ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

গত ২৯ এপ্রিল  আরটিভি অনলাইনে  “ফুটকা’ এখন নারায়ণগঞ্জের আতঙ্ক” শিরোনামে একটি পিলে চমকানো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


(আরটিভি অনলাইনের প্রতিবেদনে ফুটকা পদ্ধতির এই ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে।)

ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বাসিন্দারা বৈধ উপায়ে গ্যাস সংযোগ না পেয়ে বেলুনে গ্যাস সংগ্রহ করে রাখছেন। দিনের বেলায় বৈধ সংযোগে গ্যাসের চাপ না থাকায় বেলুন আকৃতির বিশেষ পলিথিনে গ্যাস সংগ্রহ করে রাখেন তারা। পরে অল্প অল্প করে চাহিদা অনুযায়ি তা ব্যবহার করেন। যাকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছে ‘ফুটকা’ পদ্ধতি।

এ পদ্ধতিটি যেন বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে রাখার মত,  যা পরে ইচ্ছেমত ব্যবহার করা যায়। এ নিয়েই কয়েকটি কথা।

প্রথমত, এই পদ্ধতিটি অবৈধ। দ্বিতীয়ত, এভাবে গ্যাস সংগ্রহ করে রাখা  ঝুঁকিপূর্ণও। যারা কাজটি করছেন তারা তো গোটা এলাকাটিকেই একটা গ্যাস চেম্বার বানিয়ে ফেলছেন। যারা কাজটি করছেন তারা কি নিজেদের এবং পরিবারের নিরাপত্তার দিকটিও মাথায় রাখছেন না? যে কোনো ধরনের সামান্য অগ্নিকাণ্ড এই ফুটকার সংস্পর্শে এলে হবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।
আমরা গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণের খবর পাই মাঝে মাঝেই। ওই সব খবরে আমরা দেখেছি এমন প্রতিটি দুর্ঘটনা কী ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

‘ফুটকা’ ব্যবহারকারীরা  গোটা এলাকাটিকে ভয়ংকর ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। এটা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বন্ধ করা উচিৎ।

ঐ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, “অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে অবৈধ এ সংযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি চালু আছে।”

এ বিষয়টি সাধারণভাবেই বোঝা যায়, এমন একটি দুঃসাহসিক কাজ সাধারণের পক্ষে করা সম্ভব নয়। কাজেই যারা এর সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অনতিবিলম্বে ঐ সব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ এবং গ্যাস সংগ্রহের এই ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতি বন্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে আশা করি।