ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশ নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সব থেকে ভাল সময়টা পার করছে এখন। অথচ কাণ্ডারির দেখা নেই। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই এ দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের বিপরীতে আরেকটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান দেখতে চেয়েছে, যার পেছনে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুটি কারণই বিদ্যমান ছিল। ইতিবাচক কারণটি হল আওয়ামী লীগ যাতে তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হতে না পারে সে কারণে দলটির শুভাকাঙ্ক্ষীরা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সমান্তরাল আর একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করেছিল প্রথম থেকেই। আর নেতিবাচক কারণটি হল, নানা কারণে আওয়ামী লীগকে অপছন্দ করা একটি বড় অঙ্কের জনগোষ্ঠীর প্রথম থেকেই ঐকান্তিক চাওয়া ছিল আওয়ামী বিরোধী শক্তির উত্থান।

সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্ক্ষাই স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই জাসদকে সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। জাসদ সে সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে এক অস্বাভাবিক রূপ পরিগ্রহ করে সমস্যাটা জাসদই সৃষ্টি করেছিল। ফলাফল যা হল তা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে হারানো এবং আওয়ামী লীগের সর্বনাশ সাধন। সর্বোপরি দেশ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরে ফিরিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দেয়া। তাতে জাসদের কি লাভ হল? জাসদ নিজের কবর নিজেই রচনা করল। অন্যান্য বাম রাজনৈতিক শক্তিগুলো তো  অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে এবং সাধারণ মানুষের মনে আস্থাহীনতার কারণে কখনোই কোমড় সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে কোন রাজনৈতিক শূন্যতাতেই তারা পূর্ণতা এনে দিতে সক্ষম হয়নি। বোধ করি তেমন আত্মবিশ্বাসও এ দলগুলোর কখনো ছিল না। অন্তত তেমন কোন প্রমাণ আমরা কখনো দেখতে পাইনি।

আওয়ামী লীগ যেহেতু মাটি ও মানুষের দল এবং যেহেতু দলটির সাথে এ দেশের জন্মের সম্পর্ক, সেহেতু একদিন না একদিন দলটি পুনরায় তার ভিত্তি খুঁজে পাবে সেটাই স্বাভাবিক। আর হয়েছিলও তাই। যারা দলটির পুনর্জন্মকে অবাক বিস্ময়ে দেখেন তারা বাস্তবতাকেই দেখতে পান না।

বলছিলাম জাসদের কথা, তারা কেন মৃতবৎ হয়ে পরে রইল? কারণটি সহজ। আওয়ামী লীগের আদর্শের সাথে জাসদের তেমন কোন পার্থক্য ছিল না। ফলে দলটি কখনোই নতুন আশার সঞ্চার করতে পারেনি। উপরন্তু বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে তারা যে ভিন্নতা প্রদর্শন করতে চাইল তা দলটির জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছিল। সেটা জাসদ নেতারা বুঝতে পেরেই বার বার ভিন্ন ধারার জন্ম দিয়েছে, যা দলটিকে শতধা বিভক্ত করে আরও বেশি খেলো করে ফেলে।

জাসদ নেতাদের ব্যক্তি জীবনের সততা, নিষ্ঠা ও তাদের দেশপ্রেম নিয়ে এ দেশের মানুষের কখনোই কোন সন্দেহ ছিল না, আজো নেই। যে কারণে তারা প্রত্যেকেই কম বেশি শ্রদ্ধেয়। যদিও পঁচাত্তর-পূর্ব সময়ে অজস্র মুক্তিযোদ্ধার রক্তে তাদের অনেকের হাত রঞ্জিত হয়েছিল বলেও শোনা যায়। এই একটি অভিযোগের বাদ দিলে এ দেশের সৎ রাজনৈতিক নেতাদের তালিকায় সম্ভবত আওয়ামী লীগ-বিএনপির থেকে ঢের বেশি নাম যুক্ত হবে বাম রাজনৈতিক নেতাদের। মজার বিষয় হল তারপরেও তাদের প্রতি সাধারণ মানুষ কখনোই আস্থা রাখতে পারেনি। কারণ হিসেবে ধরে নেয়া যেতে পারে নেতৃত্ব সুলভ আচরণের ক্ষেত্রে তাদের দৈন্যতা, যার সাথে যোগ হয়েছিল ধর্ম সম্পর্কে তাদের ভূমিকার অস্পষ্টতা।

