ক্যাটেগরিঃ নাগরিক মত-অমত

সময়টা কৈশোর থেকে তারুণ্য অথবা বলা যায় ১২ থেকে ২০। চোখে চোখে রাখুন সন্তানকে। এ সময় সে যা দেখবে তাই শিখবে। যে পরিবেশে বেড়ে উঠবে সমগ্র জীবন তাই ধারণ করবে। চাইলেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে না। কৈশোরের ভাল লাগা, দুঃখ, ক্ষোভ, ঘৃণা তার অবচেতন মনকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রাখে যে তার ছায়া পরবর্তী জীবনের সবটাতেই পরে।

আপনি চাইলেই এই বয়সের একজন মানুষকে মানবতাবাদী করে গড়ে তুলতে পারেন, চাইলে তাকে প্রতিহিংসা পরায়ণ করে গড়ে তুলতে পারেন।

আপনার সন্তানের কৈশোরের বন্ধু কে বা কারা তাদের খোঁজ নিন। সে কাদের সাথে মিশছে কাদের অনুসরণ করছে জানার চেষ্টা করুন।

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, ঠিক এই বয়স থেকেই সন্তানদের সাথে মা-বাবার দুরুত্ব তৈরি হতে শুরু করে। ঠিক যে সময়টায় তাকে আরও বেশী সময় দেয়া প্রয়োজন। ১২-১৩ বছর বয়সে এসে ছেলে-মেয়েরা একই সাথে তাদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের ধাক্কা সামলায়। এ সময় তার মনে হাজারটা প্রশ্ন ভীড় করে। সে সেই প্রশ্নের উত্তর অভিভাবকদের কাছ থেকে পায় না। লজ্জা ভয় জড়তা তাকে তা প্রকাশে বাঁধা দেয়। অভিভাবক গন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সন্তানের সে প্রশ্নের উত্তর দেন না। ফলে তারা সমবয়সীদের সাথে আলাপ করে বেশিরভাগ সময়েই ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।

ছেলে-মেয়েদের এই নতুন জীবনের এক দিকে থাকে বাঁধভাঙা উল্লাস অন্যদিকে একটা দুর্বিনীত ভাব। জয় করার একটা অদম্য স্পৃহা তখন তাদের চেপে ধরে। এ সময় যদি সে সঠিক মানসিক পরিচর্যা না পায় তাহলে নানা রকম গোল বাধতে পারে।

দেখবেন এ বয়সে হঠাৎ করে, কেউ কেউ মনমরা হয়ে থাকছে। কেউবা শাসন মানছে না। কেউ কেউ একাকীত্বকে বেছে নিচ্ছে। এর সবটারই সুদূরপ্রসারী প্রভাব আছে। আর তা মোটেও ভাল নয়।

কৈশোরে আপনার সন্তানের আচরণ যেমনই হোক না কেন, তাকে সময় দিন। তার সমস্যা, ভাল লাগা – মন্দ লাগা জানতে চেষ্টা করুন। তার সাথে একমত হতে পারলে ভাল, না পারলে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে তাকে সঠিকটা বোঝাতে চেষ্টা করুন। বিশেষ করে তাকে বলতে দিন। তাকে গুরুত্ব দিন। তার সাথে বন্ধুবৎসল হন।

আপনার সন্তানকে কখনোই এটা ভাবতে দিবেন না যে, আপনার কাছে তার মতামতের গুরুত্ব নেই। এটা বলবেন না যে, তুমি ছোট তুমি বুঝবে না। বরং তার কাছ থেকে প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে পরামর্শ নিন এতে সে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে শিখবে। নিজের উপর তার আস্থা বাড়বে।

আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আমরা আমাদের সন্তানদের সব সময় প্রথম স্থান অধিকার করতে দেখতে চাই। এটা ঠিক নয়, সবার ক্ষমতা এক নয় সবাই সব বিষয়ে ভাল হতে পারে না। আপনার সন্তানের সব থেকে আগ্রহের বিষয়টায় জোর দিন সে ক্ষেত্রে সে অন্য সব বিষয়ের থেকে সফল হবে। যে কোন প্রতিযোগিতায় সন্তানের সাফল্যে মা-বাবা তার থেকেও বেশি আনন্দিত হন এটা তো স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যখন সে খারাপ করে তখন কি এটা ভেবে দেখেছেন আপনার সন্তান যে কষ্ট করেছে সেও কম অপমানিত হয়নি। সে সময় তার পাশে থাকুন পরবর্তীতে তুমি আরও ভাল করতে পারবে সেটা বলুন। তাকে হতাশ হতে দিবেন না।

ভবিষ্যতে আপনার সন্তানকে যে রূপে দেখতে চাইছেন এখনি সময় তাকে সেই রূপে গড়ে তোলার। আর সে কাজটিই একমাত্র আপনিই করতে পারেন।

ইদানীং অনেকেই প্রাইভেসির কথা বলে সন্তানদের অন্দরে ঢুকতে চান না। আপনি যদি তার বন্ধু হয়ে যেতে পারেন তাহলে তো আর প্রাইভেসীর আড়ালটা থাকছে না। মা-ই তো পারেন মেয়ের সমস্যার সঠিক সমাধান করে দিতে। বাবাই পারেন ঘরে-বাইরে ছেলের প্রকৃত বন্ধু হয়ে উঠতে। ছেলে মেয়ের বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে মা-বাবাও আড্ডা দিতে পারেন। এতে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে হৃদ্যতা পূর্ণ হবে। ফলে একে অন্যের সমস্যার সঠিক সমাধান করতে পারবেন।