ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে পারাটাও এক ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কখনো কখনো সেটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার থেকেও অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

একজন শক্তিমান মানুষ যখন প্রতিপক্ষের আক্রমণে চূড়ান্ত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, তিনি যদি তখন আক্রমণাত্মক রূপ পরিত্যাগ করে আত্নসমর্পনের রূপ ধারণ করেন তখন তার পরিচয়টি আর মুখ্য বিষয় থাকে না, সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রতি একটি বিশেষ অনুকম্পা তৈরি হয়। তারা তখন বিপর্যস্ত মানুষটিকে বাঁচাতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। এটা মানুষের স্বভাবজাত। এক্ষেত্রে বিপর্যস্ত মানুষটি যদি তার কৃতকর্মের জন্য চরম ধিক্কৃত একজনও হন, তথাপিও তার এই দুঃসময়ে সেসব কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের কাছে ধর্তব্যের মধ্যে থাকে না। তারা তখন তাকে কেবল একজন অসহায় মানুষ বলেই দেখে থাকে এবং তাকে রক্ষার চেষ্টা করে। যার ফলে প্রবল প্রতাপশালী মানুষটিও বিপর্যস্ত মানুষটির ঐ কৌশলের কাছে কখনো কখনো খুব সহজেই ধরাশায়ী হন। এর প্রমাণ আমরা যেমন ব্যক্তি জীবনে দেখতে পাই ঠিক তেমনি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও লক্ষ করি।

আমরা এক সময় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে দেখেছি আর এখন দেখছি বেগম জিয়াকে। তারা উভয়ই তাদের ক্রান্তিলগ্নে আক্রমণাত্মক না হয়ে আত্মসমর্পণের পথ বেছে নিয়েছেন। ভরসা সেই সাধারণ মানুষ। যার ইতিবাচক ফল কিন্তু হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ পেয়েছেন। সম্ভবত বেগম জিয়াও পাবেন। আওয়ামী লীগ কি বিষয়টা বুঝতে পারছে? যদি না বুঝতে পারে তাহলে তার ফল কি তাদের জন্য শুভ হবে? সম্ভবত না।

আওয়ামী লীগের উচিৎ তার প্রতিপক্ষ বিএনপিকে এমন জায়গায় ঠেলে না দেয়া, যা তাদেরকে নয় বরং বিএনপিকেই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। বেগম জিয়া এবং বিএনপি সম্পর্কে এ দেশের মানুষকে নতুন করে আর কিছু জানানোর নেই। তাদের সম্পর্কে সম্পূর্ণটা জেনে বুঝেই কেউ কেউ তাদের সমর্থন করে আবার কেউ কেউ করে না।

আওয়ামী লীগের এই যে- সব ছেরে কেবল বেগম জিয়া ও তার নেতাদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা- এটা যে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের লক্ষ্যে সে তো সবাই বোঝেন। সারা দিন মান ধরে একই ভাঙ্গা রেকর্ড বাজালে কি বেগম জিয়ার বা বিএনপির জনসমর্থন কমবে? মোটেই না। ওটা যতটুকু কমার তা আগেই কমেছে এখন উল্টো মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি বিরক্ত হবে এবং বিএনপির প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করবে, যা তাদের সমর্থনেরই নামান্তর।

আওয়ামী লীগের উচিৎ এখন বিএনপি থেকে নজর সরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাওয়া। দলটির নেতা মন্ত্রীরা তো ভেবে বসে আছেন তারা নিশ্চিত ক্ষমতায় আসছেন। যে কারণে তারা সাধারণ মানুষের ত্রিসীমানায়ও কেউ যান না। কে জানে আগামীকালটি কার?

দিন শেষে সাধারণ মানুষই যে সবথেকে বড় শক্তি তা আওয়ামী লীগেরই ভাল জানার কথা। তবে ইতিহাস বলে মানুষ নিজের পতনের পথ নিজেই তৈরি করে, আর তা সে জেনে শুনেই করে। একগুঁয়েমি আর আত্মঅহমিকা মানুষকে বাধ্য করে ক্রমাগত ভুল করে যেতে।