এ দেশের মানুষ গোঁড়া ধার্মিক নয় ঠিকই, কিন্তু ধর্মের প্রতি তাদের আনুগত্য প্রশ্নাতীত। কাজেই যাকে সমর্থন দেব ধর্ম সম্পর্কে তার নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বিষয়টি বাম নেতারা পূর্বে কখনো অনুধাবন করেছেন বলে মনে হয়নি। পূর্বে অনুধাবন করেন নি বলছি এই কারণে- এখন যে তারা বিষয়টি অনুধাবন করেছেন সেটা লক্ষণীয়। আমাদের দু-জন বামপন্থী নেতার হজ্জ গমন সেটা আরও বেশি স্পষ্ট করেছে। অনেকে হয়তো বলবেন, মানুষ যেকোন সময়ই তো হজ্জে গমন করতে পারেন। হ্যাঁ পারেন, কিন্তু যখন দু-জন প্রায় একই সময়ে এবং একটি সরকারের অংশ হয়ে কাজটি করেন তখন তো এ প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, এই ধর্মীয় আচার পালন কি বিশেষ কারো প্রেসক্রিপশন নাকি নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে? কারণ যাই হোক সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী ছিল সন্দেহ নেই। তবে এই একই কাজ তারা যদি আরও চল্লিশ বছর আগে করতেন তাহলে বামদের সম্পর্কে এ দেশের সাধারণ মানুষের ধারণা অন্যরকম হত। সম্ভবত তা বামদের জন্য একটি স্বপ্নের দুয়ারও খুলে দিত। কাজটি তারা ঠিকই করলেন তবে অনেক দেরীতে। আর তাতে তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেন ঠিকই, দলগত ভাবে নয়। তার কারণটি হল দুটি দলই এখন নিজেদের অস্তিত্বকে প্রায় বিলীন করে বসে আছে।

অতীত ইতিহাস বলে, এ দেশে যতই নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হোক না কেন বামদের কখনোই শক্তিশালী হতে দেখা যাবে না। বাম রাজনৈতিক শক্তির ব্যর্থতা আর আওয়ামী লীগের সর্বনাশের ফলে যে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছিল তার শতভাগ সুফল আদায় করে নিয়েছিল জিয়াউর রহমানের বিএনপি। বিএনপির বুলি সর্বস্ব জাতীয়তাবাদী আদর্শের আসলে কি কোন ভিত্তি আছে? কিংবা কোন কালে ছিল কি? ছিল না এবং আজও নেই। আওয়ামী লীগের বিরোধী শক্তিই দলটির একমাত্র পরিচয়। এই শক্তির অবস্থান তো স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশেও ছিল। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান অংশে ১৬২ আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন পেলেও ভোট পেয়েছিল ৭৪.৯ শতাংশ। বাকি পঁচিশ শতাংশ সমর্থন তখনো পায়নি। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে সে সংখ্যা আরও বেড়েছে। আওয়ামী বিরোধী শক্তিটি একদিনের জন্যও যে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকেনি তার সব থেকে বড় উদাহরণ পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালো অধ্যায়। সেখান থেকেই ঐ গোষ্ঠীটির প্রকাশ্য পথচলার শুরু। যারা প্রথমে ভর করেছিল বিএনপির ঘারে, পরে এক অংশ স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তিরূপে আবির্ভূত হল। আরেক অংশ থেকে গেল বিএনপির সাথে। এদের মধ্যে আদর্শগত কোন পার্থক্য কোন কালেই ছিল না। সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে দেখেছিল ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে, যা তাদের আরও বেশি সুযোগ করে দিয়েছিল। ২০০৪ সালের পটভূমি পরিবর্তনের পর থেকেই প্রতারণার সেই আবরণটুকু সরে যেতে থাকে। ফলে এরা এখন ইতিহাসের সব থেকে বাজে সময়ে উপনীত হয়েছে।

