ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

“ছাত্রদলকর্মীকে থানায় চোখ বেঁধে ঝুলিয়ে লাঠিপেটা!”
“এমপি হোস্টেলে নারীর গলিত লাশ”
“অনুসন্ধান সাতক্ষীরা
‘পুলিশ দেখছিল’ ”
“নর্দায় বাসে আগুন”

বুঝতেই পারছেন উপরে আজকের বিডিনিউজ ২৪-এর কিছু সংবাদ শিরোনাম। একটু খেয়াল করে দেখবেন প্রতিটি ঘটনার পেছনে যে হোতারা কাজ করেছেন। তারা অশিক্ষিত বা অপ্রকৃতিস্থ নন। আর এই শিরোনামগুলো এখন প্রায় নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখন আর আমাদের এগুলি নাড়া দেয় না।

চলন্ত গাড়ী থামিয়ে তাতে ভাংচুর, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা, হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়া দেখা, না ফেরার গল্প শোনা, ভুক্তভোগীর আক্ষেপে বাতাস ভারী হওয়া দেখা, অদৃশ্য উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাওয়া্র স্বপ্নে বিভোর থাকা আর শৈশব মিথ্যা প্রতিশ্রুতিকে পুঁজি করে এখন নিকষ আধারে আমাদের পথ চলা।

কিন্ত এভাবে আর কতদিন? আমাদের সমাজে, আমাদের মননে যে পচন ধরেছে তার উৎকট গন্ধ বেরুচ্ছে। নাকে মাস্ক পড়ে বা উন্নাসিক হয়ে থেকেই কি তার থেকে মুক্তি মিলবে? মিলবে না। আমাদের প্রতিটি পরিবারের মধ্য থেকে শুদ্ধি অভিযান চালানো উচিৎ। নৈতিক অবক্ষয় আজ বাধ্য করছে আইন করতে, যাতে সন্তান তার মা-বাবার ভরন পোষণের দায়িত্ব নিতে বাধ্য হয়। মা-বাবা কি শুধু খেয়ে পড়েই বাঁচতে চাঁন, না তার থেকে বেশি সন্তানের সাহচর্য চাঁন। আর সেটা কি আইন করে নিশ্চিত করা সম্ভব? যারা তার মা-বাবাকে তিল তিল করে মারতে পারে তাদের কাছে অন্যের জীবনের মুল্য থাকার কথাও নয়। সন্তান কি করে, কোথায় যায়। মা বাবা যদি শুরুতেই তা না খেয়াল রাখেন পরে শত চেষ্টাতেও তাকে ফেরাতে পারবেন না। সে তখন হয়ে যায় ক্যাডার। টাকা আর ক্ষমতা তাকে মোহাবিষ্ট করে রাখে। খেয়াল করে দেখবেন তাদের আবার পৃষ্ঠপোষক রয়েছেন তারাও কিন্ত অপ্রকৃতস্থ বা বোধ বুদ্ধি হীন নন। তাহলে গলদটা কোথায়? গলদ যদি কিছু থেকে থাকে তা আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায়। আসলে আমরা শিক্ষিত হচ্ছি না, সনদধারী হচ্ছি। কখনো কখনো কোনটাই হচ্ছি না।

আমরা বলি পৈশাচিক। এটা মনে হয় যৌক্তিক বিশেষণ হচ্ছে না। কারন কোন পশুই অনাহুত আক্রমন করে না। মানুষই পারে অনাহুত জীবন্ত দগ্ধ করে মারতে। একমাত্র মানুষই পারে এদেরকে উৎসাহ যোগাতে। কারন মানুষই আশরাফুল মাখলুকাত।