ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ইলিয়াস আলীরা গুম হবেন কিংবা নিহত হবেন। হতেই হবে। কেন? কারন যদি তারা নিহত বা গুম না হন সরকারের ভাষায় আন্দোলন দানা বাঁধবে না। অর্থাৎ সরকার বলছে বিরোধীরা আন্দোলনের সুবিদার্থে নিজেরাই নিজেদের লোক অপহরণ করছে যাতে আন্দোলন দানা বাধে। বিরোধীদের ভাষায় ইতিহাসের চাকা ইউটার্ন করবেনা অর্থাৎ সরকার তাদের বিরোধীদের দমন করার উদ্দেশ্যে এসব করছে যাতে চলমান স্রোত উল্টোদিকে ধাবিত না হয়। তার মানে হল এটা অবশ্যম্ভাবী। এভাবেই কিছু কিছু সময়ের দাবীতে, কাউকে না কাউকে হারিয়ে যেতে হবে। এটাই ভবিতব্য? কিভাবে হারায়? আর এর কুশীলবই বা কারা? এর উত্তরও ভবিষ্যতের জঠরে বন্দী। এটা তো নিশ্চিত করে আমরা বলতেই পারি এটা আর দশটা সাধারন ঘটনার মত নয়। আর নয় বলেই প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমরা সাধারনরা পর্যন্ত এটা নিয়ে কথা বলছি। পার্থক্যটা হল প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গী ভিন্ন। আমরা সবাই নিজ নিজ স্বার্থ মাথায় রেখেই কথা বলছি। সরকার বিরোধীরা চেষ্টা করবেন এ ঘটনাকে অবলম্বন করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে। বিরোধীরা যেন কোন সুযোগ নিতে না পারে সরকার সে চেষ্টা করবে। আর আমরা এই ধরনের পরিস্থিতির হাত থেকে রেহাই পেতেই এর বিপক্ষে অবস্থান নেই। প্রশ্নটা হল তাহলে মানবতার অবস্থান কোথায়? আসলে স্বার্থান্ধতা আজ আমাদের এমন এক অবস্থানে এনে দার করিয়েছে যে, আমরা একে বাদ দিয়ে কিংবা অন্যের স্বার্থকে নিয়ে ভাবতেই ভুলে গেছি। আমরা ভুলে যাই ইলিয়াস আলীরাও কারো বাবা, কারো স্বামী, কারো পিতা, কারো পুত্র। তারা নিছক একজন রাজনীতিবীদ নন বা দাবার গুটিও নন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন মা-বাবা, ভাইদের হারানোর যন্ত্রনা বোঝেন তেমনি বিরোধীদলীয় নেত্রীও জানেন প্রিয়জন হারানোর যন্ত্রনা কতটা বিধুর। আর সাধারন জনগন তো নিত্যই এর স্বাদ পান। এরপরেও কেন এই পরিস্থিতিগুলো এড়ানো যাচ্ছে না। তার কারন কি এই যে, আমরা কেউই নিজের মধ্যে ধারন করতে পারিনা অন্যকে ? আমরা ভুলে গেছি সত্য কথা বলতে, অন্যকে নিয়ে ভাবতে। বা আমরা ভয়াবহ স্বার্থান্ধ হয়ে গেছি। যা ক্রমশঃ আমাদের টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক হিংস্র সমাজব্যবস্থার দিকে। যার থেকে রেহাই মিলবে না কারোরই।