বাকি রইল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি। মূলত দলটি তৈরিই হয়েছিল নীতিহীন সুবিধাবাদী কিছু নেতার স্বার্থ রক্ষার্থে। রাতারাতি তারা এমপি-মন্ত্রী বনে গেলেন, কেউ কেউ হৃত সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করলেন। এরশাদ সাহেবও টিকে গেলেন। ইতিহাসে কোন স্বৈরশাসকের এভাবে গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাঠে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠার নজির নেই। জাতীয় পার্টি টিকে গেল এবং নজির সৃষ্টি করল। অবশ্য তারা নিজেরা এই নজির সৃষ্টিতে সক্ষম হয়েছে নাকি আওয়ামী লীগ-বিএনপি দলটিকে নিজেদের স্বার্থে উপরে না ফেলে বামন করে বাঁচিয়ে রাখার কৌশল অবলম্বন করে টিকিয়ে রাখল সেটা প্রশ্ন সাপেক্ষ। তবে দলটির একমাত্র শক্তি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। তার বাইরে দলটি প্রায় অস্তিত্বহীন- এটা জোর দিয়েই বলা যায়।

সাধারণ মানুষের আবেগ নিয়ে খেলতে পারার অসম্ভব এক ক্ষমতা ব্যক্তি এরশাদকে একটি অবস্থানে নিয়ে এসেছে ঠিকই, কিন্তু দলটির নেতাদের প্রতি সাধারণ মানুষের খুব একটা আগ্রহ কোন কালেই ছিল না। আবার এরশাদের প্রতি মানুষ যে আস্থা রাখবে সে সুযোগটিও আওয়ামী লীগ-বিএনপির কুট কৌশলের রাজনীতি হতে দেয়নি। ফলে এই দলটি যে কোন দিন এককভাবে নিজেদের শক্তিশালী বিরোধীদলের স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে সেটা ভাবারও কোন কারণ নেই। অতএব দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা আছে এবং তা বর্তমান রাজনৈতিক শক্তিগুলো পূরণে যে ব্যর্থ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আওয়ামী লীগ যদি কখনো আত্মহত্যার পথ বেছে না নেয়, অথবা অন্য কোন অসাংবিধানিক শক্তির অভ্যুদয় না ঘটে তাহলে খুব তাড়াতাড়ি যে আওয়ামী সাম্রাজ্যের পতন ঘটছে না তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। নামকাওয়াস্তে গণতন্ত্রের নামে দেশ চলবে একক রাজনৈতিক শক্তির হাত ধরে। সেটা কি দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে? ইতিহাস তা বলে না।

আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনার সততা-নিষ্ঠা-ঐকান্তিক প্রচেষ্টা সুস্পষ্ট। এ নিয়ে কারো দ্বিমত আছে বলে মনে হয় না, কিন্তু তার পরেও তো আমরা শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংকিং ব্যবস্থার শোচনীয় হাল, শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম নৈরাজ্য দেখতে পাচ্ছি। এসব আওয়ামী লীগের সুহৃদ এবং সাধারণ সমর্থকদেরও পীড়া দেয়। বিএনপির সময়ে আমরা যেমন দেখেছি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়া, আওয়ামী লীগের সময়ে শুনছি মধ্যম থেকে নীচু সারির নেতাদের নামে অসংখ্য অভিযোগের কথা। আওয়ামী লীগ তো তা দমন করতে পারছে না। দায়টা নিশ্চয়ই তারা এড়াতেও পারেন না!

এইসব অভিযোগ নিয়ে মানুষের মনে ক্রমশ পুঞ্জীভূত ক্ষোভ দানা বাঁধছে। মানুষ এর থেকে পরিত্রাণ চায়। ইদানিং আওয়ামী নেতৃবৃন্দ বিএনপির দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলছে না, তারা ২০০৮ সালের আগুন সন্ত্রাস নিয়ে বেশি কথা বলছে। তার কারণ কি দুর্নীতির প্রসঙ্গটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা? আওয়ামী লীগ জানে, এ দেশের মানুষ আক্ষরিক অর্থেই জঙ্গিবাদ মুক্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক শক্তিকেই ক্ষমতায় দেখতে চায়, আর সেক্ষেত্রে যে এই মুহূর্তে অন্তত আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই সেটাও তারা জানে। আর এ কারণেই দলটি নির্ভার। কিন্তু এই রাজনৈতিক শক্তির বন্ধ্যত্ব যে সহসাই ঘুচবে না সে গ্যারান্টি কে দিতে পারে? প্রকৃতি বেশিদিন শূণ্যতা রাখে না। প্রকৃতির আপন নিয়মেই এক সময় তা ঘুচে যায়।

