি সাধারন মানুষের সামান্য সঞ্চিত অর্থ থেকে যে হারে টাকা কেটে রাখতে চাইছেন ওটাকে মহাজনী সুদের থেকেও ভয়ঙ্কর তাণ্ডব বলে মনে হচ্ছে।