ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

06_Protest_affiliated+college+students_DU_220717_0004

ছবিঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

যেখানে দৃশ্যত এ দেশের মন্ত্রী মহোদয়গণ পর্যন্ত তাদের এখতিয়ার ভুক্ত বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অপারগ হন, উপরের দিকে তাকিয়ে থাকেন। সেখানে সাধারণ পুলিশ নিজের ইচ্ছাতেই অনর্থক মারমুখী হয়ে উঠবে কেন? তারা অনর্থক এতটাই মারমুখী হয়ে উঠল যাতে আন্দোলনরত একজন ছাত্রের দু’চোখের আলো পর্যন্ত নিভে যাওয়ার উপক্রম হল!

স্বাভাবিক ভাবেই এ প্রশ্নটা ওঠার কথা, হয়ত উঠবেও। তবে বাস্তবতা এটাই যে, এ দেশে ক্ষমতা প্রয়োগ প্রধানমন্ত্রী ব্যতিরেকে কেবল মাত্র প্রশাসনের নিম্নস্তরের কর্মচারী আর রাজনৈতিক কর্মী নামের স্থানীয় বা নিম্ন (অবস্থান গত) শ্রেণীর মানুষগুলোই করে থাকেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন দেশ ও জনগণের স্বার্থে আর নিম্ন স্তরের (অবস্থান গত) মানুষ গুলো ক্ষমতা প্রয়োগ করেন সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তি স্বার্থে, যার পুরোটাই হয়ে যায় জনস্বার্থ পরিপন্থী।

আমরা দেখতে পাই, ব্যাংকের একজন ম্যানেজারের থেকে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সিবিএ নেতা যেমন অনেক বেশি ক্ষমতাবান, তেমনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের থেকে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট সাধারণ কর্মচারীর দাপট অনেক বেশি।

কখনো কখনো তারা এই ক্ষমতার দাপট দেখাতে গিয়ে অথবা মূর্খ আনুগত্য দেখাতে গিয়ে এমন সব কর্মকাণ্ড করে বসেন। যার তুলনা চলে প্রভুর নাকের উপড়ে বসা মাছি মারতে গিয়ে তলোয়ারের ঘায়ে প্রভুকেই নিঃশেষ করতে উদ্যত হওয়ার গল্পের সাথে।

আওয়ামী লীগের আকাশে এখন বড় বেশী সুখের পায়রারা উরাউরি করছে। তাদের চেঁচামেচিতে একদিকে যেমন কান ঝালাপালা অবস্থা, অন্যদিকে তাদের পরিত্যক্ত বিষ্ঠায় আওয়ামীলীগের ভূতলও ভয়ঙ্কর রকম নোংরা হয়ে পড়ছে।

কথাগুলো অনেকের কাছেই হয়ত ভাল লাগবে না। কারো কারো কাছে হয়ত অবিশ্বাস্য ঠেকবে, তবে এটাই চরম সত্য। একটু লক্ষ্য করে দেখুন তো- চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি, বলপ্রয়োগ- এ কাজগুলো কারা করছে? তারা কোন শ্রেণীর মানুষ? সাধারণ মানুষের প্রাণ কারা ক্রমশ ওষ্ঠাগত করে তুলছে? ব্যক্তিগতভাবে সমাজে তাদের অবস্থানই বা কোথায়?

রাস্তার পাশে ঝুড়িতে পেয়ারা নিয়ে বসেছে একজন। একটু পড়েই একজন এসে টাকা চাইল, বেচারা দশ টাকা বের করে দিল। আর একটু পরে আরেক জন এসে পঞ্চাশ টাকা চাইল, তিনি তাও দিলেন। কারণ না দিয়ে তার উপায় নেই। বেচারা কেঁদেই ফেলল টাকাটা দিয়ে। আমায় বলল, বিশ্বাস করুন স্যার আজ আমার একশ টাকাও লাভ হবে না। এমনিতেই বৃষ্টি, কাস্টমার নাই তারপরে ওদের টাকা দিতেই হবে নইলে বসতে দিবে না। ঘটনাটা দু’দিন আগে আমার সামনেই ঘটল টঙ্গি বাজারের সামনের মূল রাস্তায়।

পাঠক একটু লক্ষ্য করে দেখুন, আপনার বাসার সামনে যে ফেরিওয়ালা তরকারী বিক্রি করে তার কাছ থেকে কারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। যে লেগুনায় আপনি যাতায়াত করেন তার চালকের কাছ থেকে কারা নিয়মিত চাঁদা আদায় করে। কারা এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়? পুলিশ প্রশাসনের এসব অজানা নয়। জনশ্রুতি আছে পুলিশের লোকজন এদের কাছ থেকে মাসোয়ারা পান আর সেটা পান বলেই এদেরকে থামানর চেষ্টা করেন না, উল্টো সহযোগিতা করেন। আপনিও তাদের চেনেন। সমাজের তৃতীয় শ্রেণীর কিছু মানুষকে ব্যবহার করে উপর তলার কিছু দুর্বৃত্ত। এই চাঁদাবাজরা এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকরা দুর্বীনিত-অপ্রতিরোধ্য। কিন্তু কেন?

তার পেছনের প্রধান কারণগুলো হল- তারা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা পায়, প্রশাসনের সহযোগিতা পায়। দেশে আইনের শাসন নেই সর্বোপরি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন না। কেন করেন না তার পেছনেও আছে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন।

তৃতীয় শ্রেণীর (অবস্থান গত ভাবে) মানুষজন স্বভাবগত ভাবেই বেপরোয়া, লোভী এবং উচ্চাভিলাষী এবং নির্মম প্রকৃতির হয়। তাদের লাগাম টেনে ধরার জন্য দ্বিতীয় এবং প্রথম শ্রেণীর (অবস্থান গত ভাবে) মানুষকে প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হয়। তারা যখন সেই কাজটি করেন না বা করতে ব্যর্থ হন তখন সর্বত্রই অরাজকতা দেখা দেয়। ভুক্তভোগী হন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী।

আমি এটা বলছি না যে প্রথম ও দ্বিতীয় (অবস্থান গত ভাবে) শ্রেণীর মানুষগুলো দুধে ধোয়া তুলসী পাতা। তাদের মধ্যেও যে সব দুর্বৃত্ত আছে তাদেরকে সামলানোর দায়িত্বটাও বাদবাকি আদর্শ মানুষগুলোর। আমাদের দেশে আসল শূন্যতাটা ওখানেই। আমরা সেই দায়িত্ববান মানুষগুলোকেই পাচ্ছি না।

kmgmehadi@gmail.com