এ দেশের বেশির ভাগ মানুষই এখন চায়, দেশে একাধিক মুক্তিযুদ্ধের স্ব-পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির উত্থান হোক। সে ক্ষেত্রে বিএনপির যেমন এখনো সুযোগ রয়েছে সব জড়তা ঝেরে ফেলে নিজেদের নতুন পরিচয়ে হাজির করার, তেমনি সুযোগ রয়েছে অন্য কোন নতুন শক্তির উত্থানের। তবেই বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের পথে হাঁটার সুযোগ পাবে। বেড়িয়ে আসতে পারবে পাকিস্তানি ধ্যান-ধারণা থেকে। সম্ভব হবে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা। একই সাথে জঙ্গিবাদ সহ সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটানো। সম্ভবত আওয়ামী লীগও চাইবে দেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা হোক।

প্রশ্ন হল সেই নতুন নেতৃত্ব কোথায়? তেমন নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন রাজনীতিবিদ আছেন, কিন্তু তারা সাহস করে এগিয়ে আসছেন না। যদিও বা আসছেন, দল বেধে এগোতে চাইছেন, যাতে তাদের আত্মবিশ্বাসের অভাবই ফুটে উঠছে। যদি তাদের মধ্যে কোন একজন অন্তত বড় দলের লেজুড়বৃত্তি ছেড়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে আসতেন তাহলে তারা ভাবতেও পারবেন না, কি বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের পেছনে গিয়ে দাঁড়াত! দুঃখের বিষয় হল এই নেতারা সামান্য বিনিময়ে বার বার বিক্রি হয়ে যান, আশাহত করেন কোটি মানুষকে। রাজনীতিবিদদের কাছে যদি ক্ষমতা প্রাপ্তিই হয় একমাত্র লক্ষ্য তাহলে তারা হয়ত কিছু সময়ের জন্য সামান্য ক্ষমতার স্বাদ লাভ করেন। তবে হারিয়ে ফেলেন একটি বিশাল সম্ভাবনা এবং কোটি মানুষের আস্থা, যা কোন কিছুতেই আর পুনরুদ্ধার করা যায় না।

আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের সামনে রাজনৈতিক নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে বঙ্গবন্ধু রয়েছেন। কি করে একটি মফস্বল শহর থেকে উঠে আসা একজন সাধারণ মানুষ একটা সময় দল-মত নির্বিশেষে গোটা দেশের মানুষের প্রাণের নেতা হয়ে উঠতে পারেন, কি করে সবাইকে একাট্টা করা যায়, কি করে বলতে গেলে খালি হাতে দানবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়- এসব তিনি দেখিয়ে গেছেন। তারপরেও কেন আমাদের নেতাদের দল ভারী করতে জোট গঠন করতে হয়? আপনি যখন একটি আদর্শের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পরবেন তখন সমমনা আর সকলেই আপনার আনুগত্য প্রকাশ করবে। জোর করে কিংবা প্রলোভন দেখিয়ে অথবা শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আপনাকে নানা আদর্শের মানুষকে নিয়ে জোট গঠন করতে হবে না। এতে বরং বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে। অভীষ্ট লক্ষ্যে  আপনি পৌঁছুতে পারবেন না, আর সাধারণ মানুষও আপনাকে সঠিক মূল্যায়নে ব্যর্থ হবে।

এটা কেন বুঝতে পারছেন না, যে ফ্রন্ট গঠন করেছেন সেখানে ডান-বাম-অতি ডান-অতি বাম মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। মানুষ কি করে আপনাদের আস্থায় নেবে? কি করে বুঝবে আপনাদের আদর্শ আসলে কোনটা, উদ্দেশ্যই বা কী? অতএব, দয়া করে ভাবুন, আত্মপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। ক্ষমতার জন্য রাজনীতি নয়, মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজনীতি শুরু করুন। সাধারণ মানুষ তাদের নিজেদের স্বার্থেই আপনাকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যাবে।

লেখার শুরুতেই বলেছি, বাংলাদেশ নতুন ধারার রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের সব থেকে ভাল সময়টা পার করছে এখন। অথচ কাণ্ডারির দেখা নেই। আবারও বলছি এটাই কাণ্ডারি হয়ে ওঠার উপযুক্ত সময়। সাধারণ মানুষ বরণ ডালা হাতে অপেক্ষা করছে। আপনাদের যে কেউ চাইলেই সে সুযোগটি গ্রহণ করতে পারেন।