ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুস্থ ধারা ফিরিয়ে আনতে হলে জাতীয় পার্টিকে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে দিতে হবে। সর্বদা পেছনে রিভলভার ঠেকিয়ে রাখবেন আর কখনো সোহাগ করবেন কখনো নিন্দা করবেন তাতে লাভটা কি? স্বাধীনভাবে রাজনীতি চর্চার সুযোগ না পেলে কোন দলই সুসংগঠিত হতে পারে না। জাতীয় পার্টি বাম দলগুলোর মত শেকড় বিহীন নয় বলেই আজো টিকে আছে। দলটি তৃনমূলে টিকে আছে যা একটি রাজনৈতিক দলের প্রাণ শক্তি। এ দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি এবং এলিট গোষ্ঠীর চরম বৈরিতা স্বত্বেও দলটি টিকে আছে এরশাদের একক জনপ্রিয়তায়।
জাতীয় পার্টিকে হটিয়ে আওয়ামীলীগ-বিএনপি যে গণতন্ত্র আর উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়েছিল তা তো এক দশকের মধ্যেই সর্বৈব মিথ্যা বলে প্রতিষ্ঠিত হল। দুটি দলকে শায়েস্তা করতে অথবা ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে তৃতীয় শক্তিকে মাঠে নামতে হল। আর তারা যে সফল তার সবথেকে বড় প্রমাণ আজকের বাংলাদেশ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে নতুন যে বাংলাদেশের জন্ম হল তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে চাই এ দেশের রাজনীতি থেকে ধ্বংসাত্মক এলিমেন্টের সমূলে বিনাশ। কাজটি যে এককভাবে কোন দলের পক্ষে সম্ভব নয় সেটা বলাই বাহুল্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্রই হল স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকে এক সূত্রে গেঁথে রাখা। এই সমন্বিত শক্তির জোরেই তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে বেশ কয়েকটি অসম্ভবকে সম্ভব করা। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি দেশের মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে যাচ্ছে বাম রাজনীতিও। তার পরেও কি এ দেশের রাজনীতি থেকে ধ্বংসাত্মক এলিমেন্টের সমূলে বিনাশ সম্ভব হয়েছে? হয় নি। এটা খুব তাড়াতাড়ি সম্ভব হবেও না। এর জন্যে প্রয়োজন আরও অনেকটা সময় ধরে এমনই ইস্পাত কঠিন ঐক্য ধরে রেখে এগিয়ে যাওয়া।

এ দেশের রাজনীতি থেকে যদি ধ্বংসাত্মক এলিমেন্টকে সমূলে বিনাশ করতে হয় তাহলে তা একা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে সম্ভব হবে না। বামের সাথে প্রয়োজন ডানেরও। আর সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি বা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিকল্প নেই। জাতীয় পার্টি যত ক্ষয়ে যাবে বিএনপি-জামায়াতের তত লাভ; আওয়ামীলীগের ঠিক ততটাই ক্ষতি। একই সাথে ক্ষতি দেশেরও।

কাজেই আওয়ামীলীগের থিংক ট্যাঙ্ককে জাতীয় পার্টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। রাজনীতিতে তাদের স্পেস দিতে হবে। জাতীয় পার্টি শক্তিশালী হলে আওয়ামীলীগ তথা দেশের রাজনীতির ইতিবাচক ঐক্যটিই শক্তিশালী হবে। রংপুরে জাতীয় পার্টির বিজয়ে বিএনপি হতাশ হবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আওয়ামী লীগের হতাশ হওয়ার কোন কারণ নেই।

যারা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে স্বৈরশাসক বলে নিন্দা করেন তারা বিএনপির জন্মটাকে ভুলে যান। বিএনপি যেমন স্বৈরতন্ত্রের গর্ভে জন্ম নিয়ে জাতে উঠতে গণতন্ত্রের পথে হেঁটেছিল এরশাদও সেটা চেয়েছিল। কুট রাজনীতি সেটা হতে দেয়নি। সম্ভবত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদই পৃথিবীর একমাত্র স্বৈরশাসক যিনি নয় বছর স্বৈরশাসন চালিয়েও গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে যুক্ত থাকতে সক্ষম হয়েছেন। সম্ভবত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি শত বাধা পেড়িয়েও গণতান্ত্রিক রাজ নৈতিক ধারায় সামিল থাকতে সক্ষম হয়েছেন। আর এটা সম্ভব হয়েছে এ দেশের গণতন্ত্রের বুলি আওড়ান স্বৈরতন্ত্রের কারণেই। সাধারণ মানুষ এরশাদ পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত এমনই এক গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলেছে যে, গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্রের মধ্যে তারা কোন পার্থক্যই খুঁজে পাচ্ছে না। সে অর্থে এখন জাতীয় পার্টিকে স্বৈর তান্ত্রিক বলার কোন যুক্তিই নেই।

আজকের বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে চলছে তাকে আরও বেগবান করতে সব থেকে বেশি প্রয়োজন সুস্থ রাজনীতির চর্চা। প্রয়োজন সংঘাত মুক্ত শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ। আর সেটা নিশ্চিত করতে হলে জাতীয় পার্টিকে স্পেস দিতে হবে। তাদের সুসংঘটিত হতে দিতে হবে। সুস্থ-স্বাভাবিক-স্বাধীনভাবে রাজনীতি চর্চার সুযোগ দিতে হবে।